পাঁচ চাঁদাবাজকে আটকের জের, মালিক-শ্রমিকদের অঘোষিত ধর্মঘটে দুর্ভোগে যাত্রীরা
-
আপডেট সময় :
বৃহস্পতিবার, ৭ অক্টোবর, ২০২১
-
৪৭৯
০ বার সংবাদটি পড়া হয়েছে
এম মনির চৌধুরী রানাঃ
চট্টগ্রাম মহানগরীতে ৫ চাঁদাবাজকে আটকে জেরে, পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের অঘোষিত ধর্মঘটের ফলে যাত্রীদের চরম জনদুর্ভোগ পড়তে হয়েছে।
নগরীর অলংকার মোড়ে গাড়ি থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগে পরিবহন শ্রমিক ও মালিক সমিতির ৫ চাঁদাবাজকে আটকের প্রতিবাদে অঘোষিত পরিবহন ধর্মঘট পালন করছে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা।
আজ(৭ অক্টোবর) বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই সড়কগুলোতে উধাও হয়ে যায় সব ধরনের গণপরিবহন। হঠাৎ এ অঘোষিত ধর্মঘটের কারণে অফিসমুখী যাত্রীরা ব্যাপক দুর্ভোগে পড়েন।
এর আগে গতকাল ৬ অক্টোবর বুধবার দুপুরে অলংকার মোড় থেকে লুসাই বাস মালিক সমিতির লাইনম্যান মোহাম্মদ আরিফ, চট্টলা (মেট্রো) বাসমালিক সমিতির লাইনম্যান নারায়ন ও ওয়াহিদ, চট্টগ্রাম জেলা বাস-মিনিবাস হিউম্যানহলার মালিক মালিক সমিতির লাইনম্যান সিদ্দিক হোসেন চৌধুরী ও মোহাম্মদ আজাদকে সাদা পোশাকে তুলে নিয়ে যায় র্যাব। পরে রাতে তাদের চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে পাহাড়তলী থানায় হস্তান্তর করে।
র্যাবের দাবি জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা স্বীকার করেছে, দীর্ঘদিন ধরে তারা অবৈধভাবে কাভার্ডভ্যান, মালবাহী ট্রাকসহ অন্যান্য পরিবহনের চালকের কাছ থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করে আসছে। তাদের দেহ তল্লাশি করে চাঁদা আদায়ের নগদ ২১ হাজার ৮২০ টাকা জব্দ করা হয়।এঘটনার পরপরই রাতে চট্টগ্রাম সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের ২ অংশ, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পরিবহন মালিক গ্রুপের বিভক্ত ২ অংশ এবং সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন যৌথভাবে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৬ টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগরে সকল প্রকার বাস-মিনিবাস, হিউম্যান হলার এবং অটোটেম্পু ধর্মঘট/কর্মবিরতি পালন করার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই অনুযায়ী অঘোষিত এ পরিবহন ধর্মঘট চলছে নগরের সড়কজুড়ে। এছাড়া বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টার দিকে স্টেশন রোডের মোটেল সৈকতে সকল মালিক শ্রমিক নেতৃবৃন্দ পরবর্তী করনীয় ঠিক করতে যৌথসভা আহ্বান করেছে।
এদিকে গণপরিবহন না থাকার সুযোগে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে রিকশাচালকেরা। এ নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় রিকশাচালকদের সঙ্গে যাত্রীরা বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়তে দেখা গেছে। অনেকে আবার কাছের গন্তব্যগুলো পায়ে হেঁটেও যেতে দেখা গেছে।
যদিও চট্টগ্রাম জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব মনজুরুল আলম মঞ্জু বলেছেন, ‘ট্রাফিক পুলিশসহ প্রশাসনের লোকজন বিভিন্নভাবে নির্যাতন চালাচ্ছে। কোনও কারণ ছাড়াই মামলা দেওয়া হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে গাড়ি বন্ধ রেখেছি।
যদিও র্যাব ৭ এর সিইও এম ইউসুফ বলেছেন, পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।৫ চাঁদাবাজকে গ্রেপ্তারের জেরে যারা পরিবহন সড়ক থেকে কমিয়ে দিয়েছে তাদের বিষয়েও খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।
নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
Leave a Reply