দেশের গ্রাম পর্যায়ে আগামী ৭ আগস্ট থেকে গণহারে করোনার টিকাদান কর্মসূচি শুরুর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে প্রস্তুতি কার্যক্রম চলছে। কিন্তু রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য ও হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর গ্রামের বাড়ির পাশে অবৈধভাবে সিনোফার্মের টিকা দেওয়া শুরু হয়ে গেছে।
বিভাগ, জেলা ও উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের অনুমতি ছাড়াই গত ২ দিন ধরে এই টিকাদান কার্যক্রম চলছে। আর এই টিকাদান কার্যক্রম হুইপ সামশুল সশরীরে পরিদর্শনও করেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টেকনেশিয়ান রবিউল হোসেন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এমন কর্মকাণ্ড চালিয়েছেন। যিনি ২ দিনে প্রায় ৪ হাজার মানুষকে অর্থের বিনিময়ে টিকা দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
যদিও রবিউলের দাবি ২ হাজার মানুষকে মানবিকতায় তিনি টিকা দিয়েছেন। অথচ ২ দিনের ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হলে ও অনুমতিতো থাক দূরের কথা ভ্যাকসিন খরচের হিসেবও জানে না স্বাস্থ্য বিভাগ। যা নিয়ে ইতোমধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে স্বাস্থ্য বিভাগের ভেতরেই।
রবিউল হোসেন বলেন, ছাত্রলীগের সহযোগিতায় ক্যাম্পেইনটি পালন করা হয়েছে। সেখানে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ব্যানার ছিল। ২ দিনে ২ হাজার মানুষকে টিকা দেয়া হয়েছে। এমপি সাহেবও বলেছেন ভ্যাকসিন দেয়ার জন্য। তাই ব্যবস্থা করেছি। তবে রেজিস্ট্রেশন ছাড়া কোন টিকা দেয়া হয়নি।
এদিকে বিষয়টি তদন্তে গতকাল শনিবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালকের (স্বাস্থ্য) কার্যালয় থেকে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সভাপতি চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের অর্থোপেডিক সার্জারির সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. অজয় দাশ।
অন্য দুই সদস্য হলেন সদস্যসচিব চট্টগ্রাম জেলার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আসিফ খান এবং একই কার্যালয়ের মেডিক্যাল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. মো. নুরুল হায়দার।
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, কাউকে না জানিয়ে কেউ টিকা দিতে পারে না। সরকারি সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ করোনার টিকা দিয়ে থাকলে তা ঠিক হয়নি। তদন্তে আসল বিষয় উঠে আসবে।
অভিযোগ উঠেছে, হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর অনুগত মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (ইপিআই) মো. রবিউল হোসেনসহ কয়েকজন স্বাস্থ্য সহকারী প্রশাসনের কারো অনুমতি না নিয়ে রাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে এই টিকাদান কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছেন।
সরকারিভাবে শুক্রবার সাপ্তাহিক বন্ধের দিন টিকা দেওয়া হয় না। তবে গত শুক্রবার সামশুল হক চৌধুরীর বাড়ি থেকে কয়েকশ গজ দূরে শোভনদণ্ডী ইউনিয়নের রশিদাবাদ গ্রামে করোনা টিকা প্রদান কার্যক্রম শুরু করেন তাঁরা।
শুক্রবার রশিদাবাদ কমিউনিটি সেন্টারে এবং গতকাল শোভনদণ্ডী উচ্চ বিদ্যালয় ও শোভনদণ্ডী ডিগ্রি কলেজে সিনোফার্মের টিকা দেওয়া হয়। হুইপ সামশুল এদিন ওই কেন্দ্রে টিকাদান কার্যক্রম সশরীরে পরিদর্শন করেন।
এভাবে গত ২ দিনে এখানে আড়াই থেকে ৩ হাজার লোককে করোনা টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে।
পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সব্যসাচী নাথ এ ব্যাপারে বলেন, হুইপ মহোদয় কিংবা সিভিল সার্জন মহোদয়ের লিখিত কোনো অনুমতি ছিল না এই টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে। সেহেতু আমি জানি না। আমাকে কেউ এ বিষয়ে বলেনি।
টিকাগুলো আমাকে না জানিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে কে বা কারা নিয়ে গেছে। আজ (শনিবার) সিভিল সার্জন মহোদয়ের নির্দেশনা পেয়ে আমি শোভনদণ্ডীতে গিয়ে দেখেছি যে সেখানে টিকা দেওয়া হচ্ছে।
জানা গেছে, পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিনোফার্মের প্রথম ডোজ টিকা প্রদান শুরু হয়েছে গত ২০ জুন। গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৭ হাজার ৭৬৯ জন ১ম ডোজ নিয়েছেন বলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়।
গতকাল টিকা নিয়েছেন ৩ হাজার ২৬০ জন। এ নিয়ে গতকাল পর্যন্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রথম ডোজের টিকা মজুদ রয়েছে ৪ হাজার ৭৫০টি। কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের না জানিয়ে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে এমপির বাড়ির পাশে কমিউনিটি সেন্টার ও স্কুল কলেজে বুথ বানিয়ে কোনো হিসাব নিকাশ না করে যথেচ্ছ টিকা দেওয়ায় উপজেলায় টিকার মজুদ ক্রমেই ফুরিয়ে আসছে। এতে উপজেলায় টিকার জন্য যাঁরা রেজিস্ট্রেশন করেছেন তাদের ওই টিকা পাওয়া নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।Design & Development : It Corner BD.Com 01711073884.
Leave a Reply