মেহেন্দিগঞ্জ টাইমস নিউজ ডেস্ক//
বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে স্বামীর নির্যাতনে বিচ্ছেদ হওয়া এক নারীকে নিয়ে ‘বিয়ে বাণিজ্য ও চার বিয়ে’র মতো আপত্তিকর ও মিথ্যা কন্টেন্ট প্রচারের অভিযোগ উঠেছে ‘Deshjonota – দেশজনতা’ নামের একটি ফেসবুক পেজের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, এই অপপ্রচারের নেপথ্যে রয়েছেন বিচ্ছেদ হওয়া স্বামী পক্ষের ভাগিনা ইয়াছির আরাফাত।
ভুক্তভোগী লাইজু বেগম, হিজলা উপজেলার ধুলখোলা ইউনিয়নের পালপাড়া গ্রামের মৃত শামসুল হক গাজীর মেয়ে।
মেহেন্দিগঞ্জের উত্তর উলানিয়া ইউনিয়নের হাসানপুর গ্রামের মোঃ ছালাউদ্দিন হাওলাদারের ছেলে হুমায়ূন কবিরের সাথে গত ২৬/০৩/২০২৬ ইং তারিখে ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক বিয়ে হয়।
উত্তর উলানিয়া ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার মোঃ মাজহারুল ইসলাম বিয়ে পড়ান। কাবিনে দেনমোহর ধরা হয় ১ লক্ষ টাকা।
পারিবারিক কলহের জেরে গত ২৭/০৯/২০২৬ ইং তারিখে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সাবেক ইউপি সদস্য কামাল উদ্দিন এবং বর্তমান ইউপি সদস্য আবদুর রব ঢালীর উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে তাদের বিচ্ছেদ হয়। সালিশে ৭০ হাজার টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করা হয়, যা সেদিনই পরিশোধ করা হয়।
অভিযোগ উঠেছে, বিচ্ছেদের দিন সালিশ বৈঠকের ভিডিও গোপনে ধারণ করেন বরের ভাগিনা ইয়াছির আরাফাত, পিতা মোঃ হাবিবুর রহমান, স্থায়ী ঠিকানা হাসানপুর, মেহেন্দিগঞ্জ, বর্তমানে ডেমরা, ঢাকায় বসবাসরত। পরবর্তীতে তিনি তার মামার সাক্ষাৎকার নিয়ে ‘Deshjonota – দেশজনতা’ নামের পেজ থেকে “বিয়ের নামে প্রতারণা, মেহেন্দিগঞ্জে চার বিয়ে ও কাবিন বাণিজ্যের চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস!” শিরোনামে ভুয়া ভিডিও প্রতিবেদন প্রচার করেন, যেখানে লাইজু বেগমকে বিয়ে ব্যবসায়ী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।
ভুক্তভোগীর ভাই মোঃ জাকির হোসেন গাজী বলেন, “আমার বোনকে নিয়ে যে চার বিয়ে ও কাবিন বাণিজ্যের কথা বলা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমার বোনের মানহানি করতেই এই ভিডিও করা হয়েছে।”
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, দেশজনতা পেজের অ্যাডমিনের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর যাচাই করে দেখা যায় সেটি ইয়াছির আরাফাতের পিতা মোঃ হাবিবুর রহমানের নামে রেজিস্ট্রেশন করা।
এছাড়া অনুসন্ধানে জানা যায়, ‘দেশজনতা’ নামের এই পোর্টালটির কোনো সরকারি নিবন্ধন নেই। ইতিপূর্বে একই পেজ থেকে একাধিক সিনিয়র সাংবাদিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো সাক্ষাৎকার ছাড়াই মনগড়া, ভিত্তিহীন ও চরিত্রহননমূলক কন্টেন্ট প্রচার করে ভিউ ব্যবসা করা হয়েছে। এ ঘটনায় মেহেন্দিগঞ্জ থানায় ইতোমধ্যে ৫ জন ভুক্তভোগী ৫টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রের সাথে আরও ৫-৬ জন মুখোশধারী জড়িত।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়েরের দাবি জানিয়েছেন।
Leave a Reply