ফরিদ শিকদার// বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বরাদ্দকৃত চাল নিয়ে একাধিক জাতীয় পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান ও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দুটি পূজা মণ্ডপের নেতৃবৃন্দ।
শনিবার রাতে পৃথকভাবে সংবাদ সম্মেলন করে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন *শ্রী শ্রী মদনমোহন সেবাশ্রম* এবং *শ্রী শ্রী কালাচাঁদ ঠাকুর মন্দির* পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতিদ্বয়।
সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, প্রকাশিত সংবাদে তাদের বক্তব্য হিসেবে যা উল্লেখ করা হয়েছে, সে বিষয়ে তাদের ভিন্নমত রয়েছে। তাদের দাবি, তারা সংশ্লিষ্ট কোনো সংবাদ মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক কোনো সাক্ষাৎকার দেননি এবং চাল উত্তোলন বা অর্থ গ্রহণের দায়িত্বেও তারা সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন না।
মদনমোহন সেবাশ্রমের সভাপতি মাস্টার সুমিত কুমার দাস বলেন, “আমি মন্দিরের সভাপতির দায়িত্বে আছি, তবে চাল উত্তোলন বা টাকা গ্রহণের বিষয়টি আমার দায়িত্বের মধ্যে ছিল না। কত টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে, সে বিষয়েও আমি খোঁজ নিতে যাইনি। তাই আমার নামে প্রকাশিত বক্তব্যের বিষয়ে আমার আপত্তি রয়েছে।
কালাচাঁদ ঠাকুর মন্দিরের সভাপতি সঞ্জীব পাল বলেন, আমাকে ফোন করে চাল পেয়েছি কিনা জানতে চাওয়া হয়েছিল। আমি যে তথ্য দিয়েছি, তা ভিন্নভাবে উপস্থাপিত হয়েছে বলে মনে হয়েছে। এছাড়া অন্য ব্যক্তিদের নাম জড়িয়ে যে কথা বলা হয়েছে, সে বিষয়েও আমাদের আপত্তি রয়েছে।
তারা উভয়েই জানান, এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসুক, এমনটাই তাদের প্রত্যাশা।
এসময় তারা আরও বলেন, এবারের দুর্গাপূজায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান তাদের মন্দিরে এযাবৎকালের সর্বোচ্চ অনুদান দিয়েছেন। তিনি মন্দির পরিদর্শন করেছেন এবং শাড়ি-কাপড় বিতরণসহ বিভিন্ন সহায়তা করেছেন। তার এই সহযোগিতার জন্য তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতেও তার সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
তাদের মতে, একটি মহল ভুল বোঝাবুঝি তৈরির উদ্দেশ্যে অপপ্রচার চালানোর চেষ্টা করছে। এ ধরনের সংবাদে স্থানীয় সম্প্রীতি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে দুই মন্দির কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তারা বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান।
Leave a Reply