চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার শাকপুরা ইউনিয়ন ও সারোয়াতলী ইউনিয়ন উপর দিয়ে শাকপুরা থেকে দাশের দিঘী পর্যন্ত সড়কটি ছোটবড় খানা খন্দকে ভরা। পাকা সড়কের কোথাও কোথাও সরে গেছে পিচ-সুরকি, সৃষ্টি হয়েছে ছোট বড় অনেক গর্ত। ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়ত চলাচল করছেন লক্ষাধিক মানুষ । বৃষ্টি হলেই বেড়ে যাচ্ছে দুর্ভোগের চেয়ে আরো চরম দুভোর্গ মাত্রা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের ওপর জমে থাকা পানিতে বোঝার উপায় নেই ছোট বড় কোন গর্তের গভীরতা কত। সড়কটি দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে নানা সমস্যায় পড়ছেন পথচারী ওযানবাহন । যানবাহনের পাশ দিয়ে চলতে গিয়ে গর্তের পানি ছিটকে গিয়ে নষ্ট হচ্ছে কাপড় ছোপড়। অন্যদিকে রাস্তা খারাপ হওয়ায় অতিরিক্ত ভাড়া দিলে ও যানবাহন যেতে চায় না। ছোটখাটো যানবাহন উল্টে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে অহরহ।
সুত্রে জানা যায়, প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে ৪নং শাকপুরা ইউনিয়ন, ৫নং সারোয়াতলী ইউনিয়ন, বেঙ্গুরা, পূর্ব খিতাপচর, পশ্চিম খিতাব চর,সারোয়াতলী, লালরহাট,আমতল, ইমামুল্লার চর,কর্নজুরী, ও দাশের দিঘী,আহল্লার দরবার শরীর, সাধারপাড়া, এলাকার প্রায় লক্ষাধিক মানুষ চট্টগ্রাম জেলা শহরে ও উপজেলা সদরে বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত করে।
জেলা শহরের সঙ্গে সংযোগের ক্ষেত্রে সড়কটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সংস্কারের অভাবে সড়কের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য ছোট বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ভাঙা ও খানাখন্দকে ভরা সড়ক দিয়ে রিকশা, ভ্যান, সিএনজি, বাস ও ট্রাক চালকরা ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।
প্রতিদিনই ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনা। সড়কের বেহাল দশার কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয়রা। তবে এ অবস্থাতেও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর, এলজিইডি ও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান উদাসীন বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা।
তাদের অভিযোগ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের দায়সারা দায়িত্ব পালন ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের কারণে কাজ হচ্ছে না। বর্তমানে সড়কটিতে পায়ে হেঁটে চলাও প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
শাকপুরা এলাকার আমৃতলার বাসিন্দা কপিল উদ্দিন বলেন, সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে বাড়ি থেকে উপজেলা সদর এবং জেলা সদরে যাতায়াতে সময় ও ভাড়া দুটোই বেশি গুনতে হচ্ছে।
দাশেরদীঘির পাড়ের পল্লী চিকিৎসা আজিজুল হক বলেন, আমরা সবসময় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছি। সড়কটিতে এত বেশি গর্ত যে যানবাহন যাতায়াতের সময় শরীরের কাঁদা পানি ছিটকে দেয়। কাপড় চোপড় ভিজে নোংরা হয়ে যায়। সড়কটি দিয়ে মোটরসাইকেল চালানো কঠিন। বৃষ্টি হলে সড়কটি বিপজ্জনক হয়ে উঠে। কোথায় গর্ত, কোথায় কাঁদা কোনোটাই বোঝা যায় না। কোনো কোনো গর্ত এক হাতের বেশি গভীর।
৪নং শাকপুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবদুল মান্নান (মোনাফ) বলেন, শাকপুরা-দাশের দিঘী সড়কের অবস্থা বেহাল। ওয়াসার কাজ চলমান থাকার কারণে সড়কটি এই অবস্থা।
তিনি বলেন, আমি যতটুকু জানি ওয়াসার কাজ শেষ হলে সড়কটি তারা করে দেবে। এটি ডিসি রোড, আমাদের করার কিছু নেই।
৫নং সারোয়াতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন বলেন, শাকপুরা-দাশের দিঘী সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে গেছে। ওয়াসার কারণে সড়কটির বেহাল দশা। বর্তমানে ৮ লক্ষ টাকা দিয়ে সুরকি, ইট ও বালু দিয়ে কোন রকম গর্তগুলো ভরাট করে চলাচলের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।Design & Development : It Corner BD.Com 01711073884.
Leave a Reply