
ইউসুফ আলী সৈকত//
জ্বালানি সংকটকে পুঁজি করে ডিজেল ১৪০ টাকা আর পেট্রোল ২৭০ টাকা লিটার দরে বিক্রি করছিলেন তিনি। শেষ রক্ষা হলো না। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মেহেন্দিগঞ্জে এক মুদি দোকানিকে আটক করেছে প্রশাসন। আত্মীয়ের বাড়ির আঙিনা থেকে উদ্ধার হয়েছে ৩ ব্যারেল ডিজেলসহ ৬৬০ লিটার তেল। ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকালে চানপুর ইউনিয়নের খন্তাখালী এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিয়াজুর রহমান। সঙ্গে ছিলেন মেহেন্দিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
গোয়েন্দা তথ্য ছিল, খন্তাখালীর মুদি দোকানদার আ. রশিদ আকন দীর্ঘদিন ধরে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি দামে ডিজেল-পেট্রোল বিক্রি করছেন। তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে বিকালে সেখানে হানা দেয় প্রশাসন।
অভিযানের শুরুতেই আটক করা হয় আ. রশিদ আকনকে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন, জব্দের ভয়ে দোকানে তেল না রেখে পাশের এক আত্মীয়ের বাড়ির আঙিনায় লুকিয়ে রেখেছেন।
তার দেখানো মতে ওই বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ৩টি ব্যারেল ভর্তি ৬০০ লিটার ডিজেল এবং আলাদা পাত্রে রাখা আরও ৬০ লিটার পেট্রোল জব্দ করা হয়। মোট ৬৬০ লিটার জ্বালানি তেল!
স্থানীয় কৃষক ও অটোচালকরা জানান, দেশে জ্বালানি সংকটের খবর ছড়ানোর পর থেকেই রশিদ আকন সুযোগ নেওয়া শুরু করেন। বাজারে ডিজেলের সরকারি দাম ১০৯ টাকা হলেও তিনি বিক্রি করতেন ১৪০ টাকায়। আর ১২৫ টাকার পেট্রোল বেচতেন ২৭০ টাকায়। বাধ্য হয়ে বেশি দামেই কিনতে হতো তাদের।
বিকাল ৫টার দিকে ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত বসান ইউএনও মো. রিয়াজুর রহমান। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আসামির স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর ৪০ ধারায় আ. রশিদ আকনকে ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন তিনি। অনাদায়ে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশও দেওয়া হয়।
পরে দণ্ডিত রশিদ আকন নগদ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা পরিশোধ করে মুক্তি পান। জব্দকৃত ৬৬০ লিটার তেল সরকারি হেফাজতে নিয়েছে প্রশাসন।
অভিযান শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রিয়াজুর রহমান বলেন, “জ্বালানি তেল নিয়ে কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরি করে জনগণকে জিম্মি করবে, তা হতে দেওয়া হবে না। যারা অবৈধভাবে তেল মজুত করবেন এবং অতিরিক্ত দামে বিক্রি করবেন, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স। এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তিনি সাধারণ মানুষকে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম চাইলে ৩৩৩ নম্বরে কল করে অথবা সরাসরি উপজেলা প্রশাসনকে জানানোর অনুরোধ করেন।
Leave a Reply