সংসদে প্রধানমন্ত্রী, দেশে টিকা উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে সংসদ প্রতিবেদক
আপডেট সময় :
বৃহস্পতিবার, ৩ জুন, ২০২১
৩৩৩
০ বার সংবাদটি পড়া হয়েছে
অনলাইন ডেস্কঃ
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, করোনাভাইরাসের টিকা সংগ্রহের পাশাপাশি দেশে উৎপাদনেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রযুক্তি হস্তান্তরের বিষয়ে বিভিন্ন দেশ ও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। বুধবার জাতীয় সংসদে বেগম মনিরা সুলতানের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠকে প্রশ্নোত্তর পর্ব টেবিলে উত্থাপিত হয়। এদিন জাতীয় সংসদে প্রয়াত সংসদ সদস্য আবদুল মতিন খসরু ও আসলামুল হকসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের নামে শোক প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ইসরাইলি হত্যাযজ্ঞ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনের ঘটনা সত্যি খুব অমানবিক। ছোট্ট শিশুদের কান্না, তাদের সেই অসহায়ত্ব, মাতৃ ও পিতৃহারা হয়ে ঘুরে বেড়ানো এটা সহ্য করা যায় না।
সংসদে লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার করোনা মহামারি থেকে মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে শুরু থেকেই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। দেশব্যাপী ও অঞ্চলভিত্তিক লকডাউন কার্যকরসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি দরিদ্র মানুষকে ত্রাণ সহযোগিতা প্রদানসহ জীবিকা ও অর্থনীতি বাঁচাতে সরকার বিভিন্ন প্রণোদনামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। চিকিৎসক-নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসনসহ করোনা মোকাবিলায় ফ্রন্টলাইন যোদ্ধাদের জন্য সুরক্ষাসামগ্রী প্রদান, আর্থিক প্রণোদনা প্রদান, যথাসময়ে টেস্টিং কিট আমদানি এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে ল্যাব স্থাপনসহ করোনা পরীক্ষার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করায় ভাইরাসের বিস্তার রোধে দক্ষিণ এশিয়াসহ অনেক উন্নত দেশের চেয়ে বাংলাদেশ সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে।
তিনি বলেন, করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে বিশ্বের যেসব দেশ টিকাদান কার্যক্রম প্রথমদিকে শুরু করেছে বাংলাদেশ তার অন্যতম। যথাসময়ে টিকা প্রাপ্তিতে সরকার শুরু থেকেই উদ্যোগ নিয়েছে। ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট হতে সংগৃহীত এবং ভারত সরকারের উপহার হিসাবে পাওয়া ১ কোটি ২ লাখ ডোজ টিকা পাওয়ার পর টিকাদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত হতে টিকা সংগ্রহের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ভারত টিকা রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। ফলে বাংলাদেশ সরকার বিকল্প উৎস হিসাবে চীন ও রাশিয়া থেকে টিকা সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে চীনের সিনোফার্ম থেকে টিকা ক্রয়ের বিষয়টি মন্ত্রিসভা কমিটিতে অনুমোদন করা হয়েছে। জুন, জুলাই ও আগস্টে ৫০ লাখ করে টিকা চীন থেকে আসবে।
পাঁচ লাখ ডোজ টিকা উপহার হিসাবে পাওয়া গেছে চীনের কাছ থেকে। এসব টিকাদানের কাজ ২৫ মে শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার, কোভ্যাক্স ফ্যাসিলিটি হতে ২০ শতাংশ জনগোষ্ঠীর জন্য টিকা সংগ্রহের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় জরুরিভিত্তিতে ২০ লাখ ডোজ টিকা সরবরাহের জন্য কোভ্যাক্স ফ্যাসিলিটি বরাবর পত্র পাঠিয়েছে। ফাইজারের টিকার ১ লাখ ৬২০ ডোজ দেশে পৌঁছেছে। সরকার রাশিয়া হতে টিকা আমদানির জন্যও ইতোমধ্যে আনুষঙ্গিক কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। মহামারি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত পরিমাণে টিকা সংগ্রহের জন্য নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে সরকার। তারই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন দেশ ও ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ চলছে।
ফিলিস্তিনে ইসরাইলি হত্যাযজ্ঞের তীব্র নিন্দা প্রধানমন্ত্রীর : শোক প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইসরাইল একের পর এক হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে। এর আগেও হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে, আমরা এ হত্যাযজ্ঞের তীব্র নিন্দা জানাই। যারা মারা গেছেন তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। তিনি বলেন, যারা অনেক সময় মানবতার এত কথা বলেন কিন্তু এই সময় তারা চুপ থাকেন কেন? আন্তর্জাতিক সংস্থা এখন আর কথা বলে না কেন? সেটাই আমার প্রশ্ন। যাই হোক আমরা ফিলিস্তিনি ভাইদের সঙ্গে সব সময় আছি। আমরা সাধ্যমতো সব রকম সহযোগিতা অতীতেও করেছি, করে যাচ্ছি। অবশ্যই করে যাব।
মতিন খসরুর আবেগভরা বক্তৃতা এখনো কানে বাজে : কুমিল্লা-৫ আসনের সংসদ সদস্য প্রয়াত আবদুল মতিন খসরুর মৃত্যুতে আবেগাপ্লুত হয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি তাকে প্রথমে প্রতিমন্ত্রী তারপর মন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়েছিলাম। তাছাড়া একজন নিবেদিতপ্রাণ আওয়ামী লীগ কর্মী, ছাত্রলীগ-যুবলীগ তারপর আওয়ামী লীগের সর্বশেষ প্রেসিডিয়াম মেম্বার করি।’ শেখ হাসিনা বলেন, সুপ্রিমকোর্ট বার কাউন্সিলের নির্বাচন যখন করতে যায় তাকে নমিনেশন দেওয়া হয়। আমি তাকে বলেছিলাম, বেশি ঘোরাঘুরি না করতে কিন্তু তার আগ্রহ ছিল তাকে জিততেই হবে। আর তাই সারা দেশ সফর করে। পরে করোনায় আক্রান্ত হয়। আমি প্রতিদিন তার স্বাস্থ্যের খবর নিতাম। কিন্তু দুর্ভাগ্য যে তাকে আর বাঁচানো গেল না, আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছে।
আসলামুল হক সম্পর্কে বলেন, আসলামুল হক একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী। আমাদের সব আন্দোলন-সংগ্রাম সবকিছুতে সে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছে। এলাকার উন্নয়নে অনেক কাজ করেছে, এজন্য সে বারবার নির্বাচিত হয়েছে। মানুষের প্রতি অন্যরকম টান ছিল। এ সংসদ চলমান অবস্থায় এসেছিল কিন্তু এখান থেকে হঠাৎ সে চলে গেল তার পরেই তার মৃত্যুর সংবাদটা আসলো, এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি বলেন, কয়েকজন গণপরিষদ সদস্য হারিয়েছি। আজ আমরা যে সংবিধান পেয়েছি তাতে তাদের স্বাক্ষর রয়েছে। যেমন খন্দকার আব্দুল মালেক শহীদুল্লাহ, গণপরিষদ সদস্য আবুল হাশেম সাহেব। স্বাধীনতার পর যে সংবিধান আমরা পেয়েছি এটা তাদেরই অবদান। তাছাড়া আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী সাবেক এমপি যেমন সারাহ বেগম কবরী, মিরাজ মোল্লা, আমজাদ হোসেন মিলন, ফরিদা রহমান তাদের হারিয়েছি। ফরিদা রহমান আমি একসঙ্গে ছাত্রলীগ করেছি।
বাংলা একাডেমির দুই মহাপরিচালক প্রসঙ্গে বলেন, শোক প্রস্তাবে কয়েকজনের কথা না বললেই নয়। শামসুজ্জা
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।Design & Development : It Corner BD.Com 01711073884.
Leave a Reply