
ইউসুফ আলী সৈকত//বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে মাসকাটা নদীতে অপরিকল্পিত ড্রেজিংয়ের প্রতিবাদ করায় স্থানীয়দের বিরুদ্ধে ‘হামলা ও ভাঙচুরের নাটক সাজিয়ে’ মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে। হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার, গ্রেফতারকৃত সোলাইমানের মুক্তি এবং ড্রেজিং বন্ধের দাবিতে বৃহস্পতিবার বিকালে ভাঙনকবলিত এলাকায় মানববন্ধন করেছেন তিন ইউনিয়নের শত শত মানুষ।
বিকাল ৫টায় জাঙ্গালিয়া, চরগোপালপুর ও আলীমাবাদ ইউনিয়নের ভাঙনকবলিত শত শত নারী-পুরুষ মানববন্ধনে অংশ নেন। এতে বক্তব্য রাখেন গ্রেফতারকৃত সোলাইমানের বাবা শাহে আলম খান, ফজলে রাব্বি খোকন, এস এম সোহেল রানা, ফয়সাল হোসেন, মাইদুল রাঢ়ী ও ভানু বেগম।
বক্তারা বলেন, “বিআইডব্লিউটিএ ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বঙ্গ ড্রেজার লিমিটেড মাসকাটা নদীতে ড্রেজিং করছে। কিন্তু ভাঙনকবলিত এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে খনন করায় নতুন করে তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে তিন ইউনিয়নের দুই-তৃতীয়াংশ এলাকা ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
তারা আরও বলেন, অবশিষ্ট অংশ রক্ষায় সরকার মিঠুয়া ও জাঙ্গালিয়া এলাকায় জিওব্যাগ ডাম্পিং করলেও ড্রেজারটি ইচ্ছেকৃতভাবে ভাঙনকোলে খনন করছে। প্রতিবাদ করায় উল্টো আমাদের নামে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। ওই মামলায় সোলাইমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মানববন্ধনে ভাঙনকবলিতরা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমরা বাঁচতে চাই। সঠিক তদন্ত করে আমাদের দায়মুক্তি দিন।
অন্যদিকে বঙ্গ ড্রেজার লিমিটেডের সাইট ইঞ্জিনিয়ার মোঃ বিদ্যা সাগর বাদী হয়ে মেহেন্দিগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ৩ মে রাত ৯টার দিকে পাতারহাট লঞ্চঘাট-ভোলা ভেদুরিয়া রুটে মাসকাটা নদীর মধ্যখানে ‘বঙ্গ পদ্মা’ ড্রেজারে কাজ চলাকালে হাতেম সিকদার, মনির সিকদার ওরফে লাল মিয়াসহ ১৩ জন এবং অজ্ঞাতনামা ১৫-২০ জন দা, লাঠি, লোহার রড নিয়ে হামলা চালায়।
এজাহারে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা ড্রেজারের ব্রিজ রুমের গ্লাস, অপারেটিং চেয়ার, কন্ট্রোলিং বোর্ড ভাঙচুর করে প্রায় ১০ লক্ষ টাকার ক্ষতি করেছে। এসময় ড্রেজার অপারেটর আব্দুল করিমসহ ৪ জনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করা হয় এবং সাইট ইঞ্জিনিয়ারকে হাজির না করলে জবাইয়ের হুমকি দেওয়া হয়।
মামলাটি দণ্ডবিধির ১৪৩, ১৮৬, ৩৩২, ৩৩৩, ৩৫৩, ৩০৭, ৪২৭, ৩৪২, ৫০৬(২) ও ১১৪ ধারায় রুজু হয়েছে। মামলা নং-০৪, তারিখ-০৫/০৫/২০২৫।
ড্রেজার কর্তৃপক্ষের দাবি, আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে সরকারি উন্নয়ন কাজে বাধা দিচ্ছিল এবং তারা উচ্ছৃঙ্খল প্রকৃতির।
এ বিষয়ে মেহেন্দিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মমিন উদ্দিন বলেন, “মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে যার সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হবে তার বিরুদ্ধেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিরপরাধ কেউ হয়রানির শিকার হবে না, এটা নিশ্চিত করা হবে।
স্থানীয়রা হয়রানিমূলক মামলা থেকে দায়মুক্তি, গ্রেফতারকৃত সোলাইমানের নিঃশর্ত মুক্তি এবং মাসকাটা নদীতে অপরিকল্পিত ড্রেজিং বন্ধ করে ভাঙনরোধে স্থায়ী ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
Leave a Reply