উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার অনুমতি পাননি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। পরিবারের আবেদন নামঞ্জুর করেছে সরকার। এর ফলে আপাতত তার বিদেশ যাওয়া হচ্ছে না। রোববার বিকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আইনের বাইরে গিয়ে তার বিদেশ যাওয়ার আবেদন মঞ্জুর করতে পারছি না। আর আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারায় খালেদা জিয়ার সাজা ও দণ্ডাদেশ স্থগিত করে যেভাবে তাকে সাময়িক মুক্তি দেওয়া হয়েছিল, তাতে এখন আর তাকে বিদেশে যেতে দেওয়ার ‘সুযোগ নেই’। এদিকে সরকারের এ সিদ্ধান্তকে অমানবিক এবং বেআইনি বলে মন্তব্য করেছেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী। এতে বিএনপি হতাশ ও ক্ষুব্ধ বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার অনুমতি চেয়ে বুধবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেন তার পরিবার। ওই রাতেই আবেদনটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। আইনমন্ত্রী তার মত দিয়ে রোববার নথিটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠান। আবেদনের চার দিন পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সচিবালয়ে তার দপ্তরে এ নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, আইনের বাইরে গিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার কোনো সুযোগ নেই। এজন্য বিএনপি চেয়ারপারসনের আবেদন মঞ্জুর করতে পারছি না।
আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আইন মন্ত্রণালয়ের মতে বলা হয়েছে- ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারা অনুযায়ী খালেদা জিয়াকে বিদেশে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। মানবিক কারণে ৪০১ ধারায় দণ্ড স্থগিত রেখে খালেদা জিয়াকে তার সুবিধামতো চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। দণ্ড মওকুফ করে তাকে বিদেশ পাঠানোর কোনো সুযোগ নেই। তিনি বাসায় থেকে কিংবা সুবিধামতো চিকিৎসা নিচ্ছেন। তিনি বলেন, বিদেশে নেওয়ার জন্য খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার আবেদন করেন। সেটার আইনি দিকগুলো খতিয়ে দেখার জন্য আমরা আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিলাম। তারা মত দিয়েছে, যে ধারায় তার দণ্ড স্থগিত রেখে চিকিৎসা সুবিধা দেওয়া হয়েছে সেটা পুনরায় বিবেচনা করে বিদেশে পাঠানোর কোনো সুযোগ নেই। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারায় খালেদা জিয়ার সাজা ও দণ্ডাদেশ স্থগিত করা হয়েছিল। দুটি নির্দিষ্ট শর্তে তাকে সাময়িক মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। সেগুলো শিথিল করার আইনি সুযোগ আছে কিনা তা দেখে তিনি মতামত পাঠাবেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। আইন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশ পাঠানোর আবেদনের বিষয়ে আইনমন্ত্রীর অভিমতসংবলিত নথি রোববার সকালে আইন ও বিচার বিভাগের সচিবের দপ্তর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান যুগান্তরকে বলেন, খালেদা জিয়া আইনি কোনো প্রতিকার পেতে চাইলে আদালতে যেতে পারেন। তবে দণ্ড মওকুফ করার ক্ষমতা একমাত্র রাষ্ট্রপতির। এ মুহূর্তে বিদেশ যেতে পারবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ নিয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।
এ প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের এ মতামত বেআইনি। এ আইনে এমন কোনো বিধান নেই যে, কোনো দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি বিদেশে যেতে পারবে না। এ আইন করাই হয়েছে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের জন্য। তিনি বলেন, অনুমতি না দিয়ে সরকারের এত বড় দায়ভার নেওয়া উচিত হয়নি। যদি কোনো অঘটন ঘটে যায় তখন সম্পূর্ণ দায়ভার সরকারের ঘাড়ে পড়বে।
বিদেশে খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার অনুমতি না দেওয়ায় দলটির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে হতাশা ও উদ্বেগ। তারা মনে করেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। দীর্ঘদিন তার শারীরিক সমস্যার কোনো ফলোআপ করা হচ্ছে না। বিদেশে গিয়ে এসব সমস্যার ফলোআপ করা অতি জরুরি। পরিবারের আবেদনের পর সরকারের মনোভাবে তারা ধরে নিয়েছিলেন এবার বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দেবে। সরকার শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক কারণেই অনুমতি দেয়নি বলে মনে করছেন দলের একটি অংশ। তবে অপর একটি অংশ মনে করছেন, এখনও আশা শেষ হয়ে যায়নি। উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে পারে। তারা এখনো আশায় রয়েছেন, সরকার শেষ পর্যন্ত চেয়ারপারসনকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দেবে।
এ প্রসঙ্গে রাতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকারের এমন সিদ্ধান্তে আমরা নিঃসন্দেহ হতাশ ও ক্ষুব্ধ। বিএনপি চেয়ারপারসনকে মিথ্যা মামলায় সাজা দেওয়া হয়েছে। এর উদ্দেশ্য ছিল তাকে রাজনীতি থেকে চিরতরে বিদায় করে দেওয়া। এর ধারাবাহিকতায় বিএনপির শীর্ষ নেতাদের নামে মামলা দেওয়া হয়। দলকেই রাজনীতি থেকে দূরে সরে রাখার চক্রান্ত চলছে। তিনি বলেন, আমরা মনে করি এ সিদ্ধান্তের কোনো যুক্তি নেই। তারা বলছে, দণ্ডপ্রাপ্তদের বিদেশে যাওয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু তারা তো অসংখ্য নজির সৃষ্টি করেছে। শুধু মানবিক নয়, রাজনৈতিক কারণে তাকে বিদেশ পাঠানো জরুরি। কারণ তিনি তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী। প্রতিহিংসামূলক রাজনীতি চরিতার্থ করতেই সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ফখরুল বলেন, তারা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত খুনের আসামিকে বাড়ি পাঠিয়ে দিতে পারেন, মাফ করে দিতে পারেন কিন্তু একজন জনপ্রিয় নেত্রীর জন্য কোনো মানবতা কাজ করে না। তাদের কোনো শিষ্টাচা
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।Design & Development : It Corner BD.Com 01711073884.
Leave a Reply