বিএনপির মোমবাতি প্রজ্বালন আ.লীগের হামলা সেলিমা তাবিথসহ আহত ১৫
আপডেট সময় :
রবিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২
২৭৯
০ বার সংবাদটি পড়া হয়েছে
অনলাইন ডেস্ক//
আওলীগ
রাজধানীর বনানীতে বিএনপির কর্মসূচিতে আবারও হামলা করেছে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। শনিবার রাত পৌনে ৮টার দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় ইট ও লাঠির আঘাতে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়ালসহ ১৫ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে গুরুতর আহত তাবিথসহ চারজনকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
রাতে ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নেতাদের শারীরিক খোঁজ নিতে যান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব আমিনুল হকসহ বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা।
এ সময় বিএনপির মহাসচিব সাংবাদিকদের বলেন, ঢাকা মহানগরে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচি ছিল। ঢাকা দক্ষিণে শান্তিপূর্ণভাবে এ কর্মসূচি হয়েছে। কিন্তু ঢাকা উত্তরে যখন কর্মসূচি প্রায় শেষ পর্যায়ে হঠাৎ করে আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীরা বিএনপি
প্রধান অতিথির বক্তব্যে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন-এই স্বৈরাচারী সরকারকে যদি হটাতে হয়, তাহলে রাস্তায় তার ফয়সালা করতে হবে। সেই লক্ষ্যে বিএনপি আন্দোলন করছে জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এ আন্দোলনকে এগিয়ে নেওয়া হবে। খন্দকার মোশাররফের বক্তব্য শেষ হওয়ার পরপরই রাত পৌনে ৮টার দিকে কর্মসূচিতে হামলা করে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। তারা ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে।
এ সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রথমে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও আওয়ামী লীগের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী লাঠিসোঁটা নিয়ে একযোগে হামলা করলে সবাই বনানী কে ব্লকের ২৬ নম্বর রোড দিয়ে সরে যান। এ সময় ইটপাটকেল ও লাঠির আঘাতে সেলিমা রহমান, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, শামা ওবায়েদ, তাবিথ আউয়াল, মহিলা দলের অ্যাডভোকেট রুনা লায়লা ও তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের সাবেক নেতা আকরাম হোসেনসহ ১৫ জন আহত হন। পরে গুরুতর আহতাবস্থায় তাবিথ, রুনা, আকরামসহ চারজনকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আর সেলিমা রহমান, আলাল, শামাসহ বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়।
এদিকে একই দাবিতে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, আজকে আওয়ামী লীগের আর কোনো পথ নেই। তারা এ সহিংসতা ও সন্ত্রাসী করেই ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। তারা একদলীয় শাসন ব্যবস্থা বাকশাল প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ তা হতে দেবে না।
তিনি বলেন, জনগণ নিয়মতান্ত্রিক এবং সাংবিধানিক আন্দোলনের মধ্যে দিয়েই তাদের বাধ্য করবে পদত্যাগ করতে এবং পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে। সংসদ বিলুপ্ত করতে হবে, নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করে জনগণের অংশগ্রহণের মধ্যে দিয়ে নতুন সংসদ ও সরকার গঠন করতে হবে। এই লক্ষ্যে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাব।
নয়াপল্টনের এ কর্মসূচি ১ ঘণ্টা হওয়ার কথা থাকলেও ১৫ মিনিটেই তা শেষ করা হয়। ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালামের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনুর সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন-বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা খায়রুল কবির খোকন, আবদুস সালাম আজাদ, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, ছাত্রদলের কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণ, সাইফ মাহমুদ জুয়েল প্রমুখ। কর্মসূচিতে সহস্রাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন।
এদিকে বনানীতে হামলার প্রতিবাদে রাতে নয়াপল্টনে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল বের করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে এই মিছিল হয়। পরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী শীর্ষ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী ভেবেছেন আপনার কর্মীরা নির্দ্বিধায় এসব অপকর্ম করে যাবে আর বিএনপি চুপ করে থাকবে। এটা মনে করার কোনো কারণ নেই। আমরা প্রতিটি রক্ত কণার উপযুক্ত জবাব দেব। তিনি বলেন, প্রতিটি আঘাতের জবাব দেওয়া হবে। আমাদের কোনো র্যাব নেই, পুলিশ নেই। নিরস্ত্র আমরা দুই হাত দিয়ে গুলির সামনে বুক পেতে দিতে পারি। তেমনি চরম প্রতিরোধের দিকেও এগিয়ে যেতে পারি।
আওয়ামী লীগ জাতিকে বিভক্ত করেছে : এদিকে শনিবার সকালে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন এখন নষ্ট হয়ে গেছে, কলুষিত হয়ে গেছে। বাংলাদেশের রাজনীতির কাঠামো ভেঙে পড়েছে। নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করার নিয়ম থাকলেও সেই নির্বাচনে জনগণ অংশ নিতে পারে না।
প্রয়াত গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ারের স্মরণে ওই দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে ড. মোশাররফ ফাউন্ডেশন। দেশকে বর্তমান পরিস্থিতি থেকে রক্ষার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, দেশকে রক্ষার দায়িত্ব বিএনপির একার নয়। বিএনপি সব শক্তি দিয়ে চেষ্টা করছে। সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। ব্যারিস্টার খন্দকার মারুফ হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন-স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, কেন্দ্রীয় নেতা আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল, গাজীপুর জেলার সভাপতি ফজলুল হক মিলন, সিনিয়র সাংবাদিক মোস্তফা কামাল মজুমদার, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের এম আবদুল্লাহ, প্রয়াত গাজী মাজহারুল আনোয়ারের সহধর্মিণী জোহরা গাজী ও ছেলে সরফরাজ আনোয়ার প্রমুখ।
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।Design & Development : It Corner BD.Com 01711073884.
Leave a Reply