নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের ওপারে থেমে থেমে গোলাগুলি হচ্ছে। কখনো কখনো বিকট শব্দে সীমান্ত অঞ্চল কেঁপে উঠছে। আতঙ্কে সীমান্ত অঞ্চলের মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন। অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে ঘুমধুম উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রটি সরিয়ে পাশের কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার কুতুপালং উচ্চ বিদ্যালয় স্থানান্তর করা হয়েছে। এদিকে বাংলাদেশের সীমানার মধ্যে গোলাবারুদ পড়া ও হামলার ঘটনায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে আবারও তলব করেছে ঢাকা। রোববার সকালে দেশটির রাষ্ট্রদূতকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডেকে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, শনিবার সকালের দিকে সীমান্তের ওপারে থেমে থেমে গোলাগুলি হচ্ছিল। মিয়ানমারের একটি অ্যাটাক হেলিকপ্টারকে ৩৪-৩৫নং সীমানা পিলারের ওপর দিয়ে চক্কর দিতেও দেখা যায়। এ সময় মিয়ানমারের অভ্যন্তরে হেলিকপ্টার থেকে ব্যাপক গুলিবর্ষণের শব্দ শোনা যায়। সন্ধ্যা ৬টার দিকেও আবার গুলি বর্ষণের শব্দ শোনা যায়। তবে এরপর থেকে গোলাগুলির আওয়াজ বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে।
ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ বলেন, ঘুমধুম ইউনিয়নের মানুষদের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। সীমান্তের ওপারে থেমে থেমে গোলা বর্ষণের শব্দে ও উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় তাদের দিন কাটছে। নিজেদের বাসাবাড়ি ছেড়ে অনেকে পাশের এলাকাগুলোর আত্মীয়স্বজনের বাসাবাড়িতে আশ্রয় নিচ্ছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, ঘুমধুম ইউনিয়নের ঘুমধুম, তুমব্রু, বাইশফাঁড়ি ও রেজু-আমতলী সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সীমান্ত সুরক্ষায় সতর্কবস্থায় রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্তবর্তী এলাকায় চলাচলকারী গাড়ি এবং বাসিন্দাদের তল্লাশি করা হচ্ছে। স্থানীয়দের যত্রতত্র চলাচলে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। বিজিবি পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফয়জুর রহমান বলেন, বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর সংঘর্ষ বেশ কয়েকদিন ধরে চলছে। আমরা শুরু থেকেই সতর্ক আছি। মিয়ানমারের কোনো নাগরিক যেন বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে সে বিষয়েও আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক আছি।
সীমান্ত পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বান্দরবানের জেলা প্রশাসক ইয়াছমিন পারভীন তিবরিজি বলেন, সীমান্ত পরিস্থিতি অস্থিতিশীল। সীমান্ত অঞ্চলে বসবাসকারী নাগরিকদের নিরাপত্তায় কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জরুরি সভা করা হয়েছে। সীমান্তের বাসিন্দাদের দাবি-মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আরাকান আর্মি (এএ) সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর যুদ্ধ চলছে। আরাকান আর্মির আস্তানা ধ্বংস করতে মিয়ানমার বাহিনী যুদ্ধবিমান, ফাইটিং হেলিকপ্টার থেকে গুলিবর্ষণ করছে। শুক্রবার তৃতীয় দফায় মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সংঘাতের জেরে মর্টার শেলের তিনটি গোলা তুমব্রু সীমান্তে পড়ে। এর আগে যুদ্ধবিমান এবং মর্টার শেলের গোলা আরও দুবার ঘুমধুম সীমান্তের জনবসতি এলাকায় পড়ে।
বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে শূন্যরেখায় বসবাসকারী রোহিঙ্গা কমিউনিটির নেতা দিল মোহাম্মদ বলেন, শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে শূন্যরেখায় বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পে তিনটি মর্টার শেল পড়ে। ক্যাম্পে পড়ে আরও ২টি। ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু সীমান্তের কোনাপাড়া নোম্যান্স ল্যান্ড এলাকায় মর্টার শেল বিস্ফোরণে শুক্রবার নোম্যান্স ল্যান্ডে এক রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়। এ সময় আরও পাঁচ রোহিঙ্গা আহত হন।
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।Design & Development : It Corner BD.Com 01711073884.
Leave a Reply