রাতের আঁধারে সরকারি বাসভবনে দফায় দফায় হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) কর্মী এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতার্মীদের দায়ী করেছেন বরিশাল সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনিবুর রহমান। সংঘর্ষের ঘটনায় ওসি ও দুই পুলিশ সদস্য এবং প্যানেল মেয়রসহ অনেকেই গুলিবিদ্ধ হন। এছাড়া পুলিশের লাঠিচার্জে কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘট্নায় কিছু সময়ের জন্য বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের নগরীর থানা কাউন্সিল এলাকা অবরোধ করলে দুই প্রান্তে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
আহতদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ ২৩ জনকে শের-ই বাংলা মেডিক্যাল এবং অন্যদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আহক শ্রমিক লীগ কর্মী নাসির আলমসহ পুলিশের দুই সদস্যকে ভর্তি করা হয় জেলা পুলিশ হাসপাতালে। কোতোয়ালি থানার ওসি নুরুল ইসলামের বুকেও স্প্লিন্টার বিদ্ধ হয়েছেন। তবে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হননি।
এ বিষয়ে ইউএনও মুনিবুর রহমান অভিযোগ করেন, শোকদিবসের ব্যানার অপসারণ করতে বুধবার রাতে বিসিসি থেকে লোক আসে। তাদের সকালে আসার অনুরোধ জানানো হয়। পরবর্তীতে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ৬০ থেকে ৭০ জনের একটি দল আমার সরকারি বাসভবনে দিকে আসতে থাকে। ঘটনাটি আনসার সদস্যরা আমাকে জানান। আমি বাসার দোতলা থেকে নিচে নামি। এসময় বেশকিছু লোক আমার বাসায় প্রবেশ করে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। বাসায় অবস্থান করা আমার বাবা-মাকে নিয়েও তারা গালাগাল করতে থাকেন।
তিনি আরও বলেন, ‘এক পর্যায়ে তারা আমাকে ঘিরে ফেলেন, এসময় আমি আনসার সদস্যদের সাহায্য চাই। আনসার সদস্যরা গুলি ছুড়লে তারা দৌড়ে পালিয়ে যায়। আমি মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান বাবুকে আটকে আনসার সদস্যদের হাতে সোপর্দ করি। তারা যাওয়ার আগে বাসার প্রধান গেট ভাঙচুর করেন। খবর পেয়ে আমার কর্মকর্তারা ছুটে এসে আমাকে রক্ষা করেন। ওই ঘ্টনার পরও গ্রুপে ভারী হয়ে ফের আমার বাসায় হামলা চালানো হয়। এসময় পুলিশ ও আনসার সদস্যদের সঙ্গে হামলাকারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।’
ইউএনও মুনিবুর রহমান দাবি করেন, ‘আমি শোক দিবসের ব্যানার অপসারণে কেন সকালে আসতে বলেছি, এটাই আমার অপরাধ।’
বিষয়টিকে দুঃখজনক উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন হায়দার বলেন, কী ঘটেছে, আর কী কারণে এ হামলা হলো তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইউএনও বিনয়ের সঙ্গে বলেছেন বৃহস্পতিবার সকালে এসে ব্যানার খুলতে, এরপরও তাকে অপমান করার চেষ্টা করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, আমরা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। সরকারের আদেশ নির্দেশ মানাই আমাদের কাজ। এমন কী ঘটেছিল যে কারণে ইউএনওর সরকারি বাসভবনে হামলা চালাতে হবে। বিষয়টি আমাদের জানাতে পারতো, যা হয়েছে তা খুবই দুঃখজনক।
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।Design & Development : It Corner BD.Com 01711073884.
Leave a Reply