
মেহেন্দিগঞ্জ টাইমস নিউজ ডেস্ক//মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবার মান ও ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের লক্ষ্যে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করে সেতু ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি রাজিব আহসান, এমপি হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে সেবার মান বৃদ্ধির কঠোর নির্দেশনা দেন।
মঙ্গলবার, ১৫ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় উপজেলা পরিষদের মাল্টিপারপাস হল রুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান বলেন, জনগণের টাকায় চলা এই হাসপাতাল জনগণের সেবার জন্যই। এখানে কোনো অব্যবস্থাপনা, দালচক্র বা অবহেলা সহ্য করা হবে না। রোগীরা যেন হয়রানি ছাড়া, বিনামূল্যে ওষুধ ও চিকিৎসা পায় সেটা নিশ্চিত করতে হবে। ডাক্তার-নার্সদের উপস্থিতি ও আচরণে কোনো ঘাটতি থাকলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, চরাঞ্চলের মানুষ অনেক কষ্ট করে নদী পার হয়ে এই হাসপাতালে আসে। তাদের শেষ ভরসা এই হাসপাতাল। এই ভরসার জায়গাটা নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। প্রতিটি ওয়ার্ড, জরুরি বিভাগ, অপারেশন থিয়েটার – সব জায়গায় নজরদারি বাড়াতে হবে। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ওষুধের ঘাটতি থাকলে আমাকে সরাসরি জানাবেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রিয়াজুর রহমান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইমরানুর রহমান, মেহেন্দিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মমিন উদ্দিন, মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক গিয়াস উদ্দিন দিপেন, সদস্য সচিব সিহাব আহমেদ সেলিম, সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান মুক্তা, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ রিয়াজ শাহীন লিটন, সদস্য সচিব রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী দিনু, সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ মিরাজ আহমেদ, ইউনিয়ন পরিষদ ফোরামের সভাপতি চেয়ারম্যান আব্দুল মকিম তালুকদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা সাজাহান মোল্লা এবং স্থানীয় সংবাদকর্মীরা।
সভায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ডাক্তারের উপস্থিতি, ওষুধ সরবরাহ, পরিচ্ছন্নতা, দালমুক্ত পরিবেশ এবং রোগীদের হয়রানি বন্ধে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। প্রতিমন্ত্রী আগামী ১ মাসের মধ্যে সেবার মানের দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখতে চান বলে জানান এবং নিয়মিত মনিটরিংয়ের কথা বলেন।
স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেন, প্রতিমন্ত্রীর এই কঠোর অবস্থানের ফলে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং চরাঞ্চলের মানুষ উন্নত চিকিৎসা সেবা পাবে।
Leave a Reply