বরিশালের হিজলায় আওয়ামী লীগ ও বিদ্রোহি দুই প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে।
রোববার (১৬ ই) মে রাতে উপজেলার হরিনাথপুর বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
হরিনাথপুর বাজার এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
জানা যায় রোববার দিবাগত মধ্যরাতে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে দুই ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ চলে।
রোববার রাতে সংঘর্ষ হলেও সোমবার সকাল বারোটার পর দুপক্ষের ১৩ জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন।
তবে এ ঘটনায় সোমবার বেলা দুইটা পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় মামলা বা লিখিত কোন অভিযোগ দেননি।
এবং এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায় রোববার রাত দশটার দিকে হরিনাথ পুর ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড সদস্য জহির রায়হানের সঙ্গে একই ওয়ার্ডের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মোক্তার হোসেন খানের কথা কাটাকাটি হয়।
তখন মোক্তার হোসেন খান বর্তমান মেম্বার জহির রায়হানকে জানান তালিকায় নাম থাকার পরেও অনেকে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার এর টাকা কেন পাননি এবং টাকার হিসাব চান বর্তমান মেম্বার জহির রায়হানের নিকট।
এরই জের ধরে উভয়ের ভিতরে এক প্রজায় হাতাহাতির রুপ নেয়।
পরে খবর পেয়ে বর্তমান চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ খানের কর্মিসমর্থক জহির রায়হানের পক্ষে এবং অন্য দিকে তৌফিকুর রহমানের কর্মিসমর্থক মেম্বার প্রার্থী মোক্তার হোসেনের পক্ষে অবস্থান নেন।
এরপর দুপক্ষের ভিতরে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল ছোড়া শুরু হয়।
পরে ঘটনা স্থলে পুলিশ এসে রাত দুইটার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়।
হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সুত্রে জানাযায় সোমবার দুপুরে তৌফিকুর রহমানের নয় জন এবং পরে আবদুল লতিফ খানের চার সমর্থক হাসপাতালে ভর্তি হয় তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এ ব্যাপারে হরিনাথপুর বাজারের ব্যাবসায়ীরা জানান রাতে সংঘর্ষের ঘটনার পর থেকে বাজার এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
অনেকে ফের সংঘর্ষের আশংকায় দোকান পাট বন্ধ রেখেছে।
দুপক্ষের ভিতর এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে।
হরিনাথপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ খান জানান দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে রোববার রাতে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় আলোচনা শুরু হয়।
পরে রাত ১১টার দিকে হঠাৎ করে তৌফিকুর রহমানের নেতৃত্বে একদল লোক আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে।
এসময় অফিসে থাকা আওয়ামী লীগের কর্মীসমর্থকেরা প্রতিরোধ গড়ে তোলে পরে দুপক্ষের ভিতরে সংঘর্ষ বেঁধে যায়।
পরে রাত দুইটার দিকে পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করে।
এঘটনায় তৌফিকুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন সেখানে দুই মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। তারা সম্পর্কে আপন চাচা ভাতিজা বর্তমান মেম্বার জহির রায়হান ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মোক্তার হোসেন।
কিন্তু চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ খান ঘটনা ভিন্ন খাতে নিতে আমাকে জড়ানোর চেষ্টা করছে।
এ ব্যাপারে মেম্বার প্রার্থী মোক্তার হোসেন জানান প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার এর টাকা বিতরণে অনিয়ম দেখে বর্তমান মেম্বার ও আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জহির রায়হানের কাছে জানতে চাওয়া হলে আমাকে লাঞ্চিত করা হয়। এর জের ধরে পরে দুই পক্ষের ভিতরে সংঘর্ষ বেধে যায়।
এ ব্যাপারে হিজলা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি অসীম কুমার সিকদার জানান। সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে এবং ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
তবে এঘটনায় কোন পক্ষই এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ করেননি অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।Design & Development : It Corner BD.Com 01711073884.
Leave a Reply