কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরনবী চৌধুরীর ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার রাতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে। উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা খিজির হায়াতের অনুসারী ও বসুরহাট পৌর মেয়র কাদের মির্জার অনুসারীরা সর্বাত্মক লকডাউন উপেক্ষা করে পালটাপালটি বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেছেন। এদিকে চরকাঁকড়া ইউনিয়নের নতুনবাজার এলাকায় দুই গ্রুপের পালটাপালটি কর্মসূচি পণ্ড করে দিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর জাহেদুল হক রনি জানান, গ্রেফতার ছয়জনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তারা হলেন : বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার অনুসারী সিরাজপুর ইউনিয়ন ৬নং ওয়ার্ডের ফরিদ উদ্দিন কামালের ছেলে নাজিম উদ্দিন মিকন (৪২), তার সহযোগী একই এলাকার ৪নং ওয়ার্ডের ছায়দল হক মেম্বারের ছেলে নুর উদ্দিন খাজা (৪০), কবিরহাট পৌরসভার ২নং ওয়ার্ড ফতেহপুর গ্রামের ওজি উল্যার ছেলে সাবেক পৌর কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা একরাম উদ্দিন (৫০), চরপার্বতী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের মো. আসলামের ছেলে ইসমাইল হোসেন পলাশ (২৫), বসুরহাট পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের মৃত মনির আহমেদের ছেলে মো. নুর আলম রাসেল (২৮) এবং ৬নং ওয়ার্ডের মৃত আবুল বাসারের ছেলে ইমাম হোসেন ছোটন (২৪)।
খিজির হায়াত ও কাদের মির্জার অনুসারীদের পালটাপালটি মিছিলকালে লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। সব দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। নুরনবী চৌধুরী ও নুরুজ্জামান স্বপনের ওপর হামলার প্রতিবাদে উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে উপজেলা আওয়ামী লীগ। চরকাঁকড়া ইউনিয়নের রাস্তার মাথা বাজারে, মুছাপুর চরফকিরা ইউনিয়নের চাপরাশিরহাট বাজারে, চরপার্বতী ইউনিয়নের চৌধুরীহাট বাজারে, চরএলাহী ইউনিয়নের চরএলাহী বাজারে, রামপুর ইউনিয়নের বামনী বাজারে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করা হয়। অপরদিকে বসুরহাট পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে কাদের মির্জার অনুসারীরা পালটা মিছিল সমাবেশ করে। ৭নং ওয়ার্ড, সিরাজপুর ইউনিয়ন, বটতলা, ৪নং ওয়ার্ডে মিছিল সমাবেশ হয়। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চরকাঁকড়া ইউনিয়নের নতুনবাজারে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দেয় বিবদমান দু-গ্রুপ। ওসি মীর জাহেদুল হক রনি জানান, দু-গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ায় কাউকে সভা-সমাবেশ করতে দেওয়া হয়নি। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরনবী চৌধুরী এবং শিক্ষা ও সংস্কৃতি সম্পাদক নুরুজ্জামান স্বপন আহত হওয়ার প্রতিবাদে চরকাঁকড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উদ্যোগে কর্মসূচি ডাকা হয়। অপরদিকে কাদের মির্জার অনুসারী শ্রমিক লীগ নেতা মিজানের ওপর হামলার প্রতিবাদে কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। তবে প্রশাসনের বাধার মুখে কোনো পক্ষই কর্মসূচি পালন করতে পারেনি।
সোমবার রাতে উপজেলা আওয়ামী লীগ সমর্থিত চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের মেম্বার জামাল উদ্দিন ও একই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাগরের বাড়িতে ককটেল হামলার অভিযোগ উঠেছে। একই রাতে কাদের মির্জার অনুসারী কসাই কাঞ্চন ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা নাজিম উদ্দিন বাদলের বাড়িতেও ককটেল হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
কোম্পানীগঞ্জ থানায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়াত খান বাদী হয়ে ৩৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ২০-৩০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। কাদের মির্জার অনুসারী সাবেক যুবলীগ নেতা নাজিম উদ্দিন মিকনকে প্রধান আসামি করে মামলাটি করা হয়। আসামিদের মধ্যে আরও রয়েছে : মিকনের সহযোগী শহিদ উল্যাহ রাসেল ওরফে কেচ্ছা রাসেল, কাদের মির্জার ছেলে তাশিক মির্জা, ছোট ভাই শাহাদাত হোসেন প্রমুখ।
অপরাজনীতির হোতারা আওয়ামী লীগ নিয়ন্ত্রণ করছে : বসুরহাট পৌরসভার মেয়র কাদের মির্জা বলেছেন, অপরাজনীতির হোতারা এখন আওয়ামী লীগ নিয়ন্ত্রণ করছে। ক্ষমতা এত বড় যে, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে তারা বিচ্যুত হয়ে গেছে। আমার মতো ৪৭ বছর ধরে আওয়ামী লীগ করা কেউ এখন আর আওয়ামী লীগের সঙ্গে নেই। মঙ্গলবার নিজ কার্যালয়ে ফেসবুক লাইভে তিনি এসব কথা বলেন।
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।Design & Development : It Corner BD.Com 01711073884.
Leave a Reply