নোয়াখালীতে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা
-
আপডেট সময় :
শনিবার, ২০ মার্চ, ২০২১
-
৩৭৫
০ বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

অনলাইন ডেস্ক //
নোয়াখালীতে ১০ম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এদিকে মাদারীপুরে বিয়ের প্রলোভনে আবাসিক হোটেলে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ১০ম শ্রেণির আরেক ছাত্রী। গাজীপুরে গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক পোশাককর্মী। এছাড়া ময়মনসিংহের ভালুকায় ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বাকপ্রতিবন্ধী, শিশু ও গৃহবধূ। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-
নোয়াখালী : সদর উপজেলার চরমটুয়া ইউনিয়নে ১০ম শ্রেণির এক ছাত্রীকে শুক্রবার তুলে নিয়ে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় রায়হান নামের এক কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ। নিহতের পরিবার জানায়, রাস্তা থেকে রায়হান তাকে অটোরিকশায় তুলে নিয়ে গিয়ে মাইজদীর এক বাসায় আটকে রেখে ধর্ষণ করে। পরে ভুক্তভোগী তার বড়বোনকে ফোনে বিষয়টি বলে দেওয়ায় বন্ধুদের নিয়ে তাকে হত্যা করে রায়হান। পরে হত্যাকারীরা লাশ হাসপাতালে নিয়ে এলে পুলিশ অভিযুক্ত রায়হানকে আটক করে।
সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ উদ্দিন জানান, রায়হান জানিয়েছে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ওই ছাত্রী আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরে তাকে হাসপাতালে আনলে মারা যায়। নিহতের পরিবার থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
মাদারীপুর : বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ১০ম শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে শহরের পুরানবাজার এলাকার আবাসিক হোটেলে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে দুই সন্তানের বাবা আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে। অসুস্থ অবস্থায় ওই শিক্ষার্থীকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তির সময় অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আব্দুর রহমান সদর উপজেলার ঝাউদি গ্রামের আবেদ আলী আকনের ছেলে। রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তার ৩ সহযোগীকে আটক করেছে।
ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, আড়াই বছর আগে আব্দুর রহমান নিজের বিয়ের কথা গোপন করে মোবাইল ফোনে ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। ওইদিন হোটেলে নিয়ে শিক্ষার্থীকে একাধিকবার ধর্ষণ করে সে।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালে নির্যাতিতার সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত জানা গেছে। এ ব্যাপারে রাতে একটি মামলা হয়েছে।
গাজীপুর : এক পোশাককর্মীকে গণধর্ষণের অভিযোগে বৃহস্পতিবার সুজন ও বাবুল নামে দুজনকে গ্রেফতার করেছে শ্রীপুর থানা পুলিশ। এ ঘটনায় আরও দুইজন পলাতক আছে। চারজনকে আসামি করে থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী নারী। আসামিরা হল- উপজেলার ধামলই গ্রামের মজনু মিয়ার ছেলে সুজন (২৪), মুলাইদ গ্রামের মুন্না (২২), মাওনা উত্তরপাড়া গ্রামের সজল মাস্টারের বাড়ির কেয়ারটেকার দুলু (৪৫) ও বাবুল (৪৮)।
শ্রীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) গোলাম সারোয়ার জানান, উপজেলার মাওনা উত্তরপাড়া গ্রামের একটি বাড়ির কেয়ারটেকার হিসাবে কাজ করেন দুলু ও বাবুল। ওই বাড়ির ভাড়াটিয়া দম্পতির এক বান্ধবী ভালুকা থেকে ওই বাড়িতে বেড়াতে আসেন। বুধবার রাত ২টার দিকে দুলু ও বাবুল ঘুমিয়ে থাকা ওই ভুক্তভোগীকে তুলে নিয়ে পাশের একটি কক্ষে আটকে রাখে। পরে সুজন ও মুন্না হত্যার হুমকি দিয়ে তাকে পর্যায়ক্রমে একাধিকবার ধর্ষণ করে।
ময়মনসিংহ : জেলার ভালুকায় ৫ম শ্রেণির এক শিশু শিক্ষার্থী ও প্রতিবন্ধীসহ তিনজন ধর্ষণের শিকার হয়েছে। পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে ভালুকা উপজেলার রান্দিয়া গ্রামের ওই ছাত্রীকে (১০) বাড়িতে রেখে তার মা-বাবা বাড়ির পাশে ইসলামি সভা শুনতে যান। একা পেয়ে প্রতিবেশী আজিজুল হক (৪০) শিশুটিকে ধর্ষণ করে। শিশুটির মা-বাবা বাড়ি ফিরে ঘটনাটি জানতে পারেন ও তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় প্রথমে ভালুকা সরকারি হাসপাতাল ও পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
অপরদিকে উপজেলার হবিরবাড়ি সিডস্টোর বাজারে অজ্ঞাতনামা বাকপ্রতিবন্ধীকে (৩৫) বাজারের ঝাড়ুদার মেহেরাবাড়ি তালতলা গ্রামের সোহাগ বাঁশফুর ওরফে গৌতম (২১) সোমবার ভোররাতে ধর্ষণ করে। পরে ধর্ষণের শিকার ওই প্রতিবন্ধী নারী ইশারায় ঘটনাটি স্থানীয়দের জানালে পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে আসে। পরে মডেল থানার এসআই সাঈদারা রিটা বাদী হয়ে মামলা করেন। অভিযুক্ত গৌতমকে গ্রেফতার করে শুক্রবার সকালে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
এছাড়া উপজেলার মাহমুদপুর গ্রামে ধর্ষণের অভিযোগে প্রতিবেশী সাদিকুর রহমানের (৩০) বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার রাতে ভালুকা মডেল থানায় মামলা করেছেন দুই সন্তানের মা (২৮)। ধর্ষণের ঘটনা ঘটে ৫ জানুয়ারি।
Like this:
Like Loading...
নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
Leave a Reply