দেশে করোনা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যু ও সংক্রমণ। হচ্ছে নতুন রেকর্ড। করোনায় ইতোমধ্যে মৃত্যু ১৬ হাজার ছাড়িয়েছে। শনাক্ত ছাড়িয়েছে ১০ লাখ। আর মাত্র ছয় দিনে এক হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। করোনা শনাক্তের পর এত অল্প সময়ে এত লোকের প্রাণহানি হয়নি। ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুতে ফের রেকর্ড হয়েছে। এদিন দেশে সর্বাধিক ২১২ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে করোনা। এর আগে ৬ জুলাই দেশে সর্বোচ্চ ২০১ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ২৭ জুনের পর প্রতিদিন শতাধিক মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। এ নিয়ে দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৪ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে খুলনা বিভাগে সর্বোচ্চ ৭৯ জন। এরপর ঢাকা বিভাগে ৫৩ জন। রেকর্ড মৃত্যুর দিনে সংক্রমণ ও শনাক্তের হার কিছুটা কমেছে। আর ২৪ ঘণ্টায় আরও ১১৩২৪ জনের শরীরে নতুন করে সংক্রমণ ধরা পড়েছে। আগের দিন রেকর্ড ১১৬৫১ জন শনাক্ত হয়। সবমিলিয়ে দেশে করোনা শনাক্তের সংখ্যা ১০ লাখ ৫৪৩ । ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ৩০ দশমিক ৯৫ শতাংশ। আগের দিন এ হার ছিল ৩১ দশমিক ৬২ শতাংশ। সরকারি হিসাবে ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৬০৩৮ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৮ লাখ ৬২ হাজার ৩৮৪ জন। শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এদিকে করোনায় সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় রাজধানীসহ দেশের হাসপাতালগুলোতে রোগীর উপচে পড়া ভিড়। অনেক হাসপাতালে ফাঁকা নেই সাধারণ শয্যাও। আইসিইউ যেন সোনার হরিণ। অনেক স্থানে দেখা দিয়েছে অক্সিজেন সংকট। এমন পরিস্থিতিতে করোনা রোগীরা পড়ছেন চরম বিপাকে।
দেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ে গত বছর ৮ মার্চ। প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। চলতি বছরের ১১ জুন ১৩ হাজার কোভিড-১৯ রোগীর মৃত্যুর খবর জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ২৬ জুন এই সংখ্যা ১৪ হাজার ৫৩ জনে পৌঁছায়। এরপর মাত্র আট দিনে আরও এক হাজার লোকের প্রাণ কেড়ে নিল করোনা। ৪ জুলাই ১৫ হাজার ছাড়িয়ে যায় মৃত্যু। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সারা দেশে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৬১৩টি ল্যাবে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা হয়েছে। এর মধ্যে আরটি-পিসিআর ল্যাব ১৩০টি, জিন এক্সপার্ট ৪৮টি, র্যাপিড অ্যান্টিজেন ৪৩৫টি। এসব ল্যাবে ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ৩৯ হাজার ২০৯টি। মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৩৬ হাজার ৫৮৬টি। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৬৯ লাখ ৩ হাজার ২৬৮টি। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় এ পর্যন্ত শনাক্তের হার ১৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৬ দশমিক ১৯ এবং মৃত্যুও হার ১ দশমিক ৬০ শতাংশ। মারা যাওয়াদের মধ্যে পুরুষ ১১৯ ও নারী ৯৩ জন। এদের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ১৬০ জন, বেসরকারি হাসপাতালে ৩৬ জন ও বাড়িতে ১৬ জন মারা গেছেন। মৃতদের মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে ২৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ২৩ জন, বরিশাল বিভাগে পাঁচজন, সিলেট বিভাগে ছয়জন, রংপুর বিভাগে ১২ জন ও মময়মনসিংহ বিভাগে আটজন রয়েছেন। তাদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে ৯০ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৫৬ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৪০ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ১৭ জন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে সাতজন এবং ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে দুজন রয়েছেন।
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।Design & Development : It Corner BD.Com 01711073884.
Leave a Reply