হেফাজতে ইসলামের সাবেক যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তার কথিত ‘দ্বিতীয়’ স্ত্রী জান্নাত আরা ঝর্ণা। এতে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে। শুক্রবার সকালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানায় মামলাটি হয়। এ সময় জান্নাত আরা ঝর্ণার সঙ্গে ছিলেন তার বড় ছেলে আব্দুর রহমান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার ওসি হাফিজুর রহমান।
মামলা দায়েরের পর জান্নাত আরা ঝর্ণা সাংবাদিকদের বলেন, মামুনুল হক আমার সঙ্গে অনেকদিন ধরে প্রতারণা করে আসছিলেন। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করেছেন। ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক আটক করে রেখেছেন। আমি রাষ্ট্রের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
মামলার এজাহারে জান্নাত আরা ঝর্ণা উল্লেখ করেন, বিয়ের প্রলোভন ও অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে মামুনুল হক তার সঙ্গে অবৈধভাবে সম্পর্ক করেছেন। বিয়ের কথা বললে মামুনুল হক করছি, করব বলে সময়ক্ষেপণ করেন। ২০১৮ সাল থেকে ঘোরাঘুরির কথা বলে মামুনুল হক তাকে বিভিন্ন হোটেল, রিসোর্টে নিয়ে যান ও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করেন।
মামুনুলের সঙ্গে পরিচয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘২০০৫ সালে আমার স্বামী মাওলানা শহীদুল ইসলামের মাধ্যমে মামুনুল হকের সঙ্গে পরিচয় হয়। স্বামীর বন্ধু হওয়ায় আমাদের বাড়িতে মামুনুলের অবাধ যাতায়াত ছিল। মামুনুলের সঙ্গে পরিচয়ের আগে আমরা সুখে-শান্তিতে বসবাস করছিলাম। স্বামী-স্ত্রীর মতানৈক্যের মধ্যে প্রবেশ করে মামুনুল হক কৌশলে আমাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করতে থাকেন। একপর্যায়ে আমাদের দাম্পত্য জীবন চরমভাবে বিষিয়ে ওঠে। সাংসারিক এই টানাপোড়েনের মধ্যে মামুনুলের পরামর্শে আমাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়।’
অভিযোগে জান্নাত আরা ঝর্ণা আরও বলেন, ‘বিচ্ছেদের পর আমি সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পারিবারিকভাবে অসহায় হয়ে পড়ি। এ সময় মামুনুল আমাকে খুলনা থেকে ঢাকায় আসার জন্য বলেন। তাই ঢাকায় চলে আসি। মামুনুল আমাকে তার অনুসারীদের বাসায় রাখেন। সেখানে নানাভাবে আমাকে প্রস্তাব দেন। পারিপার্শ্বিক অবস্থার কারণে তার প্রলোভনে পা দিই। এরপর তিনি উত্তর ধানমন্ডির নর্থ সার্কুলার রোডের একটি বাসায় আমাকে সাবলেট রাখেন। একটি বিউটি পারলারে কাজের ব্যবস্থা করে দেন। ঢাকায় থাকার খরচ মামুনুলই দিচ্ছিলেন।’
অভিযোগে তিনি বলেন, ৩ এপ্রিল ঘোরাঘুরির কথা বলে মামুনুল হক আমাকে সোনারগাঁয়ের রয়্যাল রিসোর্টে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থানকালে কিছু মানুষ আমাদের আটক করে ফেলে। তবে মামুনুল হকের অনুসারীরা রিসোর্টে হামলা করে আমাদের ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। পরে মামুনুল হক আমাকে নিজের বাসায় ফিরতে না দিয়ে পরিচিত একজনের বাসায় অবৈধভাবে আটকে রাখেন। কারও সঙ্গে যোগাযোগও করতে দেননি। কৌশলে বিষয়টি আমার বড় ছেলেকে জানাই এবং আমাকে বন্দিদশা থেকে উদ্ধারের জন্য আইনের আশ্রয় নিতে বলি। এরপর ডিবি পুলিশ আমাকে উদ্ধার করলে জানতে পারি, আমার বাবা রাজধানীর কলাবাগান থানায় আমাকে উদ্ধারের জন্য সাধারণ ডায়েরি করেছেন। উদ্ধারের পর পুলিশ আমাকে বাবার জিম্মায় দেয়।
জানা যায়, জান্নাত আরা ঝর্ণার বাবা ওলিয়ার রহমানকে ২৪ এপ্রিল জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাজধানী ঢাকার গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল হেফাজতে নেয়। আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুর থেকে তাকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। এরপর ২৬ এপ্রিল মেয়েকে উদ্ধারে পুলিশের সহায়তা চেয়ে ওলিয়ার রহমান কলাবাগান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরদিন মোহাম্মদপুরের একটি বাসা থেকে ঝর্ণাকে উদ্ধার করে ডিবি পুলিশ। উদ্ধারের তিন দিনের মাথায় শুক্রবার সোনারগাঁ থানায় মামুনুল হকের বিরুদ্ধে মামলা করেন জান্নাত আরা ঝর্ণা।
জানতে চাইলে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাফিজুর রহমান বলেন, মামুনুল হকের কথিত ‘দ্বিতীয়’ স্ত্রী জান্নাত আরা ঝর্ণা একটি মামলা করেছেন। এরপর তাকে (ভিকটিম জান্নাত আরা ঝর্ণা) ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে প্রেরণ করা হয়।
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।Design & Development : It Corner BD.Com 01711073884.
Leave a Reply