ফেরিতে উপচে পড়া ভিড় বিকল্প ব্যবস্থায় ছুটছে ঘরমুখো মানুষ
আপডেট সময় :
শনিবার, ৮ মে, ২০২১
৩২৬
০ বার সংবাদটি পড়া হয়েছে
অনলাইন ডেস্কঃ
বিকল্প ব্যবস্থায় ছুটছে ঘরমুখো মানুষ
লকডাউনের বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে বিকল্প ব্যবস্থায় রাজধানী ছাড়ছেন ঘরমুখো মানুষ। দূরপাল্লার গণপরিবহণ বন্ধ, তাই আগেভাগেই ঈদযাত্রা শুরু করেছেন অনেকে। শুক্রবার শিমুলিয়া-বাংলাবাজার এবং পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাটে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। যাত্রীদের ভিড় সামলাতে না পেরে অনেক ফেরি কোনো গাড়ি না নিয়েই গন্তব্যে রওয়ানা হয়। ফলে সহস্রাধিক পণ্যবাহী ও ব্যক্তিগত গাড়ির জট সৃষ্টি হয়েছে শিমুলিয়া ঘাটে। ফেরিতে যানবাহনের বিপরীতে ছিল শুধু মানুষ আর মানুষ। শিমুলিয়া থেকে বাংলাবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া এক ফেরিতেই ওঠেন প্রায় ১২শ যাত্রী। অন্যদিকে আন্তঃজেলা বাস বন্ধ থাকায় ভেঙে ভেঙে বাড়ি ফিরছেন সড়কপথের যাত্রীরাও। প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস ও পিকআপসহ ছোট ছোট যানবাহনে চড়ে গন্তব্যে ছোটেন তারা। ঈদযাত্রীদের এমন ভিড়ে সামাজিক দূরত্ব বা স্বাস্থ্যবিধি ছিল একেবারেই উপেক্ষিত। মাস্কও ছিল না অনেকের মুখে।
ঘরমুখো মানুষের ঢল শুরু হয় রাজধানী থেকেই। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ নানা বাহনে করে পৌঁছান ফেরিঘাটে। শুক্রবার সারাদিনই শিমুলিয়া ও পাটুরিয়া ঘাটে ছিল মানুষের ঢল। সকাল থেকে শুরু হয় এই স্রোত। ফেরিতে গাদাগাদি করে পদ্মা পাড়ি দেন যাত্রীরা। এছাড়া অনেককেই ট্রলারে ঝুঁকি নিয়েও নদী পার হতে দেখা গেছে। সন্ধ্যার পর মানুষের চাপ কিছু কমলেও ঘাটে ব্যক্তিগত গাড়ির চাপ বেড়ে যায়। জানা গেছে, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাটে ছোট ৬টি ফেরি দিয়ে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার করা হচ্ছিল। তবে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় শুক্রবার দুপুরের পর থেকে ১৬টি ফেরি চালু করা হয়।
রাজধানীর বিভিন্ন বাস টার্মিনালে ঘরমুখো মানুষের ভিড় দেখা যায়। লকডাউনের বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে শহর ছাড়ছেন তারা। আন্তঃজেলা বাস চলাচল বন্ধ থাকায় প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস ও পিকআপে বাড়ির পথ ধরেন তারা। তবে বেশিরভাগই যাচ্ছেন ভেঙে ভেঙে। এতে খরচ ও ভোগান্তি দুটোই বেড়েছে। যাত্রীদের প্রায় সবাই অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে- ব্যক্তিগত গাড়ি বা ট্রাকে যাত্রী পরিবহণের জন্য মামলাও দেওয়া হচ্ছে।
ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-
শিবচর (মাদারীপুর) : সেহরি খেয়ে ব্যক্তিগত গাড়িতে ঢাকা থেকে রওয়ানা দেন ওষুধ ব্যবসায়ী আকতারুজ্জামান খান। যাবেন মাদারীপুর। শিমুলিয়া পর্যন্ত আসতে কোনো ঝামেলাই হয়নি তার। কিন্তু মানুষের ভিড়ে কোনোভাবেই ফেরিতে গাড়ি ওঠাতে পারছিলেন না। পরে চালকের কাছে গাড়ি দিয়ে পরিবার নিয়ে ফেরিতে ওঠেন তারা। তিনি বলেন, ফেরিতে গাড়ি উঠানোর জন্য দুপুর ১২টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেছি। কিন্তু যাত্রীদের ভিড়ে তা কোনোভাবেই সম্ভব হয়নি। পরে আমার দেড় মাসের বাচ্চাসহ ফেরিতে চড়ে আসতে হলো। প্রায় দেড় হাজার মানুষ ওই ফেরিতে পার হয়েছেন বলে জানান তিনি। বেলা সোয়া ১১টার দিকে শিমুলিয়া থেকে রো-রো ফেরি এনায়েতপুরী শুধু যাত্রী নিয়েই শিবচরের বাংলাবাজার ঘাটে এসে ভেড়ে। ফেরিটিতে ১২শ যাত্রী ছিল বলে ফেরিঘাট সূত্রে জানা গেছে।
বরিশালের যাত্রী ফারজানা আক্তার বলেন, ঈদের আগ মুহূর্তে যাত্রীদের আরও ভিড় বেড়ে যেতে পারে। তাই কয়েকদিন আগেই বাড়ি যাচ্ছি।
বাংলাবাজার ঘাটের ম্যানেজার সালাউদ্দিন জানান, শিমুলিয়া প্রান্ত থেকে কোনোভাবে পরিবহণ নিয়ে ফেরি আসতে পারছে না। ফেরি ঘাটে নোঙর করার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ উঠে যায়। আর কোনো ধরনের গাড়ি ফেরিতে উঠানো সম্ভব হয় না।
গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) : দূরপাল্লার যানবাহন বন্ধ থাকায় ছোট ছোট বিভিন্ন যানবাহনে পাটুরিয়া ফেরিঘাটে আসছে অসংখ্য মানুষ। পাটুরিয়া থেকে ফেরিতে গাদাগাদি করে পদ্মা নদী পার হয়ে দৌলতদিয়া ঘাটে আসছেন ঘরমুখো মানুষ। শুক্রবার বেলা ১১টায় দৌলতদিয়া ঘাটে দেখা যায়, পাটুরিয়া থেকে ছেড়ে আসা বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর নামের একটি রো-রো ফেরি প্রায় ৭ শতাধিক যাত্রী নিয়ে দৌলতদিয়া ঘাটে পৌঁছে। এ সময় প্রখর রোদে নারী, শিশু ও বয়স্করা হাঁপিয়ে ওঠেন। গাজীপুর থেকে আসা যাত্রী বিল্লাল খান বলেন, পরিবার নিয়ে যশোরের জিকরগাছা গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছি। সাবাইকে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে আমি আবার গাজীপুর ফিরব। দূরপাল্লার পরিবহণ না চলায় ভেঙে ভেঙে যেতে হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে সিন্ডিকেট থাকায় অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে আমাদের যেতে হচ্ছে।
মুন্সীগঞ্জ : শুক্রবার সকাল থেকে শিমুলিয়া ফেরি ঘাটে ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে। স্পিড বোট ও লঞ্চ বন্ধ থাকায় ফেরিতে করে যাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। ফেরিতে লোকের চাপে যানবাহন উঠার সুযোগই পাচ্ছে না। যাত্রীদের সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে বিআইডব্লিউটিএ ও স্থানীয় পুলিশ। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহণ করপোরেশন (বিআইডাব্লিউটিসি) শিমুলিয়াঘাট সহকারী মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) শফিকুল ইসলাম জানান, ঘাট এলাকায় পারাপারের অপেক্ষায় আটকা পড়েছে ব্যক্তিগত ও পণ্যবাহী ৯ শতাধিক যানবাহন।
বরিশাল : অন্য বারের ঈদের চেয়ে এবার আগেভাগেই বরিশালে আসছে মানুষ। আর্থিকভাবে সচ্ছল মানুষ ঢাকা ছাড়ছেন প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাস ভাড়া করে, অন্যরা আসছেন জেলায় জেলায় বাস পাল্টিয়ে। আবার নিু আয়ের মানুষ ঢাকা ছাড়ার পরই ব্যবহার করছে নসিমন, করিমনসহ স্থানীয় পরিবহণ। বরিশাল পটুয়াখালী মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাওসার হোসেন সিপন জানান, আমরা জেলার মধ্যে বাস সার্ভিস দিচ্ছি। কিন্তু যাত্রীরা জেলা পার হচ্ছেন। তারা যাচ্ছেনই। তাদের আটকানো যাচ্ছে না। বরং যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে সেটা মানুষকে আরও দুর্ভোগে ফেলছে। মানুষ এখন ভেঙে ভেঙে যাচ্ছেন। এতে অর্থ ব্যয় যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে ভোগান্তি।
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।Design & Development : It Corner BD.Com 01711073884.
Leave a Reply