খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ বাড়াতে আবেদন
-
আপডেট সময় :
বৃহস্পতিবার, ৪ মার্চ, ২০২১
-
৪৫৮
০ বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

অনলাইন ডেস্ক //
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দণ্ড স্থগিত করে মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো ও শর্ত শিথিলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছে তার পরিবার। মঙ্গলবার দুপুরে খালেদা জিয়ার ভাই শামীম এস্কান্দার এ আবেদন পৌঁছে দেন। এ প্রসঙ্গে বুধবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল তার নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের জানান, খালেদা জিয়ার দণ্ডটা বোধহয় শেষ হয়ে যাচ্ছে। সেজন্য তারা আবার সময়টা এক্সটেনশন করার জন্য, আরও কিছু শর্ত শিথিল করে এক্সটেনশন চেয়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে করা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দণ্ড স্থগিতের মেয়াদ বাড়ানো, মওকুফ এবং শর্ত শিথিলের আবেদন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। এখন মুক্তির মেয়াদ আরও বাড়ানোর আবেদনের বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত চাওয়া হবে।
তারা কী চেয়েছেন জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, তারা তাদের পত্রে শর্ত আরও শিথিল করে, করোনাকালে চিকিৎসা নিতে পারেননি সেটি জানিয়েছেন। এছাড়া তার দণ্ডাদেশ মওকুফ করা যায় কি না সে বিষয়েও আবেদনে বলেছেন। এখন পরবর্তী প্রক্রিয়া কী হবে তা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, আমরা তো বলছি এটা আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠাব। আইন মন্ত্রণালয় থেকে মতামত এলে আমাদের যথাযোগ্যদের সঙ্গে আলাপ করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। চিঠি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা মাত্র গতকাল (মঙ্গলবার) আসল, পাঠানো হবে।
আবেদনে খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেয়ার ব্যাপারে অনুমতি চাওয়া হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এটা সবসময় তার চিঠিতে লেখা থাকে। রেফারেন্সে থাকে বিদেশে যাওয়ার, সেরকম লেখা থাকে কিন্তু উনি তো এখনও কারাগারেই আছেন। তার বাড়িটা এখন কারাগার হিসেবেই তিনি এখানে আছেন।
সাজা মওকুফের কোনো সুযোগ আইনগতভাবে আছে কি না তা জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সেটা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য আবেদন করেছে। আমরা পরীক্ষা করে দেখছি। আমি তো আগেই বলেছি আমাদের প্রধানমন্ত্রী সব সময় যতখানি সম্ভব সেটুকু ব্যবস্থা উনি করছেন। প্রধানমন্ত্রী হলেন মানবতার জননী। তিনি যখনই কাউকে দেখেন এ রকম অবস্থায় তখন তো তিনি সবসময় তার সহযোগিতা করে থাকেন। এক্ষেত্রেও তিনি তাকে উন্নত চিকিৎসা তার বাসায় থেকে যাতে আরও সুন্দরভাবে পায়, সেজন্যই তিনি শর্তসাপেক্ষে তার বাসায় থাকার অনুমতির ব্যবস্থা করেছেন।
জানতে চাইলে খালেদা জিয়ার আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। উনাকে মুক্তি দেয়া হলেও কার্যত এখনও কারাবন্দি। উনার বিশেষায়িত চিকিৎসা দরকার কিন্তু তা হচ্ছে না। এটা তার সাংবিধানিক ও আইনগত অধিকার। সেই অধিকার থেকে সরকার তাকে বঞ্চিত করছে। চিকিৎসা সেবা পেতে বাধা দেয়া হচ্ছে।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত খালেদা জিয়া সরকারের নির্বাহী আদেশে গত বছরের ২৫ মার্চ মুক্তি পান। মুক্তিতে দুটি শর্ত জুড়ে দেয়া হয়- এ সময় খালেদা জিয়া নিজ বাসায় থেকে তার চিকিৎসা গ্রহণ করবেন এবং তিনি দেশের বাইরে যেতে পারবেন না। ২৪ সেপ্টেম্বর ছয় মাসের দণ্ড মওকুফের সময়ে পেরিয়ে যাওয়ার আগে পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দ্বিতীয় দফায় ৬ মাসের জন্য সাজা স্থগিত করে সরকার। যা ২৪ মার্চ শেষ হবে। এর আগেই মঙ্গলবার পরিবারের পক্ষ থেকে দণ্ড স্থগিতের মেয়াদ বাড়ানোসহ কয়েকটি দাবি জানিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে।
Like this:
Like Loading...
নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
Leave a Reply