অনলাইন ডেস্কঃ
সরকারের চলমান ছয়টি উন্নয়ন প্রকল্পে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি খুঁজে পেয়েছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে-ক্রয় আইন ও বিধিমালা না মানা, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রীর ব্যবহার, যথাযথ মনিটরিং না করা, ডিপিপি বা আরডিপিপি অনুযায়ী বছরভিত্তিক আর্থিক ও ভৌত কাজের পরিকল্পনা প্রস্তুত না করা।
এ ছাড়া তৈরি করা হয়নি ডিপিপিতে সংযুক্ত ক্রয় পরিকল্পনার সঙ্গে মিল রেখে বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা। এমনকি পরিপত্র অনুযায়ী নিয়মিত পিআইসি (প্রজেক্ট ইমপ্লিমেন্টেশন কমিটি বা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) ও পিএসসি (প্রকল্প স্টিয়ারিং কমিটি) সভাও হয়নি। বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (ইমপ্লিমেন্টেশন, মনিটরিং অ্যান্ড ইভাল্যুশন ডিভিশন বা আইএমইডি) নিবিড় পরিবীক্ষণ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন চিত্র।
বিদ্যমান অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে প্রকল্প তিনটির নির্ধারিত সময়ে কাজ সম্পন্ন করা দুরূহ হবে। পাশাপাশি টেকসই বাস্তবায়নও হুমকিতে-এমন আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের। প্রকল্পগুলো হচ্ছে-‘ঢাকার মিরপুরে ৯নং সেকশনে ১৫টি ১৪ তলাবিশিষ্ট আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ (দ্বিতীয় পর্যায়)’, ‘৬৪ জেলা সমাজসেবা কমপ্লেক্স নির্মাণ (প্রথম পর্যায়ে ২২ জেলা) প্রকল্প এবং ‘সব জেলায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ’ প্রকল্প। এ ছাড়া আছে ‘বিকেএসপি’র প্রমীলা প্রশিক্ষণার্থীদের উন্নয়ন’, ‘ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ডুবুরি ইউনিট সম্প্রসারণ’ এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার, রাজশাহী স্থাপন প্রকল্প। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ট্রান্সপ্যারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে সরকারি ক্রয় আইন ও বিধিমালার লংঘন বিষয়ে এর আগে বিভিন্ন গবেষণায় আমরা দেখিয়েছি। আইএমইডি’র এরকম প্রতিবেদন তৈরি প্রশংসনীয় পদক্ষেপ। তবে তারা যেসব বিষয় চিহ্নিত করেছে সেগুলোর সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। কেননা আইনের চোখে সবাই সমান।
আইএমইডির সচিব প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী যুগান্তরকে বলেন, আমরা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে পরিবীক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। তারা যেসব তথ্য নিয়ে এসেছে সেগুলোর বিষয়ে প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আবার বৈঠক করা হয়েছে। তার পরই প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয়। এখন এসব প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। যাতে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে। সেই সঙ্গে আগামীতে যেন কোনো প্রকল্পে একই ধরনের ত্রুটি না থাকে। তবে মন্ত্রণালয়গুলোকে একটি নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হবে। এর মধ্যে আইএমইডির সুপারিশ অনুযায়ী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা জানাতে হবে।
আইএমইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ঢাকার মিরপুরে ৯নং সেকশনে ১৫টি ১৪ তলাবিশিষ্ট আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ (দ্বিতীয় পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পে নানা অনিয়ম হয়েছে। এক্ষেত্রে সরকারি ক্রয় আইন মেনে দরপত্র আহ্বান করা হয়নি। এমনকি অনুমোদিত ডিপিপির (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) বাইরেও কাজ করা হয়েছে।
প্রকল্পটি জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের নিজস্ব অর্থায়নে ৯৩৬ কোটি তিন লাখ ১৭ হাজার টাকা ব্যয়ে ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ডিসেম্বর মেয়াদে বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় অনুমোদিত অংশগুলোর বছরভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা ডিপিপিতে থাকলেও গত অর্থবছরগুলোতে সময়ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হয়নি।
কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্পের আওতায় ১৫টি ১৪ তলাবিশিষ্ট ভবনে সর্বমোট এক হাজার ৫৬০টি ফ্ল্যাট নির্মাণকাজ চলছে। তবে কোনো ভবনের কাজ পুরোপুরিভাবে সম্পন্ন হয়নি। প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি গড়ে ৫৫ শতাংশ এবং চলতি বছরের মে পর্যন্ত আর্থিক অগ্রগতি ৪২ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ যা সন্তোষজনক নয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে-ডিপিপিতে সংযুক্ত ক্রয় পরিকল্পনার সঙ্গে মিল রেখে বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা তৈরি করা হয়নি। এ ছাড়া পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে দরপত্র অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের মধ্যে ব্যত্যয় ঘটেছে। যেখানে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস-২০০৮ (সরকারি ক্রয় বিধিমালা)-এর ব্যত্যয় করা হয়েছে।
পণ্য ক্রয়ের ছয়টি প্যাকেজের মধ্যে মাত্র একটি প্যাকেজের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে এবং অন্য একটি প্যাকেজের দরপত্র আহ্বান ছাড়া চারটি কম্পিউটার ক্রয় করা হয়েছে। জিডি-০২ প্যাকেজের আওতায় দুটি মোটরসাইকেল এবং একটি জিপ গাড়ি ক্রয় করা হয়েছে। কার্যক্রমের ২০টি প্যাকেজের মধ্যে ১১টি প্যাকেজের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।
কিন্তু প্যাকেজ নং ডব্লিউডি-৩ থেকে ডব্লিউ-১১ পর্যন্ত ৯টি প্যাকেজ ডিপিপি অনুযায়ী দরপত্র আহ্বান করা হয়নি। এক্ষেত্রে প্যাকেজ নম্বর পরিবর্তন করে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে, যেখানে ডিপিপির ব্যত্যয় হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ডিপিপি এবং পরিপত্র অনুযায়ী নিয়মিত পিআইসি ও পিএসসি সভা অনুষ্ঠিত হয়নি।
সরেজমিন গিয়ে ১১.১৬, ১৭, ১৮ ও ২৪নং ভবনে ব্যবহৃত ইটের মান সন্তোষজনক পাওয়া যায়নি। চলমান কাজে একেক ভবনে একেক ধরনের রেইনফোর্সমেন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে, যেমন ভবন নং-১৭-তে হাই-টিস রেইনফোর্সমেন্ট আবার অন্য ভবনে আরেক রেইনফোর্সমেন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে, যেগুলো বাজারের শীর্ষস্থানীয় কোনো রেইনফোর্সমেন্ট নয়। ভবনের ফলস স্ল্যাব ও লিন্টেলের ঢালাই কাজে ব্যবহৃত পাথরগুলো মানসম্মত নয়।
৬৪ জেলা সমাজসেবা কমপ্লেক্স নির্মাণ (প্রথম পর্যায়ে ২২ জেলা) : ‘৬৪ জেলা সমাজসেবা কমপ্লেক্স নির্মাণ (প্রথম পর্যায়ে ২২ জেলা) শীর্ষক প্রকল্পেও রয়েছে নানা অনিয়ম। সেই সঙ্গে প্রকল্প তৈরি সঠিকভাবে না হওয়ায় বাস্তবায়নে বিরাজ করছে ধীরগ
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।Design & Development : It Corner BD.Com 01711073884.
Leave a Reply