অনলাইন ডেস্কঃ
আমাদের দেশে স্বেচ্ছায় রক্তাদাতার শতকরা হার মাত্র ৩৪ শতাংশ। তবে উন্নত বিশ্বের পাশাপাশি এশিয়ার অনেক দেশে এটি ১০০ শতাংশের কাছাকাছি। বিশেষত শ্রীলংকা ও থাইল্যান্ডে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের মধ্যে আমাদের দেশে স্বেচ্ছায় রক্তদানের হার শতভাগ হওয়ার কথা ছিল। অর্থাৎ নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো লক্ষ্য থেকে ৬৬ শতাংশ দূরে রয়েছে দেশের স্বেচ্ছায় রক্তাদান কার্যক্রম।
রক্ত পরিসঞ্চালন বিশেষজ্ঞদের মতে, রক্তদানের ফলে রক্তদাতার বিলিরুবিন, কোলেস্টেরল, সাইটোকাইন, পার অক্সাইড কমে যায়। এছাড়া হিমোগ্লোবিন পুনরায় পূরণের সঙ্গে সঙ্গে ডায়াবেটিস, হার্ট অ্যাটাক, উচ্চরক্তচাপ, স্থূলতা, হৃদযন্ত্র অন্যদের তুলনায় ভালো থাকে। নতুন রক্ত কোষ তৈরি হওয়ায় রক্তদাতার অক্সিজেন পরিবহণের ক্ষমতা বাড়ে। রক্তের হিমোগ্লোবিন বাড়ার পাশাপাশি শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। সেরাম কোলেস্টেরল, ট্রাইগ্লিসারাইড এবং এলডিএল কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমে যায়। ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সি যে কোনো সুস্থ মানুষ প্রতি চার মাস পর এক ব্যাগ রক্ত দিতে পারেন। প্রতিবছর বিশ্বে প্রায় ৫ লাখ নারী প্রসবজনিত কারণে মারা যান। এর মধ্যে দেড় লাখ নারীর মৃত্যু হয় রক্তের অভাবে। দুর্ঘটনাজনিত কারণে ৫-২৯ বছরের মানুষ বেশি মারা যান রক্তের অভাবে। সারা বিশ্বে ১১৮ কোটি ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন হয় প্রতিবছর। এর শতকরা ৫০ ভাগই সংগ্রহ করা হয় উন্নত বিশ্বে। যারা বিশ্বের জনসংখ্যার মাত্র ১৮ শতাংশ। বিশ্বের ৭৩ দেশে ৯০ শতাংশের বেশি রক্ত সংগ্রহ করা হয় স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের কাছ থেকে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২০০০ সাল থেকে দেশে নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন কর্মসূচি বাস্তবায়ন হচ্ছে। দেশে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে ৩৫৪টি কেন্দ্রের মাধ্যমে রক্ত পরিসঞ্চালন করা হয়। বছরে দেশে ৯ লাখ ব্যাগের বেশি রক্তের প্রয়োজন হয়। তবে স্বেচ্ছায় রক্তদানের মাধ্যমে আসে মাত্র তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ ব্যাগ। দেশে স্বেচ্ছায় রক্তাদাতার হার এক শতাংশের নিচে। মূলত সচেতনতার অভাব, রক্তশূন্যতা, ক্যানসার ও কিডনি রোগে আক্রান্ত, গর্ভবতী নারী এবং ভীতির কারণে অনেকে রক্তদান থেকে বিরত থাকেন। তবে দেশের কতভাগ মানুষ রক্তশূন্যতায় ভোগে, এর কোনো হিসাব নেই সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়ে। জানা গেছে, ২০০০ সালে দেশে স্বেচ্ছায় রক্তদানের পরিমাণ ছিল শতকরা ১০ ভাগ, যা বর্তমানে ৩৪ ভাগে উন্নীত হয়েছে। দেশে ৩০টি কেন্দ্র থেকে রক্তের উপাদান পৃথককরণ এবং ২০টি কেন্দ্র থেকে অ্যাফোরেসিস সুবিধা চলমান রয়েছে। ১৯৫০ সালের ১ মার্চ এদেশে বাংলাদেশে রক্ত পরিসঞ্চালন সেবা শুরু হয়। ১৯৫২ সালে বাংলাদেশ ব্লাড ট্রান্সফিউশন সার্ভিস কমিটি গঠন করা হয়। ১৯৫৪ সালে বাংলাদেশে ব্লাড ট্রান্সফিউশন সার্ভিস উন্নয়নে ‘বাই-ল’ প্রণয়ন করা হয়। এ প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্লাড ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. আসাদুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন নিশ্চিতে স্বেচ্ছায় রক্তদানের বিকল্প নেই। রক্তের মাধ্যমে হেপাটাইটিস-বি ও সি, সিফিলিস, ম্যালেরিয়া ইত্যাদি সংক্রমণ ব্যাধি ছড়াতে পারে। একমাত্র স্বেচ্ছায় রক্তদান ও রক্তের স্ক্রিনিং পরীক্ষা এসব প্রাণঘাতী রোগের বিস্তার রোধে সক্ষম। অগণিত মানুষের জীবন রক্ষার্থে স্বেচ্ছায় রক্তদানকে একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে। এজন্য অবশ্যই যথেষ্ট প্রচার-প্রচারণা থাকতে হবে। স্বেচ্ছায় রক্ত দিতে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। অধ্যাপক আসাদ বলেন, এসব কাজের সমন্বয়ে একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান থাকা দরকার। এ বিষয়টি সরকারের বিবেচনাধীন।
এমনকি নির্মাণকাজের জন্য আট কোটি টাকা বরাদ্দ আছে।
জানা গেছে, প্রতিবছর বিশ্বে ১১৮ কোটি ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করা হয়। আমাদের দেশে ৯ লাখের কিছু বেশি ব্যাগ সংগ্রহ হয়ে থাকে। এর মধ্যে ৩৪ শতাংশ স্বেচ্ছায় রক্তদানের মাধ্যমে এবং ৬৬ শতাংশ আসে আত্মীয় রক্তদাতাদের কাছ থেকে। তবে থাইল্যান্ডে শতভাগ, শ্রীলংকায় ৯৬ ভাগ এবং ভারতে ৮৫ ভাগ রক্ত আসে স্বেচ্ছায় রক্তদাতদের কাছ থেকে। বিশ্বের প্রায় ৬০টি দেশে শতভাগ স্বেচ্ছায় রক্তদানের মাধ্যমে সংগৃহীত হয়। উন্নত বিশ্বে স্বেচ্ছায় রক্তদানের হার হাজারে ৪০ জন। অন্যদিকে উন্নয়নশীল বিশ্বে হাজারে চারজনেরও কম। দেশের জনগোষ্ঠীর ২ শতাংশ বছরে একবার রক্তদান করলে আর অভাব থাকবে না।
রক্ত পরিসঞ্চালন বিশেষজ্ঞ ডা. শেখ দাউদ আদনান যুগান্তরকে বলেন, বাংলাদেশে নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালনের জন্য ‘নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন আইন-২০০২’ রয়েছে। নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন বিধিমালা-২০০৮ রয়েছে। রয়েছে ন্যাশনাল ব্লাড পলিসি। এই আইন-২০০২-এর আলোকে ‘জাতীয় নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন কাউন্সিল’ রয়েছে। শুধু স্বেচ্ছায় রক্তদাতার অভাব। দেশের মাত্র ১ শতাংশ মানুষ নিয়মিত রক্ত দিলে প্রয়োজনের অতিরিক্ত রক্ত পাওয়া সম্ভব। তবে ধর্মীয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে প্রতিবছর নতুন রক্তদাতা সৃষ্টি হয় না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রক্তের কোনো বিকল্প নেই। এটা ফার্মেসি থেকে কেনা যায় না, কোনো ল্যাবরেটরিতে তৈরি হয় না। শুধু মানুষ পারে রক্তদান করতে এবং রক্ত সংগ্রহ করে রোগীদের পরিসঞ্চালন করতে। একজন সম্ভাব্য রক্তদাতা প্রতি চার মাস অন্তর রক্ত দিতে পারেন। দানকৃত রক্তের কার্যকরী স্থায়িত্বকাল স্বল্প। এক ব্যাগ রক্ত বিভিন্ন উপাদানে রূপান্তর করলে তিনটি অথবা চারটি জীবন একসঙ্গে বাঁচানো সম্ভব।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন বিভাগের ডেপোটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার-ডিপিএম ডা. আতাউল করিম আরবি যুগান্তরকে বলেন, উন্নত বিশ্বে গর্ভবতী নারী এবং সড়ক দুর্ঘটনায় পতিতদের ছাড়া কোনো রোগীকে পূর্ণ রক্ত (হোল ব্লাড) দেওয়া হয় না। কিন্তু আমাদের দেশে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই যেসব রোগীর আরব
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।Design & Development : It Corner BD.Com 01711073884.
Leave a Reply