
নিজস্ব প্রতিবেদন || নগরীর ২৯ নং ওয়ার্ডের জাহিদ খান নামক এক ব্যক্তি ও তার স্ত্রী কেয়া’র বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় এক মুদি ব্যবসায়ী আব্দুল বারেক ও তার স্ত্রী তাসলিমা এ অভিযোগ করেন।
ঘটনাস্থল ও স্থানীয়দের দেয়া তথ্য অনুযায়ী ‘ জাহিদ খানের কাছে ওই মুদি দোকানদার বেশ কয়েক বছর ধরে টাকা পায়। পাওনা টাকা চাইলেই জাহিদ গালিগালাজ করে,হুমকি দেয়। ঘটনার দিনও গালিগালাজ করে জাহিদ ও তার বৌ। এসময় প্রতিবাদ করলে দশম শ্রেণির স্কুল ছাত্রী ও কিশোরী রিমুকে মারধর করেছে জাহিদ ও তার স্ত্রী। ঘটনাটি রিমু স্থানীয় কাশিপুর বাজারে গিয়ে তার বাবা,মা,দোকানদার, বাজার কমিটির সাবেক সভাপতি হুমায়ুন কবির, ২৯ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি জসিম উদ্দিন, ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক সবাইকে জানায় এবং মারধরের দাগ,চিন্হ দেখায় । এরপর অবস্থার অবনতি ঘটলে আহত কিশোরীকে মেডিকেল ভর্তি করানো হয়। ‘
লিখিত অভিযোগে বিমানবন্দর থানায় আব্দুল বারেক জানান ‘ রিমু(ছদ্মনাম) ১৪ বছর বয়সী তরুণী আমার বড় মেয়ে। তাকে আমার মুদির দোকানের পাওনা সাত হাজার টাকার তাগেদা দিতে বাড়িতে গেলে জাহিদ খান ও তার স্ত্রী কেয়া দুজন মিলে কিল,ঘুষি, লাথি ও লাঠি,জুতা দিয়ে প্রচন্ড মারধর করে এবং ঘটনা কাওকে জানালে খুন করার হুমকিও দেয়। এরপর রিমু দৌড়ে আহত অবস্থায় পালিয়ে বাজারে এসে সবাইকে ঘটনা বলে এবং সেদিনই থানায় লিখিতভাবে অভিযোগ দিয়ে চিকিৎসা নিতে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ ভর্তি হয়। ডাক্তার ভর্তির পর তার চিকিৎসা চালাচ্ছে। ‘
এ বিষয়ে ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের নেতা ও বাজার কমিটির সাবেক সভাপতি হুমায়ুন কবির বলেন ‘ জাহিদের কাছে অনেক মানুষ টাকা পায় শুনেছি। বিভিন্ন মেয়াদে বিভিন্ন লোক এসে আমাদের জানায় জাহিদের বিষয়। তবে পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে যে মার খেতে হবে, এমনতো পরিস্থিতি দেশে নাই। শিশু নির্যাতনের মত গুরুতর অপরাধের কোন শালিসি হতে পারেনা। আমি যতদুর জানি ঘটনাটি সত্যি এবং থানায় মামলা করতে লিখিতভাবে অভিযোগ দেয়া হয়েছে। আমরা সবাই ভুক্তভোগীর পক্ষে। ‘
২৯ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন ঘটনাটি শুনেছি। আমার জানামতে মুদির দোকানদারের ওই মেয়ে শিশুটি খুবই ভদ্র ও মার্জিত আচরণ করে। ঘটনাটি সত্যি হলে মামলা করারমত বিষয় এটি, মিমাংসার মত না। ‘
অভিযোগকারী ও আহত কিশোরীর পিতা আব্দুল বারেক বলেন ‘ আমি পাওনা টাকা বারবার চাইলে আমাকে তারিখ দেয় জাহিদ। সেদিন আমি অসুস্থ থাকায় আমার বড় মেয়ে রিমু টাকা আনতে গেলে তাকে প্রচন্ড মারধর করে জাহিদ ও তার স্ত্রী কেয়া। আমি মামলার প্রস্তুতি নিয়েছি। ‘
বিমানবন্দর থানা সূত্র জানায়,এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। দ্রুত তদন্ত করে আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে।
উল্লেখ্য, জাহিদ খান ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা ও জুয়া খেলা পাতানোর অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও জাহিদ প্রতারণা ও টাকা আত্মসাৎ করে জেলও খেটেছেন বলে জানা যায়।
Leave a Reply