বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার ব্যাপারে সরকার সহনশীল। এতে বিএনপি ও খালেদা জিয়ার পরিবারও আশাবাদী। চেয়ারপারসনের উন্নত চিকিৎসায় সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করবে বলে মনে করছেন তারা।
ইতিবাচক মনোভাবের পর খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার জোর প্রস্তুতি শুরু করেছে বিএনপি ও তার পরিবারের সদস্যরা। দলটির চেয়ারপারসনের পাসপোর্ট নবায়ন, ভিসাসহ আনুষঙ্গিক কাজ দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে। যাতে অনুমতি পেলে যে কোনো মুহূর্তে তাকে বিদেশ নেওয়া যায়।
পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে যুক্তরাজ্যে নেওয়ার জন্য জোর তৎপরতা চালানো হচ্ছে। জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, খালেদা জিয়ার মধ্যে কোভিড-১৯ সংক্রমণ-পরবর্তী বিভিন্ন জটিলতা রয়েছে।
সেজন্য ‘মানবিক’ বিবেচনায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে নেওয়ার অনুমতি দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
তবে কখন যাবেন, প্রস্তুতি চলছে কিনা এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, চেয়ারপারসনের বিদেশ যাওয়ার বিষয়টি তার পরিবার ও আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেখছেন।
এদিকে খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়ার অনুমতির ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, তার আবেদনটি পেয়েছি। যাচাই শেষে তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। তবে সেটা বৃহস্পতিবার পাঠানো সম্ভব হবে না বলে জানান তিনি।
আইনমন্ত্রী বলেন, আশা করছি আগামী কার্যদিবসের (রোববার) মধ্যে সিদ্ধান্ত জানাতে পারব। যেহেতু তিনি অসুস্থ তাই যথাশিগগিরই এটা শেষ করতে হবে। তবে বিষয়টি আমরা মানবিক দৃষ্টিতে দেখছি।
কোন প্রক্রিয়ায় চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়া বিদেশ যাচ্ছেন এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এ মুহূর্তে আমি কোনো মন্তব্য করব না। একটু অপেক্ষা করুন। এর আগে গুলশানের বাসভবনে আইনমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিতে পরিবারের আবেদন পর্যালোচনার পর দ্রুত সময়ে মতামত দিয়ে ফাইল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
তবে ‘সময় শেষ হয়ে যাওয়ায়’ বৃহস্পতিবার আর সে প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে না। এর আগে মন্ত্রী বলেছিলেন, আবেদনটি বুধবার রাত ১১টায় আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সচিবের কাছে এসেছে। এখন যথাযথ প্রক্রিয়া শেষ করে সেটি তার (মন্ত্রী) কাছে আসবে। এরপর তিনি দেখে এ বিষয়ে মত দেবেন। কী ধরনের মত বা প্রক্রিয়া হতে পারে, জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, দেখার পরে সেটি বলতে পারবেন।
এদিকে বৃহস্পতিবার বিকালে সচিবালয় থেকে এ সংক্রান্ত নথিপত্র আইনমন্ত্রীর বাসায় নিয়ে যান আইন সচিব গোলাম সারওয়ার। খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে আইনের কোনো ব্যত্যয় আছে কিনা জানতে চাইলে সচিব বলেন, ‘এ বিষয়ে মাননীয় মন্ত্রী কথা বলবেন। আমি কিছু বলব না। শামীম ইস্কান্দার সাহেব বিদেশ নেওয়ার জন্য আবেদন করেছেন, এটা রিপোর্টে আছে। আমি ফাইলগুলো নিয়ে যাচ্ছি মন্ত্রী মহোদয়ের ওখানে।’
আবেদনে কোন দেশের কথা বলা আছে জানতে চাইলে সচিব বলেন, ‘না, ওনারা কোনো কিছু উল্লেখ করেননি। শুধু চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার কথা বলেছেন। আর কিছু বলেননি। পরবর্তী প্রক্রিয়া কী হবে জানতে চাইলে আইন সচিব বলেন, আমরা মতামত দিলে সেটা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সামারি (সংক্ষিপ্ত) আকারে প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাবে। তিনি আরও বলেন, আমরা ফাইল নিয়ে যাচ্ছি, তিনি দেখবেন। মন্ত্রী মহোদয় সিদ্ধান্ত দিলে, তখন হবে।’
সরকার ও বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, আইন মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ দ্রুত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যেতে পারে। এরপর তা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে। চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে পারবেন না বলে যে শর্ত দেওয়া হয়েছে তা তুলে নিয়ে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করলে খালেদা জিয়ার বাইরে যেতে আর কোনো বাধা থাকবে না। উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ নেওয়ার অনুমতি চেয়ে বুধবার রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেন খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার। লিখিত আবেদনটি মতামতের জন্য রাতেই তা আইন সচিবের কাছে পাঠানো হয়েছে।
সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়ার ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে ইতিবাচক মনোভাব দেখানো হয়েছে। সরকারের মনোভাব জানার পর বিদেশ নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করে খালেদা জিয়ার পরিবার। বুধবার রাতেই বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনারের সঙ্গে দেখা করেন শামীম এস্কান্দার। খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা জানিয়ে তাকে যুক্তরাজ্যে নেওয়ার সহযোগিতা চান তিনি। হাইকমিশনার যুক্তরাজ্য সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে শামীম এস্কান্দারকে জানান, তার সরকার বিএনপি চেয়ারপারসনের চিকিৎসা করাতে সব ধরনের সহযোগিতা করবে। যুক্তরাজ্যে যেতে তার সরকার ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে বলে হাইকমিশনার তাকে অবহিত করেন। সরকারের সবুজ সংকেত পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার সকালে খালেদা জিয়ার পাসপোর্ট নবায়নের প্রক্রিয়া শুরু করেন শামীম এস্কান্দার। সকালে আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে খালেদা জিয়ার পাসপোর্ট নবায়নের জন্য জমা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে পাসপোর্ট পাওয়ার পর ভিসার জন্য তা যুক্তরাজ্য হাইকমিশনে জমা দেওয়া হবে। শুধু খালেদা জিয়া নন, তার সঙ্গে যাবেন এমন দুই চিকিৎসক এবং পরিবারের সদস্যদেরও ভিসার জন্য পাসপোর্ট জমা দেওয়া হবে।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দুপুরে হাসপাতালে গিয়ে খালেদা জিয়ার সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন। হাসপাতালে যাওয়ার আগে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব বলেন, করোনায় পোস্ট কোভিড জটিলতা হয়, সে জটিলতা মাঝে মধ্যে বিভিন্ন দিকে টার্ন নেয়। ওনার (খালেদা জিয়া) যে বয়স এবং
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।Design & Development : It Corner BD.Com 01711073884.
Leave a Reply