মেহেন্দিগঞ্জ টাইমস নিউজ ডেস্ক // বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার কাজিরহাট থানাধীন লতা ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী শেরে বাংলা স্পোর্টিং ক্লাবের তালা ভেঙে আসবাবপত্র ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। একই সঙ্গে লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার ও অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক পরিচয়ে প্রভাবশালী স্বেচ্ছাসেবক দলকর্মী হিসেবে পরিচিত মোস্তাফিজুর রহমান সোহাগের নেতৃত্বে ক্লাবের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করা হয়। পরে ক্লাবের আলমারি, বৈদ্যুতিক ফ্যানসহ মূল্যবান আসবাবপত্র এবং গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়। অভিযুক্ত সোহাগ স্থানীয় হাবিবুর রহমান হাওলাদার ওরফে ভাসাই হাওলাদারের ছেলে।
ঘটনার প্রতিবাদে ও জড়িতদের শাস্তির দাবিতে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর বাংলাবাজার এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দা ও সাধারণ মানুষ বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিল থেকে অবিলম্বে লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার, ক্লাবের সম্পদ ফেরত এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
এলাকাবাসী ও ক্লাবের প্রবীণ সদস্যরা জানান, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকে ধারণ করে প্রতিষ্ঠিত শেরে বাংলা স্পোর্টিং ক্লাবটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার ক্রীড়া উন্নয়ন, তরুণদের সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও মানবিক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রেখে আসছে। সমাজসেবা নিবন্ধন নম্বর ৭৬৮/৮৩-এর এই প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন সময়ে সরকারি অনুদান ও স্বীকৃতিও পেয়েছে বলে জানান তারা।
তাদের অভিযোগ, ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানের মালামাল এভাবে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় ক্লাবের কার্যক্রম ও সম্পদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান সোহাগের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
কাজীরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুঠোফোনে বলেন, “এমন কোনো বিষয় আমি জানি না। অভিযোগ পেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়রা জানান, ক্লাবের মালামাল লুটের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা জরুরি। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী।
Leave a Reply