
মেহেন্দিগঞ্জ টাইমস নিউজ ডেস্ক//তেতুলিয়া নদীর পেটে বিলীন হয়ে গেছে ঘর-বাড়ি, জমি-জমা। ভিটেমাটি হারিয়ে এখন অন্যের বাগানে ছাউনি তুলে মানবেতর জীবনযাপন করছেন শতাধিক পরিবার। ভয়াবহ এই নদীভাঙনের কবলে পড়া বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার চরগোপালপুর ইউনিয়নের জালিরচর গ্রামে বুধবার জরুরি খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিলো প্রশাসন।
দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের জরুরি তহবিল থেকে বুধবার দুপুর ২টায় এই ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রিয়াজুর রহমান। বরিশাল জেলা প্রশাসকের নির্দেশে তিনি স্বয়ং গিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে সহায়তা তুলে দেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন পিআইও অফিসের উপসহকারী প্রকৌশলী মোঃ তৌফিকুর রহমান বিপ্লব এবং স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম সোহেল রানা।
ছবিতে দেখা যায়, নদীর পাড় ভেঙে পড়ছে। গাছপালা শিকড়সহ পানিতে হেলে পড়েছে। কোনো কোনো বাড়ির চালা এখনো পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে।
ত্রাণ নিতে আসা ক্ষতিগ্রস্তরা তাদের দুঃখের কথা জানান।
আব্দুল খালেক মাঝি* বলেন, “আমার জায়গা জমি সব নদীতে। আমি এখন অন্যের বাড়িতে থাকি।
*আঃ ছত্তার মাঝি* বলেন, আমি অন্যের বাগানে ছাউনি তুলে থাকি।
ফরিদা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমি বিধবা নারী। নদী আমার বসতভিটাসহ স্বামীর কবরটিও নিয়ে গেছে। নান্নু বেপারি, সালাম রাঢ়ী ও রুহুল আমিন রাঢ়ী বলেন, ঘর তলিয়ে গেছে। ভাঙনের তীব্রতা এতটা যে সরিয়ে নেওয়ারও সুযোগ পাইনি।
ত্রাণ বিতরণকালে ইউএনও মোঃ রিয়াজুর রহমান বলেন, মাননীয় সেতু ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মহোদয় এবং জেলা প্রশাসক এর প্রচেষ্টায় আপনাদের পাশে খাদ্য সামগ্রী নিয়ে দাঁড়িয়েছি। মেহেন্দীগঞ্জকে কয়েকটি নদী জালের মতো ঘিরে রেখেছে। নদী সীকিস্তিদের জন্য টিন ও গৃহনির্মাণসহ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও জানান, ভাঙনরোধে কিছু এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলা হচ্ছে। গোটা উপজেলায় নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে অন্য জায়গায় ৭৩৯ কোটি টাকার তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। পর্যায়ক্রমে এখানেও কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
চরগোপালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম সোহেল রানা বলেন, “চলতি বর্ষায় নদীর তীব্র ভাঙনে এক হাজার পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। আমরা ভাঙনের হাত থেকে বাঁচতে চাই।”
বিতরণের সময় সুবিধাভোগীদের উপস্থিতিতে সুশৃঙ্খলভাবে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে খাদ্য সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।
জলবায়ু পরিবর্তন এবং নদীর গতিপথ পরিবর্তনের কারণে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে। মেহেন্দীগঞ্জের জালিরচরের মানুষগুলোও এখন সেই অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকেই তাকিয়ে আছে।
Leave a Reply