(আসক) এর প্রতিবেদন ০৯মাসে ১৫৪ সাংবাদিক নির্যাতন ক্রসফায়ার ৪৮ জন
আপডেট সময় :
শনিবার, ২ অক্টোবর, ২০২১
৩৪৯
০ বার সংবাদটি পড়া হয়েছে
এম মনির চৌধুরী রানাঃ
চলতি বছরের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর ০৯ মাসে মানবাধিকার লঙ্ঘনজনিত ঘটনা পর্যালোচনায় দেখা যায়, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এক সাংবাদিক গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান এবং ১৫৪ সাংবাদিক বিভিন্নভাবে নির্যাতন, হামলা-মামলা ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। এসময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে নির্যাতন ও মৃত্যু, ক্রসফায়ার, গুলিবিনিময় বা বন্দুকযুদ্ধের মাধ্যমে অনেক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। আজ (০১ অক্টোবর) শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) তাদের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে নারী শিশু নির্যাতন, সীমান্ত সংঘাত, ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে। ১০টি জাতীয় দৈনিক ও বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত সংবাদ ও আসক-এর নিজস্ব সূত্র থেকে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একজন সাংবাদিক গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান এবং ১৫৪ জন সাংবাদিক বিভিন্নভাবে নির্যাতন, হামলা-মামলা ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। নির্যাতিত সাংবাদিকদের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ৮জন, রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মীদের দ্বারা ১৪ জন, স্থানীয় পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ১৩ জন, হেফাজতে ইসলামের ডাকা হরতালের ডাকা হরতালে ১৩জন সাংবাদিক আহত হন। এ ছাড়া ১০৬ জন সাংবাদিক ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, স্থানীয় প্রভাবশালী মহল ও সন্ত্রাসীদের দ্বারা বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও হেফাজতে মৃত্যুর অভিযোগ
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ০৯ মাসে জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে দেখা গেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে এবং ক্রসফায়ারে মোট ৪৮ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনীর সঙ্গে কথিত ক্রসফায়ার বন্দুকযুদ্ধ গুলিবিনিময় বা এনকাউন্টারে নিহত হয়েছেন ৩৪ জন বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে ০৯ জন ও নির্যাতনে ০৪জন মারা গেছেন। এ ছাড়া গ্রেফতারের পরে হার্ট অ্যাটাকে (পুলিশের ভাষ্যমতে) ০১জনের মৃত্যু হয়।
চলতি বছরের ০৯মাসে কারাগারে অসুস্থতাসহ বিভিন্ন কারণে মারা যান ৬৭ জন। এর মধ্যে কয়েদি ২৫ জন এবং হাজতি ৪২ জন। দেশের জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতে জানা যায়, গত ০৯ মাসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে অপহরণ বা গুমের শিকার হন ০৬ জন। এর মধ্যে পরবর্তী সময়ে ০৩জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন আরও ০৩ জন।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর ০৯মাস পর্যন্ত ধর্ষণ, দলবদ্ধ ধর্ষণ, যৌন হয়রানি ও সহিংসতা, ধর্ষণ ও হত্যা, পারিবারিক নির্যাতন, যৌতুকের জন্য নির্যাতন, গৃহকর্মী নির্যাতন, এসিড নিক্ষেপসহ নারী নির্যাতনের ঘটনা গত বছরের (২০২০) ০৯ মাসের তুলনায় বেড়েছে।
এই ০৯মাসে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১০৮৫ নারী, যার মধ্যে একক ধর্ষণের শিকার হন ৮৭৯ জন এবং দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন ২০৩ নারী। ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হন ৩৯ জন এবং আত্মহত্যা করেছেন ০৮ নারী। এছাড়া ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে ২৫৬টি। উল্লেখ্য, গত বছরের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ০৯ মাসে মোট ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন ৯৭৫ নারী।
চলতি বছরের শুরু থেকে ০৯মাসে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন ১০১ নারী, এর মধ্যে ১০ নারী আত্মহত্যা করেছেন এবং হত্যার শিকার হয়েছেন ০৩ নারী। এ ছাড়া যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন ৭১ জন পুরুষ, যার মধ্যে ০৪ জন পুরুষ খুন হয়েছেন।
এ নয় মাসে পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৫২৭ নারী। যাদের মধ্যে স্বামী, স্বামীর পরিবার এবং নিজ পরিবার কর্তৃক হত্যার শিকার হন ৩০৩ নারী এবং পারিবারিক নির্যাতনের ফলে আত্মহত্যা করেছেন ১১৮ নারী। উল্লেখ, গত বছরের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন ৪৩২ নারী।
যৌতুককে কেন্দ্র করে নির্যাতন ও হত্যার শিকার হয়েছেন মোট ১৮২ নারী। যৌতুকের জন্য নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে ৬০ জনকে এবং নির্যাতনের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেছেন ১২ জন নারী। এর মধ্যে যৌতুকের কারণে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৯৮ জন।এ সময়ের মধ্যে ৩৮ জন গৃহকর্মী নির্যাতন ও হত্যার শিকার হন। যাদের মধ্যে হত্যার শিকার হয়েছেন ১২ জন এবং ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতনসহ বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ২৬ গৃহকর্মী ।
শিশুর প্রতি সহিংসতা ও নির্যাতন সংক্রান্ত পরিসংখ্যানও উদ্বেগজনক। গত ০৯ মাসে হত্যা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে ১ হাজার ৬৩৬ শিশু। এর মধ্যে হত্যার শিকার হয় ৪৭১ জন এবং শারীরিক ও যৌন নির্যাতনসহ নানাভাবে সহিংসতার শিকার হয় ১১৬৫ শিশু। এই ১১৬৫ জনের মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয় ৬৪৮ কন্যাশিশু এবং বলাৎকারের শিকার হয়েছে ৬৪ জন ছেলে শিশু। উল্লেখ্য, ২০২০ সালের এই সময়কালে হত্যা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছিল ১৫২৩ শিশু।
চলতি বছরের শুরু থেকে সেপ্টেম্বর এ সময়ের মধ্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের ১০২টি বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিমা, মন্দির ও পারিবারিক পূজামন্ডপে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে ৭৮টি। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন ০৭ জন। জমি ও বাড়িঘর দখল এবং উচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে সাতটি। এছাড়া বৌদ্ধসম্প্রদায়ের পরিবার ও বাড়িঘরে হামলা হয়েছে একটি। উল্লেখ্য, ২০২০ সালের এই সময়কালে হিন্দু সম্প্রদায়ের সাতটি বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ এবং ৪৮টি প্রতিমা, মন্দির ও পারিবারিক পূজামন্ডপে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
এই সময়কালে ভারত সীমান্তে মোট নিহত হয়েছেন ১১ জন। এর মধ্যে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ-এর গুলিতে ০৯ জন, শারিরিক নির্যাতনে একজন এবং বিএসএফ-এর ধাওয়া খেয়ে পানিতে ডুবে একজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন ছয় জন এবং অপহরণের শিকার হয়েছেন তিন জন।
গত জানুয়ারি- সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ০৯মাসে জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে দেখা গেছে, রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে মোট ৩২১টি। এতে নিহত হয়েছেন ৬৪ জন এবং আহত হয়েছেন ০৪ হাজার ৪০৫ জন। এর মধ্যে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।Design & Development : It Corner BD.Com 01711073884.
Leave a Reply