মেহেন্দিগঞ্জ টাইমস নিউজ ডেস্ক //বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে জমির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ১৬ বছর আগে মৌখিকভাবে বিক্রি করা জমি অস্বীকার করে উল্টো ক্রেতার বিরুদ্ধে মামলা করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার উত্তর উলানিয়া ইউনিয়নের বালিয়া গ্রামে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নিরীহ কৃষক ইদ্রিস হাওলাদার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালে বালিয়া গ্রামের মৃত আমিন উদ্দিন হাওলাদারের দুই মেয়ে মনোয়ারা বেগম ও রিজিয়া বেগম তাদের ৮৬ শতাংশ জমি একই সাথে ইদ্রিস হাওলাদারের কাছে মৌখিক বায়নায় বিক্রি করেন। স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মরহুম সৈয়দ আলী মেম্বারসহ গণ্যমান্যদের উপস্থিতিতে সীমানা নির্ধারণ করে সেদিনই ইদ্রিসকে দখল বুঝিয়ে দিয়ে সমুদয় টাকা বুঝে নেন দুই বোন।
দখল পাওয়ার পর ইদ্রিস হাওলাদার গংদ্বয় প্রায় ৩ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নিচু জমি ভরাট করে সেখানে আম, কাঁঠাল ও মেহগনির বাগান গড়ে তোলেন। বিগত ১৬ বছর ধরে তিনি শান্তিপূর্ণভাবে ওই জমি ভোগদখল করে আসছেন, যা এলাকার শত শত মানুষ জানে।
চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, একই সাথে বিক্রি করা জমির মধ্যে ছোট বোন রিজিয়া বেগম তার অংশের জমি পাতারহাট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে ইদ্রিসকে রেজিস্ট্রি দলিল করে দিয়েছেন। কিন্তু বড় বোন মনোয়ারা বেগম জমির বর্তমান মূল্য কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় লোভে পড়ে তার অংশের দলিল না দিয়ে কালক্ষেপণ করতে থাকেন।
ভুক্তভোগী ইদ্রিস হাওলাদার বলেন, “দুই বোন একসাথে জমি বিক্রি করলো। এক বোন দলিল দিলো। আরেক বোন ১৬ বছর ঘুরাইয়া এখন কয় জমি বেচে নাই। সাক্ষীরা মারা যাওয়ায় এখন টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করে। আমার কাছে আপার নিজের মুখের অডিও রেকর্ড আছে, যেখানে তিনি টাকা নেওয়া ও দখল দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।
সম্প্রতি মনোয়ারা বেগম আরও চতুরতার আশ্রয় নেন। তিনি ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩ এর ৮ ধারায় বরিশাল বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ইদ্রিস হাওলাদারসহ তার পরিবারের ৫ জনের বিরুদ্ধে জবরদখলের মিথ্যা মামলা (নং- ৭৯৫/২০২৬) দায়ের করেন। মামলায় তিনি দাবি করেন, গত ০৭/০৮/২০২৬ তারিখে ইদ্রিসরা তার জমি জবরদখল করেছে।
অথচ সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, ওই জমিতে ১০-১৫ বছরের পুরনো বড় বড় গাছ দাঁড়িয়ে আছে। এলাকাবাসীর প্রশ্ন, ২০ দিন আগে জবরদখল করলে ১৫ বছরের বাগান কিভাবে হলো?
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও বলেন, মৌখিক ভাবে বায়নাপত্র করে সবটাকা নিয়ে এখন প্রতারণা করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা জাকির হোসেন বলেন, আমরা ছোটবেলা থেকে দেখছি ইদ্রিস এই জমিতে বাগান করছে। মনোয়ারা কোনোদিন এই জমিতে আসে নাই। এখন দাম বাড়ছে দেইখা মামলা দিছে।
অভিযুক্তদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদেরকে না পাওয়ায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে মেহেন্দিগঞ্জ সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরেজমিন তদন্ত করছেন। ভুক্তভোগী পরিবারটি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায় বিচার দাবি করেছেন এবং জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
Leave a Reply