
মেহেন্দিগঞ্জ টাইমস নিউজ ডেস্ক // মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার কাজিরহাট থানাধীন ভাষানচর ইউনিয়নের দশহাজার বিঘা মৌজায় দীর্ঘকাল ভোগদখল করা একজন নিতান্তই অসহায় গরীব বৃদ্ধের জমিতে ভাষানচর ইউনিয়নের এক প্রভাবশালীর ছত্রছায়ায় ভূমি খেঁকোরা ভাগ বসানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়,ভাষানচর ইউনিয়নের, রাওঘা গ্রামের দশহাজার বিঘা মৌজার, ৯৫ নং জেএল”র, ৫৯৪ নং বিএস খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত ৫১৬৭, ৫১৬৮, ৫১৬৯ বিএস দাগে, ০.৪২০০ একর জমি দীর্ঘ ৩০ বছর যাবত মৃতঃ নাছির আলী বয়াতির ছেলে খালেক বয়াতি পরিবার পরিজন নিয়ে ভোগদখল করে আসছে। তিনি পেশায় একজন দিনমজুর হলেও খুবই মানবেতর জীবন যাপন করছে।
ভুক্তভোগী পরিবার সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ৫ আগষ্ট পরবর্তীতে হঠাৎ একদল মানুষ রূপী শকুনের চোঁখ পড়ে সেই জমিতে। তারা সেই জমির শেষ প্রান্তের কিছু জমি খাস থাকায় অজুহাত তুলে মেহেন্দিগঞ্জ ভুমি অফিসের যোগসাজশে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বন্দোবস্ত নেয়।
এখন সেখানে পাকা স্থাপনা তৈরি করায় তার বাড়ি থেকে বের হবার পথ এমনকি খালে নামার পথটি আটকে যায়। ভুক্তভোগী খালেক বয়াতি কান্না জড়িত কন্ঠে আরো জানান,তাকে মৃত্যুর পর কবর দেওয়ার মতো জমি সেখানে অবশিষ্ট নেই।
একাধিক এলাকাবাসী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ভাষানচর ইউনিয়নের প্রভাবশালী এক নেতার (সাবেক জনপ্রতিনিধি) পরোক্ষ মদদে ভূমি খেঁকোরা সেই জমিতে পাকা স্থাপনা নির্মান শুরু করলে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে বাঁধা দেয়া হয়। কিন্তু তারা কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে নির্মান কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
এই অভিযোগের সত্যতা জানতে গিয়ে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসের নথিপত্র খুঁজে জানা গেছে, গত ২৩/১২/২০২৫ ইং তারিখে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) বরাবরে,মোঃ রাসেল সিকদার, মোঃ জুয়েল হোসেন উভয় পিতা কালাম সিকদার,সাং রাওগা,ভাষানচর এবং শাহনাজ,পিতা তাজউদ্দিন,সাং দশহাজার বিঘা,ইউনিয়ন ভাষানচর এবং মোঃ আলাউদ্দিন হোসেন, পিতাঃ আব্দুল লতিফ, সাং বিদ্যানন্দপুর এই চার জনের নামে ৪টি মিসকেস ফাইল করা হয়। যাহার নাম্বার ৪৭,৪৮,৪৯,৫০/২০২৫,-২০২৬।
উপজেলা ভূমি অফিস থেকে তৎকালীন সার্ভেয়ার মোঃ ফোরকানকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়। তিনি সরেজমিন পরিদর্শন করেন এবং ৩/৩/২৬ ইং তারিখে এসি ল্যান্ডের কাছে তদন্ত রিপোর্ট প্রদান করেন।
পরদিনই রিপোর্টসহ পুরো ফাইল বরিশাল জেলা প্রশাসক বরাবরে পাঠিয়ে দেয়া হয়। জেলা প্রশাসকের দপ্তর মেহেন্দিগঞ্জ ভূমি অফিসের সার্ভেয়ারের তদন্তের উপর ভিত্তি করে মিস কেস গুলো ১৬/০৩/২০২৬ তারিখে অনুমোদন দেন। পরবর্তীতে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিস থেকে গত ২৯/০৩/২০২৬ ইং তারিখে তারা ১ বৎসরের জন্য ডিসিআর নেন।
এ বিষয়ে জানতে তদন্ত রিপোর্ট দেয়া সার্ভেয়ার মোঃ ফোরকানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেয়া হলেও রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা এসি ল্যান্ডের দায়িত্বে থাকা মোঃ রিয়াজুর রহমানের নিকট আলাপ কালে তিনি সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, জেলা প্রশাসকের দপ্তর থেকে আবেদনের মাধ্যমে চান্দিনা ভিটা হিসাবে বন্দোবস্ত নেয়। এখানে অন্য কেউ যদি সংক্ষুব্ধ হয়ে খাকে তাহলে তদন্ত করে যদি সে দাবীদার হয়, তাহলে লিজ বাতিল করা হবে।
Leave a Reply