
মেহেন্দিগঞ্জ টাইমস নিউজ ডেস্ক// নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নিষিদ্ধ জাটকা নিধন ও পরিবহনের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ ১০ এপ্রিল শুক্রবার মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার গজারিয়া নদীতে মেহেন্দিগঞ্জ মৎস্য অফিসের অফিস সহকারী জাহিদ হাসানের নেতৃত্বে একটি টিম অভিযান পরিচালনা করে।
এসময় দুইটি ট্রলারযোগে পরিবহনকালে বিপুল পরিমাণ মজুতকৃত জাটকা ইলিশ জব্দ করা হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন নদীতে অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ পাই জাল,চরঘেরা চাল ও কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। জব্দকৃত জাল আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়েছে।
কিন্তু বিপত্তি বাধে জব্দকৃত মাছ নিয়ে। জব্দ করার প্রায় ৭ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও জব্দকৃত মাছ বিতরণ না করে পচনের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভোররাতে জব্দকৃত মাছ সকালে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা মৎস্য ভবনে নিয়ে আসা হলেও জব্দকৃত মাছ বিতরণে এগিয়ে আসেনি কেউ।
জব্দকৃত মাছের ব্যাপারে জানতে,মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ওমর সানিকে মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি কোন সাড়া দেননি। প্রায় ৭ ঘন্টা অপেক্ষা করার পরে হিজলা উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আলম দেশজুড়ে জ্বালানী সংকট থাকা সত্তেও হিজলা থেকে পেট্রোল পুড়ে ছুটে আসেন মেহেন্দিগঞ্জ। তারপর দুপুর ১ টায় মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উপস্থিতিতে জব্দকৃত মাছ উপজেলা বিভিন্ন এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে।
তবে জব্দ করার ৭ ঘন্টা পেরিয়ে যাওয়ার পরেও কেন এই মাছগুলো বিতরণে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা উপস্থিত হলেন না সে বিষয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন সচেতন মহল। সচেতন মহল বলছেন এটি তার একপ্রকার দায়িত্ব অবহেলা। এছাড়াও বিভিন্ন সুত্র বলছে অভিযান পরিচালনার দায়িত্ব থাকলেও অভিযান পরিচালনায় অংশ নেন না মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ওমর সানি। মাঝেমধ্যে দুই একদিন নামমাত্র অভিযানে গেলেও মাসজুড়ে চলা অভিযানের নেতৃত্ব দিচ্ছেন অফিস সহকারী জাহিদ হাসান। অন্যদিকে মাঝেমধ্যে অফিসে বসলেও মৎস্য কর্মকর্তা ওমর সানি বেশিরভাগ সময় কাটান উপজেলা চত্বরে নিজ ভাড়া বাসায় শুয়ে বসেই।
দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হয়েও ওমর সানির অনুপস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে, সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আলম জানায়,সম্ভব তিনি ছুটিতে আছেন। তিনি আরও বলেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তার নির্দেশেই তিনি হিজলা থেকে ছুটে এসেছেন।
জব্দকৃত মাছ বিতরণে কেন ৭ ঘন্টা সময় লাগলো তা জানতে চাইলে, মৎস্য কর্মকর্তা আলম বলেন ভবিষ্যতে যেন এমন না হয় সে ব্যাপারে আমরা সচেতন থাকবো।
এছাড়াও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে যে,দায়িত্বপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা ওমর সানি থাকতেও কেন অফিস সহকারী জাহিদ হাসান অভিযানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তবে কি দায়িত্বে অবহেলা করছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওমর সানি। নাকি গোপনে অর্থের বিনিময়ে জেলেদেরকে মাছ নিধনের নীরব চুক্তি সম্পন্ন করেছেন ওমর সানি। সেই প্রশ্ন এখন বিভিন্ন মহলে ঘুরপাক খাচ্ছে।
এসব অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আলম বলেন,বিষয়টি নিয়ে আমি অবগত নই। এই বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ভালো বলতে পারবেন।
এ বিষয়ে বরিশাল জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমিও একাধিক বার মৎস্য কর্মকর্তা ওমর সানি কে ফোন করলে তিনিও আমার কল রিসিভ করে নি,এ বিষয় আমি আমার সিনিয়র অফিসার দের সাথে কথা বলেছি। তারা বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী করনীয় করবেন।
Leave a Reply