প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ২০, ২০২৬, ৫:২৪ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ অগাস্ট ২০, ২০২১, ৫:১০ এ.এম
হেফাজত আমির জুনায়েদ বাবুনগরী আর নেই।

নিউজ ডেস্কঃ
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী আর নেই। বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি ... রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, পাঁচ মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী, ভক্ত ও সহকর্মী রেখে গেছেন। বাবুনগরী চট্টগ্রামের আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসার শিক্ষা পরিচালক ছিলেন।
হেফাজতের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মীর ইদরিস জানান, বুধবার সন্ধ্যার পর হুজুরের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় হঠাৎ উচ্চ রক্তচাপের কারণে তিনি সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাকে চট্টগ্রাম নগরীর বেসরকারি হাসপাতাল সিএসসিআরে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। দীর্ঘদিন ধরে আল্লামা বাবুনগরী বার্ধক্যজনিত দুর্বলতার পাশাপাশি হৃদরোগ, কিডনি জটিলতা, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপে ভুগছিলেন।
বাবুনগরীর মৃত্যুতে তার কর্মস্থল হাটহাজারী মাদ্রাসার সহকর্মী, শিক্ষার্থী, ভক্ত-অনুরাগী, আত্মীয়স্বজন এবং কওমি অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে। দুপুরে তার লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে পৌঁছালে সহকর্মী, শিক্ষার্থী, ভক্ত-অনুরাগী ও আত্মীয়স্বজন এবং দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগতরা এক নজর দেখার জন্য ভিড় করেন। এ সময় তাদের কান্নায় বাতাস ভারী হয়ে ওঠে।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হেফাজত আমির আল্লামা বাবুনগরীর প্রিয় কর্মস্থল হাটহাজারী মাদ্রাসা রাত ১১টায় তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অসংখ্য মানুষ অংশ নেন। জানাজা শেষে মাদ্রাসার ভেতরে বাইতুল আতিক জামে মসজিদসংলগ্ন ‘মাকবারাতুল জামিয়া’য় নামক কবরস্থানে হেফাজতের প্রতিষ্ঠাতা আমির আল্লামা আহমদ শফীর কবরের পাশে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।
হেফাজতের আমিরের মৃত্যুতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান শোক জানিয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আহসান হাবীব লিংকন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের সভাপতি বদরুদ্দোজা সুজা ও মহাসচিব কাজী আবুল খায়ের, এনডিপির চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোস্তফা ও মহাসচিব মঞ্জুর হোসেন ঈসা প্রমুখ।
কর্মজীবন : হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর জীবন ছিল ঘটনাবহুল। বহু চড়াই-উতরাই পেরিয়ে তিনি কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ পদে আসীন হন। ২০২০ সালের ১৫ নভেম্বর হেফাজতের আমির নির্বাচিত হয়ে আমৃত্যু ওই পদেই ছিলেন। এর আগে তিনি দীর্ঘদিন এ সংগঠনের মহাসচিব পদে দায়িত্ব পালন করেন। হেফাজত আমিরের পাশাপাশি হাটহাজারী মাদ্রাসার শিক্ষা পরিচালক ও মাদ্রাসা থেকে প্রকাশিত মাসিক মুঈনুল ইসলামের প্রধান সম্পাদক ছিলেন তিনি। এছাড়া তিনি বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের সহ-সভাপতি, চট্টগ্রাম নুরানি তালিমুল কুরআন বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন।
আল্লামা মুহাম্মদ জুনায়েদ (যিনি জুনায়েদ বাবুনগরী নামে অধিক পরিচিত) একজন দেওবন্দি ইসলামপন্থি শিক্ষাবিদ, লেখক, গবেষক, ইসলামি বক্তা ছিলেন। ১৯৫৩ সালের ৮ অক্টোবর চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি থানার বাবুনগর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে তার জন্ম। শিক্ষাজীবন শেষে ১৯৭৮ সালের শেষ দিকে বাবুনগর মাদ্রাসায় শিক্ষকতা দিয়ে তার কর্মজীবন শুরু হয়। ২৫ বছর শিক্ষকতা শেষে আল্লামা শফীর অনুগ্রহে ২০০৩ সালে তিনি হাটহাজারী মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসাবে যোগ দেন। পরে এই মাদ্রাসার সহকারী পরিচালক নিযুক্ত হন তিনি। এর মধ্যে ২০২০ সালের ১৭ জুন মাদ্রাসা কমিটির সহকারী পরিচালকের দায়িত্ব থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্ত মানতে পারেননি বাবুনগরীর অনুসারীরা। ১৪ সেপ্টেম্বর হাটহাজারী মাদ্রাসায় ছাত্র আন্দোলনের সূচনা হয়। এ আন্দোলন তীব্র হতে থাকলে ১৭ সেপ্টেম্বর মাদ্রাসার মহাপরিচালক শাহ আহমদ শফী স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করে মাদ্রাসার দায়িত্ব মজলিশে শূরাকে দিয়ে দেন। ওই দিনই তিনি ইন্তেকাল করেন। পরে বাবুনগরীসহ তিনজনকে নিয়ে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি গঠিত হয়। বাবুনগরী মাদ্রাসার শায়খুল হাদিস ও শিক্ষা পরিচালক হিসাবে পদোন্নতি পান।
নানা সময়ে আলোচিত হয়েছেন হেফাজতের এ নেতা। ২০১০ সালে বাবুনগরীকে মহাসচিব করে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। প্রতিষ্ঠাতা আমির ছিলেন আহমদ শফী। হেফাজতে ইসলাম ২০১৩ সালে ঢাকার শাপলা চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় আসে। তখন বাবুনগরী সংগঠনটির মহাসচিব ছিলেন। সে সময় তিনি গ্রেফতারও হন। তিনি সংগঠনটির শীর্ষ নেতৃত্বে আসেন প্রতিষ্ঠাতা আহমদ শফীর মৃত্যুর পর। গত বছর ১৫ নভেম্বর সংগঠনটির আমির নিযুক্ত হন তিনি। আহমেদ শফীর মৃত্যুর ঘটনায় ও জুনায়েদ বাবুনগরীর সংগঠনটির নেতৃত্বের আসা নিয়ে হেফাজতে ইসলামের একটি অংশ প্রশ্ন তোলে। আহমদ শফীর পরিবারের সদস্যদের পক্ষ থেকে নানা অভিযোগ এনে মামলাও করা হয়। একপর্যায়ে নানা ইস্যুতে সরকারের সঙ্গে হেফাজতের দূরত্ব বাড়তে থাকে। ২০২০ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশে ভাস্কর্য বিতর্ক শুরু হলে ইসলামি নেতা মামুনুল হকের পক্ষে নিয়ে তিনি কঠোরভাবে ভাস্কর্যবিরোধী বক্তব্য দেন। তার বক্তব্যে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। চলতি বছরের মার্চে বাংলাদেশে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের বিরোধিতা করে সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে সংগঠনটি। এ কারণে সরকারের চাপের মুখে পড়েন সংগঠনটির শীর্ষ নেতৃত্ব। একপর্যায়ে হেফাজতের কমিটি ভেঙে দিয়ে অ্যাডহক
প্রকাশক ও সম্পাদক : ফয়সাল হাওলাদার।
Copyright © 2026 মেহেন্দিগঞ্জ টাইমস ।। Mehendiganj Times. All rights reserved.