মেহেন্দিগঞ্জ টাইমস নিউজ ডেস্ক//শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে বরিশাল উত্তর জেলা যুবদল মেহেন্দিগঞ্জ ও হিজলা উপজেলায় কালবৈশাখীতে বিধ্বস্ত ১৯টি দরিদ্র পরিবারের বসতঘর পুনর্নির্মাণ করে দিয়েছে। সেতু বিভাগ ও নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী ও বরিশাল-৪ আসনের সংসদ সদস্য রাজিব আহসানের নির্দেশে এই মানবিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়।
ঈদুল আজহার ঠিক আগের দিন সকালে আঘাত হানা ভয়াবহ কালবৈশাখীতে মেহেন্দিগঞ্জ ও হিজলা উপজেলার বিস্তীর্ণ জনপদ লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। কয়েক মিনিটের তাণ্ডবে অসংখ্য বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মসজিদ-মাদ্রাসার টিনের চাল উড়ে গিয়ে মাটির সঙ্গে মিশে যায়। ঈদের আনন্দের বদলে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর দিন কাটাতে শুরু করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।
অসহায় মানুষের দুর্দশার খবর পেয়ে প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান তাৎক্ষণিকভাবে বরিশাল উত্তর জেলা যুবদলকে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেন। নির্দেশ পেয়ে জেলা যুবদলের আহ্বায়ক সালাউদ্দিন পিপলু দ্রুত দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং শহীদ জিয়ার শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের সিদ্ধান্ত নেন।
এরই ধারাবাহিকতায় গত শনিবার, ৩০ মে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলা ও দুই উপজেলা এবং পৌর যুবদলের নেতাকর্মীরা দুই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে ১৯টি পরিবারের হাতে ঘর নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় টিন, বাঁশ, কাঠসহ নির্মাণসামগ্রী ও নগদ অর্থ তুলে দেন। জেলা যুবদলের আহ্বায়ক সালাউদ্দীন পিপলু নিজে নির্মাণাধীন প্রতিটি ঘর ঘুরে কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে পরিবারগুলো যাতে আর কষ্ট না পায় সে জন্য দ্রুততম সময়ে কাজ শেষ করার তাগিদ দেন।
সহায়তাপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন মেহেন্দিগঞ্জ পৌরসভার অম্বিকাপুর ওয়ার্ডের হালান সিকদার, কালিকাপুর ওয়ার্ডের বিধবা রাজিয়া বেগম, বদরপুর ওয়ার্ডের বিধবা কুলছুম বেগম ও জলিল বাঘা, দক্ষিণ উলানিয়া ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের ইসমাইল সরদার, আশা গ্রামের নয়ন রাঢ়ী এবং হিজলা উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের বিধবা নারগিস বেগমসহ মোট ১৯টি পরিবার।
মেহেন্দিগঞ্জ পৌরসভার কালিকাপুর গ্রামের স্বামীহারা রাজিয়া বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, স্বামী আর ছেলে মারা যাওয়ার পর এক প্রতিবন্ধী নাতি এবং এক নাতনীকেসহ কোনোমতে বেঁচে ছিলাম। কালবৈশাখীতে গাছ পড়ে আমাদের শেষ সম্বল ঘরটাও মাটির সাথে মিশে গেল। আজ যুবদলের ভাইয়েরা আমাদের জন্য নতুন ঘর বানিয়ে দিলেন। এখন নাতিদের নিয়ে নিশ্চিন্তে রাত কাটাতে পারব।”
অম্বিকাপুর গ্রামের হতদরিদ্র হালান শিকদার বলেন, “ঝড়ে আমার ভাঙা ঘরটা আরও ভেঙে গেল। এক ছেলে আর তিন মেয়ে নিয়ে সংসার চালাতেই হিমশিম খাই, ঘর মেরামতের টাকা কই পাব? যুবদলের কাছে সাহায্য চাইলে তারা কথা রেখেছে। তাদের প্রতি আমি চিরকৃতজ্ঞ।”
সহায়তা পাওয়া প্রতিটি পরিবারই আবেগঘন কণ্ঠে তাদের সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন।
কর্মসূচী পালনে মাঠে ছিলো, মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সৈয়দ নাঈম ইসলাম তুহিন, সদস্য সচিব মাজারুল ইসলাম পারভেজ, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মিরাজ সিকদার আরজু, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম মামুন মিয়াজি, সদস্য সচিব আমজাদ পোদ্দার ও যুগ্ম আহ্বায়ক সিরাজ খানসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
এ প্রসঙ্গে জেলা যুবদলের আহ্বায়ক সালাউদ্দিন পিপলু বলেন, “প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসানের নির্দেশনা এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মানবকল্যাণের আদর্শকে ধারণ করেই আমরা অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। আমাদের লক্ষ্য- ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে মানুষগুলো যেন ঈদের আগেই নতুন ঘরে নিরাপদে থাকতে পারে। বিএনপি এবং যুবদল অতীতেও মানুষের বিপদে পাশে ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে।”
যুবদলের এই সময়োপযোগী মানবিক উদ্যোগ মেহেন্দিগঞ্জ ও হিজলা উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। দলমত নির্বিশেষে স্থানীয়রা বলছেন, রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে বিপন্ন মানুষের জন্য এমন নিঃস্বার্থ কাজ সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে।
প্রকাশক ও সম্পাদক : ফয়সাল হাওলাদার।
Copyright © 2026 মেহেন্দিগঞ্জ টাইমস ।। Mehendiganj Times. All rights reserved.