প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ২৪, ২০২৬, ৭:৫৯ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুলাই ২৮, ২০২১, ৩:১৭ পি.এম
বরিশালে স্বামীর বিরুদ্ধে থানায় স্ত্রীর অভিযোগ দাখিল।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
বরিশাল নগরীর জিয়া সড়ক এলাকায় গত ১৭ জুলাই মধ্য রাতে স্বামী কর্তৃক স্ত্রী কে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ তারিখ রাতে পারিবারিক কথার কাটাকাটি নিজেদের মধ্যে তর্কের সৃষ্টি হয় এবং উভয় ই ক্ষিপ্ত হয়। তর্কের একপর্যায়ে অভিযোগের আসামী সাইফুল ইসলাম সোহান(২৯) তার স্ত্রী পাপিয়া(২৮) গায়ে হাত তোলেন এবং বেধরক নির্যাতন করেন। স্ত্রী পাপিয়া নিরুপায় হয়ে প্রায় অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকলেও থেমে থাকেননি অমানুষ সাইফুল। সে নাটকীয়ভাবে পুলিশের জরুরী পরিষেবা ৯৯৯ এ কল দিয়ে "তার জীবন সংকটাপন্ন" এই বাহানায় তার বাসায় রাত ০২ঃ০০ টায় পুলিশ ডেকে নিয়ে আসেন এবং স্ত্রী কে গ্রেফতার করতে বলেন।পুলিশ পরিদর্শন শেষে সাইফুল ইসলাম কে থানায় ডেকে নিয়ে আসেন এবং তার পর থেকে সাইফুল আর তার স্ত্রীর কোন খোজ খবর নেন না।
কিন্তু সে তার স্ত্রী কে হয়রাণীমূলকভাবে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে নিউজ করে তার মান সম্মান হানী করেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অশালীন ভাষায় স্টাটাস দেন আর আপত্তিকর অনেক ব্যক্তিগত ছবি পোস্ট করতে থাকেন।এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য পাপিয়া থানায় হাজির হইয়া অভিযোগ দাখিল করেন এবং আইসিটি মামলা করবেন বলে জানা যায়।
উক্ত ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে সরেজমিন তদন্তে বেরিয়ে আসে আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য।জানা যায়, অভিযোগের বিবাদী সাইফুল ইসলাম ওরফে সোহান ও পাপিয়ার মধ্যে দীর্ঘ ৫ বছরের পূর্ব থেকে প্রেমের সম্পর্ক বিদ্যমান। প্রেমের ফাদে ফেলে সাইফুল পাপিয়াকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অনেকবার ধর্ষণ করেন। একপর্যায়ে তা মামলা পর্যন্ত গড়িয়ে এখন আদালত পাড়ায় নথিপত্র ঘুরাঘুরি চলমান।
ধারণা করা হচ্ছে- ধর্ষণ মামলা থেকে নিজেকে রেহাই পেতে তিন মাস আগের নাটকীয় সাজানো বিয়েতে জোড়পূর্বক পাপিয়া কে রাজি করানো হয় এবং তার পর থেকে ই চলতে থাকে একের পর এক নির্যাতন। সাইফুল ইসলাম সম্পর্কে আরো জানতে এলাকার আঃ আজিজ বেপারী কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন,সাইফুল কে আমি চিনি, হ্যায় আগে এলাকায় মুরগী বিক্রি করত।এহন সে বিভিন্ন মাদক সেবন করে অধিকাংশ সময় ই নেশাগ্রস্ত অবস্থায় থাহেন।
নির্যাতনের ধরণ ও অমানবিক জুলুমের কথা জানতে পাপিয়া ইসলাম কে কল দিলে তিনি বলেন,
আমার সাথে সে প্রতারণা করে ধর্ষণ মামলা চলাকালীন অবস্থায় জোড় করে তিন মাস আগে বিয়ে করে।তারপর থেকে সে বিভিন্ন ভাবে আমায় নির্যাতন করেন। আমি সবশেষে সহ্য করতে না পেরে থানায় আইনের আশ্রয় নিয়েছি, আমি চাই সে যেন তার উচিত শিক্ষা পায়।কারণ তার কারণে আমি সমাজে মুখ দেখাতে পারিনা, সে আমার স্বামী হওয়া স্বত্বেও আমার গোপন অনেক ছবি ফেসবুকে ছেড়ে আমার মান সম্মান সব শেষ করছে, আমি আমার বিচার না পেলে আমি আত্নহত্যা করব।
এ ব্যাপারে সাইফুল ইসলাম কে মুঠোফোনে কল দিলে তাকে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নূরুল ইসলাম কে মুঠোফোনে কল দিলে তিনি প্রতিবেদক কে বলেন- আমরা অভিযোগ পেয়েছি,তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
প্রকাশক ও সম্পাদক : ফয়সাল হাওলাদার।
Copyright © 2026 মেহেন্দিগঞ্জ টাইমস ।। Mehendiganj Times. All rights reserved.