প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ২৬, ২০২৬, ৩:৩৯ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জানুয়ারী ২৫, ২০২২, ৪:০০ এ.এম
নগরীর রুপাতলিতে মসজিদ নির্মানে বাধা! এলাকায় উত্তেজনা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
বরিশাল নগরীর ২৪ নং ওয়ার্ডের কাজি বাড়ি এলাকায় নির্মানাধীন মসজিদ নির্মানে বাধা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। বিষয়টি সমাধান চেয়ে ভুক্তভোগী মুসুল্লি ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে স্থানীয় কাউন্সিলর ও রাজনৈতিক নেতাদের কাছে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে বর্তমানে এ ঘটনায় ঐ এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, ২৪ নং ওয়ার্ডের কাজি বাড়ির বিভিন্ন ব্যাক্তি এবং এলাকাবাসীর উদ্দোগে " কাজি বাড়ি জামে মসজিদের নির্মান কাজ চলছিল। তবে পুরো মসজিদ কমপ্লেক্সের মাঝখান থেকে পাশের বসতিদের চলাচলের রাস্তা থাকায় নীচ থেকে রাস্তা ফাঁকা রেখে মসজিদের ২ অংশকে একত্রে রাখার অভিপ্রায়ে ১৬ ফুট উচ্চতার ছাদ নির্মাণের উদ্যোগ নেয় মসজিদ কমিটি। কিন্তু মসজিদের অদুরে থাকা খালি জমির একটি অংশের মালিক হজরত আলীর পুত্র আবদুল আলীম ছাদ নির্মানে বাধা দেয় এবং বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে। আদালত উক্ত স্থানে শান্তি শৃংখলা রক্ষার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।এদিকে মসজিদের চলমান নির্মাণ কাজ বন্ধ হওয়ায় স্থানীয় মুসুল্লি ও এলাকাবাসী তীব্র ক্ষোভে ফেটে পরে যা যেকোনো সময় সহিংসতায় রুপ নিতে পারে। সরজমিনে গতকাল বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় উত্তেজিত মানুষের সমাগম। এ সময় তাদের শান্ত করতে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন ওয়ার্ড কাউন্সিলর শরীফ আনিচুর রহমান এবং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি নাজমুল হুদা। তারা উত্তেজিত মুসুল্লিদের শান্ত করার চেস্টা করেন এবং অভিযুক্ত আবদুল আলীমের সাথে কথা বলার চেস্টা করেন। কিন্তু আলীম কাউন্সিলের প্রশ্নের জবাব না দিয়ে উল্টো তার সাথে দুর্ব্যবহার করেন। এ বিষয়ে কাউন্সিলর শরীফ আনিচুর রহমান বলেন, আমি সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসি এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি নাজমুল হুদাকে সাথে নিয়ে উত্তেজিত এলাকাবাসীকে শান্ত করার চেস্টা করি। পাশাপাশি মসজিদ নির্মানে বাধাদানকারী আলিমের সাথে ফোনে যোগাযোগ করি। কিন্তু তিনি আমার কোন কথাই কর্নপাত না করে আমার সাথে দুর্ব্যবহার করে। অভিন্ন বক্তব্যে নাজমুল হুদা বলেন, মসজিদ হলো আল্লাহর ঘর। আর তা নির্মানে যারা বাধা দেয় তারা কাফেরের সমতুল্য। আমি এবং কাউন্সিলর মিলে আপাতত জনগনের ক্ষোভকে প্রশমিত করেছি। তবে যেহেতু অভিযুক্ত আলীম একজন মুসলমান, সেহেতু তারও উচিত হবে মসজিদ নির্মানে বাধা না দিয়ে বরং সহযোগিতা করা। জানতে চাইলে মসজিদ কমিটির সদ্য পদত্যাগকারী সভাপতি কাজী সোলেমান বলেন, আমাকে অভিযুক্ত করে যে মামলা দায়ের করা হয়েছে তা সম্পুর্ন মিথ্যা। আমি আত্নসন্মান বজায় রাখার স্বার্থে চলতি মাসের ১০ তারিখ দ্বায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়েছি।তিনি আরও বলেন, সকলের দান করা জমিতে নির্মিতব্য মসজিদের কাজে কোন মুসলমান বাধা দিতে পারে,তা আমার বোধগম্য নয়। অপরদিকে মসজিদ নির্মানে বাধা দেওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক খলিল কাজী ভোরের অংগীকারকে জানান, আমরা স্থানীয় বাসিন্দারা জমি দান করে মসজিদ নির্মান করতেছি। কিন্তু আবদুল আলীমের এখানে কোন জায়গা না থাকা স্বত্বেও তিনি গায়ের জোরে মসজিদ নির্মানে বাধা দিচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, উল্লেক্ষিত স্থানে আলীমের কোন জমি নেই। তারপরও তিনি অযাচিত ভাবে আমাদের মসজিদ কমিটির সাবেক সভাপতি ও তার ভাতিজার বিরুদ্ধে আদালতে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন। আমরা প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে এই ঘটনার সুরাহা চাই, অন্যথায় এলাকাবাসীকে নিয়ে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলব। এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত আবদুল আলীমের সাথে কথা বললে তিনি জানান, সিটি করপোরেশনের রাস্তার উপর ছাদ দেয়া অবৈধ। একারণেই তারা ছাদ নির্মান বন্ধ করে দিয়েছে। আমি সমস্যা সমাধানকল্পে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি। আদালত যে সিদ্বান্ত দেবে, আমি তা মেনে চলব। সর্বশেষ, এ ঘটনায় ঐ এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক : ফয়সাল হাওলাদার।
Copyright © 2026 মেহেন্দিগঞ্জ টাইমস ।। Mehendiganj Times. All rights reserved.