বিশেষ প্রতিনিধিঃ জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা বর্তমান সফল প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার পর পদ্মা সেতু থেকে শুরু করে দেশের অভাবনীয় উন্নয়ন সাধিত হয়েছে এতে বিন্দু মাত্র সন্দেহ নেই। যার ফলে জননেত্রী শেখ হাসিনার সু-যোগ্য নেতৃত্বে দেশ-বিদেশে বর্তমান সরকারের ব্যাপক সুনাম অর্জন সম্ভব হয়েছে। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, জাতির জনকের হাতে গড়া ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের অর্জিত সুনাম দলের ভিতর কিছু হাইব্রিড নেতা কর্মীর উচ্ছৃখল কর্মকাণ্ডের কারণে জনগনের কাছে প্রশ্ন বিদ্ধ হচ্ছে। সেই হাইব্রিড নেতাদের অত্যাচারে ও ক্ষমতার দাপটে সাধারণ মানুষ যেন জিম্মি প্রায়। যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসা উচিৎ বলে মনে করেন আওয়ামীলীগের পরীক্ষিত ও সৎ নেতা-কর্মীরা। কারণ কিছু দলীয় হাইব্রিড উচ্ছৃঙ্খল নেতা-কর্মীর জন্য আওয়ামীলীগের সুনাম বিনষ্ট হোক এটা অনেকেই যেমন প্রত্যাশা করেনা ঠিক তেমনি দলিয় ক্ষমতার অপব্যবহারকারীরা অপরাধ করে ক্ষমা পেয়ে যাক সেটাও তারা চান না।বলছি পিরোজপুর জেলার কাউখালী সদর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ নেতা আমিনুর রশিদ মিল্টনের বিভিন্ন অপকর্মের কথা। তিনি স্থানীয় সরকারের অধীনে একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে পুরো এলাকায় দলীয় প্রভাব বিস্তার করে সাধারণ মানুষের বসত-ভিটা বাগানবাড়ী কৃষি খামার থেকে শুরু করে মাছের ঘের পর্যন্ত দখল করে রেখেছেন। পাশাপাশি সরকারি খাস জমিও নিজ দখলে নিয়েছেন। তিনি এলাকায় গড ফাদার হিসেবে পরিচিত। তিনি চলেন বিলাসবহুল গাড়িতে সঙ্গে রাখেন বডি গার্ড।মাত্র কিছুদিনের মধ্যে তাঁর স্ত্রী ও বিশাল সম্পত্তির মালিক বনে গেছেন। খোজ নিয়ে জানা গেছে, তিনি আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়ে( নৌকা প্রতিক) চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে যেনো আলাদীনের চেরাগ পেয়েছেন। নির্বাচনে জয় লাভ করেই জড়িয়ে পরেছেন নানা অপকর্মে এমনটাই অভিযোগ উঠেছে এই ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। স্থানীয় ভুক্তভোগিরা এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে তিনি এখন অন্যের জমি দখলের নেশায় মগ্ন থাকেন সর্বক্ষণ। জোড়পূর্বক অন্যের জমি দখল করা তার এখন নেশায় পরিণত হয়েছে। যার ফলে স্থানীয় ভাবে ভূমি দস্যু হিসেবেই অধিক পরিচিত। কারণ, সরকারি খাস জমিও বাদ যায়নি তার কুনজর থেকে।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আমিনুর রশিদ মিল্টন দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচনে হয় পেয়ে স্থানীয় এক সংখ্যালগু পরিবারের খালি যায়গা দখল করে বাগান বাড়ি ও কৃষি খামার গড়ে তুলছেন।সেই বাগান ও কৃষি খামারের কর্মচারীরা ঠিক মতো বেতন না পেয়েও কাজ করতে বাধ্য থাকেন তার খামারে।তার ক্ষমতার দাপট এতটাই যে কেউ মুখ খোলার সাহস পর্যন্ত পায় না। কেউ তার অপকর্মের বিরুদ্ধে মুখ খুললে তাকে গুম হতে হয় সেই ভয়ে কেউ মুখ খুলার সাহস করে না। সূত্রে আরও জানা গেছে, চেয়ারম্যান আমিনুর রশিদ মিল্টন কাউখালী কিন্ডার গার্ডেন এলাকায় ইন্জিনিয়ার এ.কে.এম রেজাউল করিম এর তিনতলা বিশিষ্ট কারুকার্জের একটি বাড়ির ইউনিট মাসিক ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করেন। পরবর্তীতে বাড়ির মালিকের লোকজন ভাড়া চাইতে গেলে বিভিন্ন টালবাহানা শুরু করেন।এক পর্যায়ে তিনি ভাড়া না দিয়েই দলীয় নেতা-কর্মীদের ছবিসহ পোষ্টার লাগিয়ে বাড়িটি দখলে নেন।এখনও বাড়িটি তার দখলে রয়েছে।শুধু তাই নয়, চেয়ারম্যান আমিনুর রশিদ মিল্টন স্থানীয় আলমের নিজস্ব মাছের ঘের দকল করে নিয়ে সেখানে নিজেই মাছ চাষ শুরু করেছেন।এভাবে তার বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে।অভিযোগ সূত্রে আরও জানা গেছে, কাউখালী ইকোপার্কের সামনে সরকারি খাস জমি অবৈধভাবে দকল করে বানিজ্যিকভাবে মার্কেট নির্মানের কাজ চলমান রেখেছেন তিনি।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, কাউখালী সদর ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুর রশিদ মিল্টন দলীয়ভাবে খুবই প্রভাবশালী হওয়ায় তার এহেন অপকর্মে বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না।যার ফলে ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারী বেসরকারী ও ব্যক্তি মালিকানাধীন সম্পত্তি ভোগ দখল করে তিনি বানিজ্য মেতে উঠেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় আর এক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেছেন,চেয়ারম্যান আমিনুর রশিদ মিল্টন দলের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে প্রতিনিয়তই স্থানীয়দের অত্যাচার ও শোষণ করে যাচ্ছেন। স্থানীয় প্রশাসনও যেন নিরব ভূমিকায় রয়েছে।অনেকেই মনে করেন, প্রশাসন এবং দলীয়ভাবে হাইকমান্ড থেকে তার বিরুদ্ধে তদন্ত স্বাপেক্ষে ব্যবস্থা না নিলে অন্যান্য অপরাধীরা সুযোগ নিবে।যার ফলে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হবে।সূত্রে আরও জানা গেছে, অন্যের জমি করে বিশাল সম্পত্তির মালিক বনে যাওয়া চেয়ারম্যান আমিনুর রশিদ মিল্টন আগামী ইউপি নির্বাচনে দলীয় প্রতিক পাওয়ার জন্য শো-ডাউন শুরু করেছেন। কারণ তিনি মনে করেন, দলীয় প্রতিক পেলেই জনগনের ভোটের আর তার দরকার হবে না।তাই তিনি হাই কমান্ডে জোড়-লবিং শুরু করেছেন।এ বিষয়ে কাউখালী সদর ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগনেতা আমিনুর রশিদ মিল্টনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তার ব্যবহিত ফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক : ফয়সাল হাওলাদার।
Copyright © 2026 মেহেন্দিগঞ্জ টাইমস ।। Mehendiganj Times. All rights reserved.