প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ২৩, ২০২৬, ৭:৪২ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ২০, ২০২১, ২:১০ পি.এম
কদমতলী থেকে গ্রেফতার মুন মা বাবা বোনকে হত্যার পর ৯৯৯-এ কল।

অনলাইন ডেস্কঃ
মা বাবা বোনকে হত্যার পর ৯৯৯-এ কল।
অনলাইন ডেস্কঃ
মা বাবা বোনকে হত্যার পর ৯৯৯-এ কল
রাজধানীর কদমতলীর একটি বাসা থেকে একই পরিবারের তিনজনের হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে আরও দুজনকে। ঘুমের ওষুধ খাইয়ে মা-বাবা ও বোনকে হত্যার পর স্বামী ও কন্যাকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন মেহজাবিন ইসলাম মুন।
তিনজনকে হত্যার পর মুন জাতীয় জরুরি সেবা ট্রিপল নাইনে (৯৯৯) কল করেন। অন্যথায় স্বামী ও কন্যাকেও হত্যার হুমকি দেন। প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, পারিবারিক কলহের জের ধরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। আর স্বজনদের একটি অংশের অভিযোগ, মুনের বোনের সঙ্গে স্বামীর অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনকে ঘিরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
শনিবার সকালে কদমতলীর মুরাদপুর এলাকার লালমিয়া সরকার রোডের ২৮ নম্বর ছয় তলা বাড়ির দ্বিতীয় তলা থেকে মেহজাবিনের মা মৌসুমী ইসলাম (৪০), বাবা মাসুদ রানা (৫০) ও বোন জান্নাতুলের (২০) লাশ উদ্ধার করা হয়।
তবে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান স্বামী শফিকুল ইসলাম ও মেয়ে মারজান তাবাসসুম তৃপ্তিয়া (৬)। আহতদের চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আর মরদেহ তিনটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে নেওয়া হয়েছে।
ওয়ারী জোনের ডিসি ইফতেখারুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, মেহজাবিন হত্যা করে ঘটনাস্থল থেকে ফোন দেন। পুলিশ দ্রুত না গেলে তার স্বামী ও সন্তানকে মেরে ফেলার হুমকি দেন তিনি। পরে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় তাকে আটক করা হয়েছে।
তিনি বলেন, স্বামী ও সন্তান নিয়ে তিনি আলাদা বাসায় থাকেন। কাল (শুক্রবার) রাতে তিনি মায়ের বাসায় বেড়াতে আসেন। ঘুমের ট্যাবলেটগুলো পাউডারে রূপান্তরিত করে এনে বাবা-মাকে চা-কফির সঙ্গে মিশিয়ে খাইয়েছেন। এরপর রাত ৩টার দিকে ওই সময় তারা যখন অচেতন হয়ে যান তখন তিনি তাদের হাত-পা শক্ত করে বাঁধেন। তাদের শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।
স্বজন, প্রতিবেশী ও পুলিশ জানায়, রাতে পরিবারের সবাইকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ান মেহজাবিন। সবাই অচেতন হয়ে পড়লে মা-বাবা ও বোনকে রশি দিয়ে বেঁধে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। স্বামী ও শিশু সন্তানকেও ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়েছিল। তবে তারা অল্পের জন্য বেঁচে গেছেন।
মেহজাবিন তার বাবা-মা ও বোনকে হত্যার পর ৯৯৯-এ কল করেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘আপনার দ্রুত না আসলে আমার স্বামী ও মেয়েকে খুন করে ফেলব।’ পরে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ নিহত তিনজনের লাশ উদ্ধার করে। তাদের শরীরে বিষক্রিয়ার আলামতও আছে। অন্য দুজনকে অচেতন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
পরে শফিকুলকে মিটফোর্ড হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে সে হাসপাতালটির মেডিসিন বিভাগের ইউনিট-১ এর ৬০ নম্বর বেডে সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. মাহবুবুর রহমান খানের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসলে শফিকুল ইসলাম বলেন, তাদের বাসা কদমতলীর বাগানবাড়িতে। মুরাদপুরে একটি বাসার দ্বিতীয় তলায় ভাড়া থাকে তার শ্বশুর-শাশুড়ির পরিবার। স্ত্রী মেহজাবিনের সঙ্গে আমার বেশ কিছুদিন ধরেই বিরোধ চলছে।
তারই জের ধরে সে ঘটনাটি ঘটিয়ে থাকতে পারে। এর আগেও তরমুজের সঙ্গে কিছু একটা মিশিয়ে সে হত্যার চেষ্টা করেছিল বলেও জানান তিনি। ঘটনার দিন তারা শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন এবং রাতে খাবার ও চা খেয়ে সে ও তার মেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন।
প্রতিবেশী ও স্বজনদের একটি অংশের অভিযোগ, শফিকুল জোর করে শ্যালিকার সঙ্গে বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কে জড়ান। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে গেল কয়েক মাস ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। এছাড়া টাকার জন্যও শফিকুল মেহজাবিনের ওপর নির্যাতন করত বলে অভিযোগ আছে।
এ সবের জেরে এ হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা তাদের। মেহজাবিনের খালা পরিচয় দেওয়া একজন বলেন, ‘শফিকুল তাদের মেরে ভাগ্নির ওপর দায় চাপিয়ে দিয়েছে। আর বলছে, আমার ভাগ্নি মেরেছে। কিন্তু একা একটা মানুষ কি এত মানুষকে এভাবে মারতে পারে?।
আটক মেহজাবিন ইসলামের খালা ইয়াসমিন যুগান্তরকে বলেন, আমার ভাগ্নি মেহজাবীনের স্বামী শফিক একজন খুনি ও একাধিক মামলার আসামি। ৫ বছর আগে কেরানীগঞ্জে একজনকে হত্যা করেন। সে মামলা থেকে রেহাই পেতে টাকার জন্য ভাগ্নি মেহজাবিনের সঙ্গে তার স্বামী শফিকুল ইসলামের প্রায় ঝগড়া হতো।
তাছাড়া শফিক তার শালি আমার আরেক ভাগ্নি জান্নাতুল ইসলামের সঙ্গে জোরপূর্বক অনৈতিক কাজ করত। এ ঘটনা আমার নিহত বোন মৌসুমী জানতে পেরে জামাতা শফিককে বাধা দিতেন। এ নিয়ে আমার বোনের সঙ্গে শফিকের প্রায় ঝগড়া হতো।
শফিকের সঙ্গে আমার বোন পেরে উঠতে না পেরে তার ছোট মেয়ে জান্নাতুল ইসলামকে (শফিকের শালিকে) কারাগারে দিয়ে দেন। শফিক তদবির করে ৫ মাস পর তাকে কারাগার থেকে বের করে নিয়ে এসে আবার তার সঙ্গে অনৈতিক কাজ করেন।
এ নিয়ে আমার ভাগ্নি ও বোনের সঙ্গে শফিকের কলহ লেগেই থাকত। ৪ বছর আগে সফিক আমার বোনকে (তার শাশুড়ি) হত্যার উদ্দেশ্যে গায়ে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। চিকিৎসা করতেও বাধা দেয়।
দরজা-জানালা বন্ধ করে আমার বোন ও ভাগ্নিকে প্রায়ই মারধর করত। এ বিষয়ে কদমতলী থানায় অভিযোগ জানিয়ে কোনো ফল না পেয়ে কোর্টে মামলাও করা হয়েছে।
ঘাতকের চাচাতো বোন পরিচয় দেওয়া শিলা যুগান্তরকে বলেন, গত দুদিন আগে স্বামী-সন্তানকে নিয়ে মায়ের বাড়িতে বেড়াতে আসে মেহজাবিন। এসেই তার ছোট বোন জান্নাতুলের সঙ্গে তার স্বামীর পরকীয়া রয়েছে বলে বাবা-মাকে অভিযোগ করে।
এ নিয়ে অনেক কথা কাটাকাটি হয়। তার জেরেই হয়তো এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। কদমতলী থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, মেহজাবিনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাকে সব বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
প্রকাশক ও সম্পাদক : ফয়সাল হাওলাদার।
Copyright © 2026 মেহেন্দিগঞ্জ টাইমস ।। Mehendiganj Times. All rights reserved.