হেফাজতের ৩১৩ অর্থদাতা চিহ্নিত
-
আপডেট সময় :
বুধবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২১
-
২৪০
০ বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

অনলাইন ডেস্ক //
হেফাজতে ইসলামকে বিভিন্ন সময়ে অর্থ জোগান দিয়ে সহযোগিতা করেছেন ৩১৩ জন। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাদের চিহ্নিত করেছে। এসব টাকা হেফাজতের সাবেক কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের দুই ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়। এ ছাড়া তার অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় সাড়ে ছয় কোটি টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) একেএম হাফিজ আক্তার জানান, হেফাজতের অর্থের জোগানদাতা হিসাবে এখন পর্যন্ত আমরা ৩১৩ জনকে শনাক্ত করেছি। বিভিন্ন সময় তারা হেফাজতকে এ অর্থ দিয়েছেন। এ অর্থের মধ্যে মামুনুলের দুই অ্যাকাউন্টে ছয় কোটি ৪৭ লাখ টাকা লেনদেনের হিসাব পাওয়া গেছে।
বাবুনগরীর ছেলের বিয়েতে শফীকে বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র হয় : হেফাজতের প্রতিষ্ঠাতা আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীকে তার পদ থেকে সরিয়ে দিতে বহু আগেই ষড়যন্ত্র করা হয়। অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) একেএম হাফিজ আক্তার জানান, হেফাজতে ইসলামের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির আমির জুনায়েদ বাবুনগরীর ছেলের বিয়েতেই আল্লামা শফীকে হেফাজতের আমিরের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র হয়। বিয়ের দিন মামুনুল হক ও জুনায়েদ আল হাবিবসহ কয়েকজন নেতার বৈঠক হয়। বৈঠকে শফীকে সরিয়ে বাবুনগরীকে আমির করার পরিকল্পনা হয়।
রিমান্ডে মামুনুলের দেওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে হাফিজ আক্তার আরও জানান, জুনায়েদ বাবুনগরীর বাসায় বৈঠকটি হয়েছিল। আহমদ শফীকে সরিয়ে দিয়ে হেফাজতের আমির হিসাবে নিজেকে আবির্ভাব করার পরিকল্পনা করেন বাবুনগরী। পরবর্তী সময় হাটহাজারি মাদ্রাসায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে শফীর অনুসারীদের মাদ্রাসা থেকে বিতাড়ন করা হয়। আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মামুনুল হককে আবারও রিমান্ডে নেওয়া হতে পারে বলে অতিরিক্ত কমিশনার হাফিজ জানান।
১৮ এপ্রিল মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসা থেকে মামুনুলকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মতিঝিল শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতের তাণ্ডব ও চলতি বছরের ২৬ মার্চ বায়তুল মোকাররমের ঘটনায় দুই মামলায় তিনি রিমান্ডে আছেন।
মামুনুলের কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী ঝর্ণা উদ্ধার : হেফাজত নেতা মামুনুল হকের কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাত আরা ঝর্ণাকে উদ্ধার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মঙ্গলবার রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মামুনুল হকের বোন দিলরুবার বাসা থেকে ঝর্ণাকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে তার আইনগত অভিভাবক বাবা ওলিয়ার রহমানের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়। ১১ এপ্রিল মাকে উদ্ধারের আবেদন জানিয়ে ঝর্ণার বড় ছেলে আব্দুর রহমান জামি রাজধানীর পল্টন মডেল থানায় জিডি করেন। এ ছাড়া সোমবার ঝর্ণার বাবা ওলিয়ার রহমান মেয়েকে উদ্ধারের জন্য কলাবাগান থানায় আরেকটি জিডি করেন। এরপরই ডিবির একটি দল ঝর্ণার অবস্থান জানার চেষ্টা করেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন, মোহাম্মদপুরের একটি বাসায় ঝর্ণাকে আটকে রাখা হয়েছে। সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করা হয়।
৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের রয়েল রিসোর্টে এক নারীসহ স্থানীয় লোকজনের হাতে আটক হওয়ার পর মামুনুল হক ঝর্ণাকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসাবে দাবি করেন। তবে এ সংক্রান্ত কোনো কাবিননামা তিনি দেখাতে পারেননি। মামুনুলের দাবি, শরিয়তমতে তিনি ঝর্ণাকে বিয়ে করেছেন। তবে সম্পত্তির অধিকার না-দেওয়া ও সন্তান ধারণ না-করার শর্তে তিনি তাকে বিয়ে করেন।
Like this:
Like Loading...
নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
Leave a Reply