রাত ৯টা পর্যন্ত মার্কেট ও শপিংমল খোলা
-
আপডেট সময় :
সোমবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২১
-
২৬৯
০ বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

অনলাইন ডেস্কঃ
করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি বজায় রেখে রাজধানীতে প্রতিদিন রাত ৯টা পর্যন্ত দোকান ও শপিংমল খোলা রাখা যাবে। রোববার এ তথ্য জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম। আগের সিদ্ধান্ত ছিল সকাল ১০টায় খুলে বিকাল ৫টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে। রোববারের ঘোষণায় সে সময়সীমা বাড়ল। এদিকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে চলা কঠোর লকডাউনের মধ্যেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দোকান ও শপিংমল খুলেছে। টানা ১১ দিন বন্ধ থাকার পর সরকারের নির্দেশনার আলোকে এদিন খুলল এসব দোকান ও শপিংমল। তবে গণপরিবহণ বন্ধ থাকায় ক্রেতাসমাগম কিছুটা কম ছিল।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, সরকারের নির্দেশনার আলোকে দোকান খুলেছি। স্বাস্থ্যবিধি মেনেই লেনদেন হচ্ছে। সর্বত্র মাস্ক নিশ্চিত করেছি। বিভিন্ন শপিংমল ও দোকানের প্রবেশমুখে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও হাত ধোয়ার ব্যবস্থা আছে। তিনি বলেন, শুধু বিক্রেতা নয়, ক্রেতাদেরও সতর্ক থাকতে হবে।
শপিংমল খোলার প্রথম দিন যমুনা ফিউচার পার্কে ভালো বেচাকেনা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনেই ক্রেতা-বিক্রেতাদের চলাচল করতে দেখা গেছে। জানতে চাইলে যমুনা ফিউচার পার্কের সিকিউরিটি অফিসার মো. শামসুল হক (শামস) যুগান্তরকে বলেন, মাস্ক ছাড়া কাউকে প্রবেশ করতে দিচ্ছি না। স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে পরিপালন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, খোলার প্রথম দিনই ভালো বেচাকেনা হয়েছে। ফিউচার পার্কে পর্যাপ্ত জায়গা থাকায় দূরত্ব বজায় রেখেই কেনাকাটা করতে পারছেন ক্রেতারা।
যমুনা ফিউচার পার্কের হোলসেল ক্লাবের অপারেশন ম্যানেজার মঞ্জুর আহমেদ সাগর যুগান্তরকে বলেন, রোববার হোলসেল ক্লাবে লেনদেন বেড়েছে ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ। এতদিন মানুষের মাঝে যে ভয় ছিল, শপিংমল খোলার সঙ্গে সঙ্গে সে ভয় কেটে গেছে। ধীরে ধীরে লেনদেন আরও বাড়বে। তিনি বলেন, তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেয়া হচ্ছে না।
ফিউচার পার্কের টপটেন শো রুমের ক্যাশিয়ার মো. ইমরান বলেন, এখানে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই লেনদেন হচ্ছে। ইনফিনিটি শো রুমের সহকারী ব্যবস্থাপক নাদিম যুগান্তরকে বলেন, পরিবহণ না ছাড়লে মানুষ আসবে কীভাবে? বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া উচিত। স্বাস্থ্যবিধি মেনেই কেনাকাটা হয় ফিউচার পার্কে। ‘ইয়ো ইয়ো সো’ শোরুমের বিক্রয়কর্মী সালমান পারভেজ যুগান্তরকে বলেন, খোলার প্রথম দিন হলেও বিক্রি ভালো হয়েছে। ধীরে ধীরে আরও বাড়বে।
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নিউমার্কেটে গিয়ে দেখা যায়, দোকানগুলো খোলা শুরু হয়েছে। যারা খুলেছেন, তারা ঝাড়ামোছার কাজ করছেন। এরই মধ্যে কোনো ক্রেতা এলে তাও সামলাচ্ছেন কেউ কেউ। ঢাকা সিটি করপোরেশন দোকান মালিক সমিতির সভাপতি শহীদ উল্লাহ বলেন, নিউ সুপার মার্কেটের গেট ৪০টি। এর মধ্যে রোববার ১৩টি খুলেছি। স্বাস্থ্যবিধি মেনেই বেচাকেনা চলছে। জুয়েলারি শোরুম মুখরের ব্যবস্থাপক সাইফুর রহমান বলেন, খুব দুরবস্থায় আছি। মার্কেট খুলেছে কিন্তু বিক্রি নেই। মানুষের আর্থিক যে অবস্থা জুয়েলারি কেউ কিনতে চাইছে না। কি করব জানি না। ফারিয়া ফ্যাশনের ম্যানেজার টুটুল বলেন, দিনে ২ হাজার টাকাও বিক্রি হচ্ছে না। অনেক অসুবিধায় আছি। লেডিস কর্নারের সুমন বলেন, কোনো বিক্রি নেই। বসে আছি। ফেয়ার সুজ নামের দোকানের মালিক বিল্লাল হোসেন বলেন, রোজার মধ্যে এসে দোকান খুলল। কতটা ব্যবসা করতে পারব জানি না। কারণ এখন অনেক গরম। তারপরও কিছু বেচাবিক্রি হয়তো হবে। চাঁদনী চকের মৌমি ফ্যাশনের বিক্রেতা মো. রবিন বলেন, গণপরিবহণ বন্ধ। কাছের মানুষ যারা, তারাই আসবেন। দূরের ক্রেতারা আসতে পারবেন না। বাস চলাচল শুরু হলে হয়তো বেচাবিক্রি বাড়বে। রাজধানীর বঙ্গবাজারে এনেক্স সুপারমার্কেটে দেখা গেল দোকানপাট সব খোলা কিন্তু ক্রেতা নেই।
চট্টগ্রামের শপিংমলে ক্রেতাসমাগম নেই : চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নগরীর শপিংমল, বিপণিবিতানসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খুলেছে। তবে ক্রেতাসমাগম খুব একটা দেখা যায়নি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, লকডাউনের আগে অনেকে সেরে নিয়েছেন ঈদের কেনাকাটা। তাই ক্রেতাসমাগম অনেকটা কম। প্রচণ্ড গরমের কারণেও শপিং করতে বের হচ্ছেন না মানুষ। লকডাউন পুরোপুরি উঠে গেলে মার্কেট আবারও জমজমাট হবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। এদিকে দোকানপাট ও শপিংমল খোলা রাখার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নির্দেশনা জারি করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। এ বিষয়ে দোকান মালিক সমিতি এবং ব্যবসায়ী সমিতির নেতাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শনিবার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ নির্দেশনা জারি করা হয়। নির্দেশনা প্রতিপালনে নিয়মিত জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হবে শপিং কমপ্লেক্স ও বিপণিবিতানগুলোতে।
সরেজমিন নগরীর নিউমার্কেট, টেরিবাজার, জহুর হকার্স মার্কেট ও রিয়াজউদ্দিন বাজার ঘুরে দেখা যায়, দুপুর পর্যন্ত পরিষ্কারের কাজেই ব্যস্ত ছিলেন দোকান কর্মচারীরা। ক্রেতা না থাকায় সারা দিনই পরিষ্কার ও পণ্য সাজিয়ে দিন পার করেছেন ব্যবসায়ীরা। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিলেও গণপরিবহণ না থাকায় রোববার কাজে বের হওয়া মানুষকে পোহাতে হয় দুর্ভোগ। নগরীর মোড়ে মোড়ে গাড়ির অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় অনেককে।
সিলেটেও খুলেছে দোকানপাট : সিলেট ব্যুরো জানায়, নগরীর বিভিন্ন শপিংমল ও দোকানপাট খুলেছে। সকাল থেকে সীমিত আকারে ক্রেতাও আসতে থাকেন। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতার সমাগম বাড়তে থাকে। সরেজমিন কয়েকটি মার্কেট ও শপিংমল ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকেই মালিক কর্মকর্তারা দোকান সাজাতে ব্যস্ত ছিলেন। দোকান খেলেন ঠিক সকাল ১০টার দিকে। কয়েক দিনের বিরতিতে দোকানপাটে ময়লা জমেছে। সেগুলো পরিষ্কার করে পণ্য সাজাতে দেখা যায় তাদের। দোকানিরা জানান, বৈশাখের বাজার হারিয়েছেন তারা। রোজাও চলে গেছে ১১টা। তবুও আ
Like this:
Like Loading...
নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
Leave a Reply