ভারত সীমান্ত বন্ধ দুই সপ্তাহ।
-
আপডেট সময় :
সোমবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২১
-
৩৫১
০ বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

অনলাইন ডেস্কঃ
প্রতিবেশী দেশ ভারতে করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নেওয়ায় দেশটির সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। ফলে এই সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে কেউ বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারবেন না। তবে পণ্য চলাচল স্বাভাবিক থাকবে। রোববার ঢাকায় এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এর আগে কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি কমিটি ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ভারতের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধে জোরালো সুপারিশ করে।
জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. একে আব্দুল মোমেন রোববার যুগান্তরকে বলেন, ‘দুই সপ্তাহ সীমান্ত বন্ধ থাকবে। কোনো লোক প্রবেশ করতে পারবে না। তবে কার্গো চলাচল স্বাভাবিক থাকবে।’
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাবল ফ্লাইট আগেই বন্ধ করেছে ভারত। এবার ভারত থেকে করোনাভাইরাসের কোনো মারাত্মক স্ট্রেইন যাতে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য স্থলসীমান্ত বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা স্থলসীমান্ত বন্ধের সিদ্ধান্ত আগেই নিতাম। কিন্তু অনেকে চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়ে আটকা পড়েছেন। তাই কিছুটা বিলম্ব করতে হলো। এখন আর কেউ ১৪ দিন আসতে পারবেন না।’
কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি কমিটির প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লাহ শনিবার সাংবাদিকদের বলেছেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বেঙ্গল স্ট্রেইন নামে পরিচিত ট্রিপল মিউটেশন ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া যাওয়ায় এক মাস সীমান্তে চলাচল বন্ধ রাখার সুপারিশ করেছি।
জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল রোববার যুগান্তরকে বলেন, ‘আমরা সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করব। সরকারের সিদ্ধান্তের আলোকে বিজিবি ও স্থলবন্দরসমূহ তা কার্যকর করবে।’
রোববার বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস উপলক্ষ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আয়োজিত এক আলোচনা সভার পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল বাশার খুরশীদ আলম বলেন, আর কোনো বিপর্যয় এড়াতে এখন ভারতের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ রাখা উচিত। এ বিষয়ে আমাদের মতামত আমরা যথাযথ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। যদিও সরকারের উপরের মহল থেকেই এ সিদ্ধান্ত আসবে। তিনি আরও বলেন, দেশে ভারতের ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি আছে কিনা এমন কোনো নিশ্চিত খবর আমাদের কাছে নেই। তবে দেশে নাইজেরিয়ার ভ্যারিয়েন্ট পাওয়ার কথা গণমাধ্যমে জেনেছি।
তিনি আরও জানান, মে মাসের প্রথম সপ্তাহে করোনাভাইরাসের প্রায় ২১ লাখ টিকা পাচ্ছে বাংলাদেশ।
দিল্লির সূত্রগুলো বলছে, ভারত থেকে এই মুহূর্তে টিকা পাওয়া খুবই কঠিন। ভারতের নিজেরই সমস্যা হচ্ছে। ভারতের টিকার চাহিদা বেড়ে গেছে। ভারতের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উভয় প্রকার চাহিদা বেড়েছে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন টিকার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
ভারতে এই মুহূর্তে সংক্রমণ এতটাই বেড়েছে যে, রোগীর ভিড়ে হাসপাতালে ঠাঁই পাওয়া যাচ্ছে না। বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতের সরকার ব্যাপক হারে টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন পর্যন্ত ৪৫ বছরের বেশি বয়সিদের টিকা দেওয়া হচ্ছে। আগামী পহেলা মে থেকে ১৮ বছরের বেশি বয়সিদের টিকা দেওয়া হবে। ভারতে প্রতিদিন তিন লাখ ডোজ টিকা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু ভারতের প্রতিদিনের টিকা উৎপাদনে সক্ষমতা কম।
ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে তিন কোটি ডোজ টিকা কেনার জন্য বাংলাদেশের বেক্সিমকো অগ্রিম টাকা পরিশোধ করেছে। প্রতি মাসে ৫০ লাখ টিকার সরবরাহ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ভারত থেকে এখন পর্যন্ত কেনা টিকার ৭০ লাখ ডোজ এসেছে। তার বাইরে প্রতিবেশী দেশটি বিভিন্ন সময়ে মোট তিন লাখ ৩০ হাজার ডোজ উপহার হিসাবে দিয়েছে।
ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, ভারত এই মুহূর্তে টিকার সরবরাহ দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছে। তবে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের একজন মুখপাত্র রোববার যুগান্তরকে বলেছেন, ভারত থেকে বাংলাদেশ টিকা রপ্তানিতে কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি।
শনিবার জনস্বাস্থ্য পরিষদের আহ্বায়ক ডা. ফয়জুল হাকিম, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. হারুন অর রশিদ, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. রওশন আরা, জনস্বাস্থ্য সেবা সংগঠক অনুপ কুন্ডু ও সামিউল আলম এক যুক্ত বিবৃতিতে আগামী ৩০ দিন ভারতের সীমান্ত বন্ধ রাখার দাবি জানান।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় : রোববার রাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে, পররাষ্ট্র সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিকিউরিটি সার্ভিস ডিভিশনের সচিব, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব), মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব, প্রধানমন্ত্রীর দফতর, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বিজিবি এবং কলকাতা ও আগরতলায় বাংলাদেশ মিশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এতে বলা হয়, আজ সকাল ৬টা থেকে ৯ মে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত স্থলবন্দর দিয়ে লোকজনের চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। বাংলাদেশের যে সব নাগরিক চিকিৎসার জন্য বর্তমানে ভারত অবস্থান করছেন তাদের ভিসার মেয়াদ ১৫ দিনের কম হলে এবং ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কোভিড-১৯ পিসিআর টেস্টে নেগেটিভ সনদ থাকলে তারা বাংলাদেশ মিশন নয়াদিল্লি, কলকাতা কিংবা আগরতলা থেকে অনুমতি নিয়ে বেনাপোল, আখাউড়া এবং বুড়িমারি স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারবেন। এ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশে প্রবেশ করার পর ২ সপ্তাহ কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। এ তিনটি স্থলবন্দর ছাড়া অপর যে কোনো বন্দর দিয়ে লোকজনের চলাচল ২ সপ্তাহের জন্য পুরোপুরি স্থগিত থাকবে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, পণ্য পরিবহণকারী পরিবহণগুলোকে বাংলাদেশে প্রবেশের পূর্বে যথাযথভাবে জীবাণুমুক্ত করা হবে। চালক ও হেলপারকে কোভিড-১৯ নিরাপত্তা প্রটোকল কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।
এতে বলা হয়, এই
Like this:
Like Loading...
নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
Leave a Reply