অক্সিজেন রাজধানীর মহাখালী করোনা হাসপাতালে এক রোগীকে নিয়ে আসছেন স্বজনরা।
-
আপডেট সময় :
বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল, ২০২১
-
৩১৩
০ বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

দেশে যেকোনো সময় অক্সিজেনের ভয়াবহ সংকট সৃষ্টি হতে পারে। বন্ধ হয়ে যেতে পারে মেডিকেল গ্রেড অক্সিজেনের মূল জোগানদাতা লিন্ডের দুটি প্ল্যান্ট। পাশাপাশি করোনা পরিস্থিতিতে ভারতে অক্সিজেনের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দেশটি অক্সিজেন রপ্তানি বন্ধ করে দিতে পারে।
এসব আশঙ্কা বাস্তবে রূপ নিলে চলমান করোনা সংক্রমণে প্রতিদিন যে পরিমাণ অক্সিজেনের প্রয়োজন তার চার ভাগের এক ভাগও সরবরাহ করা সম্ভব হবে না। ভয়াবহ সমস্যায় পড়তে পারেন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কোভিড রোগীরা। সম্প্রতি অক্সিজেন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশে বর্তমানে অক্সিজেনের চাহিদা ১৫০ টন। এর মধ্যে লিন্ডে ও স্পেক্টা সরবরাহ করছে যথাক্রমে ৮০ টন এবং স্পেক্ট্রা ৩৮ টন। সম মিলিয়ে ১১৮ টন। কিন্তু লিন্ডের দুটি ইউনিট যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সেজন্য অধিদপ্তর ৩টি নতুন উৎসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। এসব উৎস থেকে পাওয়া যাবে মোট ৭৫ টন। তবে বর্তমানে এই তিনটি প্রতিষ্ঠান মাত্র ৩৫ টন অক্সিজেন দিতে পারবে বলে জানিয়েছে। এর মধ্যে আবুল খায়ের স্টিল মেল্টিং লি. দৈনিক ৭ টন, ইসলাম অক্সিজেন ২০ টন এবং এ কে অক্সিজেন লি. ৮ টন সরবরাহ করতে পারবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোভিড পরিস্থিতির আগে দেশে দৈনিক ১০০ টন মেডিকেল গ্রেড অক্সিজেনের চাহিদা ছিল। কোভিড রোগীদের সংখ্যা বাড়ায় হাইফ্লো নেজাল ক্যানুলা, ভেন্টিলেটর ও আইসিইউর চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় অক্সিজেনের চাহিদা বাড়ছে, যা বর্তমানে ১৫০ টনে পৌঁছেছে। এই চাহিদা আরও বাড়তে পারে। সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পরিচালক হাসপাতাল, লাইন ডিরেক্টর হাসপাতাল ও একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে অক্সিজেন সরবরাহকারী কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিরা আলোচনা করেন। সেখানে তারা তাদের সামগ্রিক অবস্থা তুলে ধরেন।
সেই সভায় জানানো হয়, লিন্ডে বাংলাদেশ দেশের সব সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের বড় অংশ সরবরাহ করে থাকে। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জে অবস্থিত প্ল্যান্ট থেকে ৬০ টন এবং চট্টগ্রামে অবস্থিত প্ল্যান্ট থেকে ২০ টন অক্সিজেন উৎপাদন করে। ২০২০-এর ১১ ডিসেম্বর লিন্ডের নারায়ণগঞ্জে অবস্থিত প্ল্যান্টের কম্প্রেসারের মোটর পুড়ে যায়। ফলে অক্সিজেন উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে এই কারখানা চালু আছে। অন্যদিকে চট্টগ্রামের প্ল্যান্ট যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে তারা জানিয়েছে। গত ৩ থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই প্ল্যান্ট বন্ধ ছিল।
অন্যদিকে স্পেক্ট্রা অক্সিজেন লি. প্রতিদিন ৩৮ টন অক্সিজেন সরবরাহ করছে। তারা স্থানীয়ভাবে ২০ টন এবং ভারত থেকে ১৮ টন আমদানি করছে। সেখানে আরও বলা হয়, ভারত থেকে লিকুইড অক্সিজেন আনা সময়সাপেক্ষ হওয়ায় এবং সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পরিবহণ বন্ধ থাকায় অক্সিজেনের সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ ছাড়া লিন্ডের দুটি প্ল্যান্টই যেকোনো মুহূর্তে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলম যুগান্তরকে বলেন, অক্সিজেনের চাহিদা নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। এখন পর্যন্ত চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। আশা করছি, কোনো বড় ধরনের সংকট হবে না।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. ফরিদ হোসেন মিঞা যুগান্তরকে বলেন, দেশের বর্তমান অক্সিজেন চাহিদা মেটাতে স্থানীয়ভাবে দুটি কোম্পানি উৎপাদন করছে। পাশাপাশি ভারত থেকে তরলীকৃত অক্সিজেন আমদানি করা হচ্ছে। কিন্তু ভারতে অক্সিজেনের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় রপ্তানি বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
তিনি বলেন, ভারত যদি অক্সিজেন রপ্তানি বন্ধ করে দেয়, তাহলে আমাদের হাসপাতালগুলোয় অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দেবে। সেই ঘটতি পূরণে আমরা তিনটি অক্সিজেন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করেছি। কিন্তু তাদের তরল অক্সিজেন উৎপাদনের সক্ষমতা অনেক কম, যা দিয়ে ঘটতি পূরণ করা সম্ভব হবে না। সেরকম পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে কী করবেন-জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রাপ্ত অক্সিজেনের সুসম বণ্টন নিশ্চিত করা হবে।
সূত্র জানায়, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে নতুন উৎস খুঁজতে শুরু করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। নতুন উৎস হিসাবে যে তিনটি কোম্পানির সঙ্গে অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে সেগুলো হলো : আবুল খায়ের স্টিল মেল্টিং লি., সীতাকুণ্ড, যাদের দৈনিক মোট উৎপাদনক্ষমতা ২৫০ টন। তবে তরলীকৃত অক্সিজেন উৎপাদনের ক্ষমতা মাত্রা ১৫ টন। প্রতিষ্ঠানটি মেডিকেল গ্রেড অক্সিজেন বিক্রির সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। তবে কোভিড পরিস্থিতি বিবেচনা করে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর তাদের সাময়িক অনুমোদন দিয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের ইসলাম অক্সিজেন। যাদের দৈনিক উৎপাদনক্ষমতা ৭০ টন। যার মধ্যে তরলীকৃত অক্সিজেনের পরিমাণ ৪০ টন। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জের এ কে অক্সিজেন (প্রা.) লিমিটেড। যারা দৈনিক ২০ টন তরল অক্সিজেন উৎপাদনে সক্ষম। এই দুটি প্রতিষ্ঠানও ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অনুমোদন প্রাপ্ত।
প্রতিদিন যেভাবে করোনা সংক্রমণের পাশাপাশি অক্সিজেনের চাহিদা বাড়ছে তাতে সার্বিক চিকিৎসা পরিস্থিতি অবনতি ঘটার শঙ্কা রয়েছে। এমনকি প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সুবিধা দিতে না-পারলে অনেক মুমূর্ষু রোগী মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে পারে। এমন তথ্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, দেশে কোভিড চিকিৎসা দেয় (সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে) এমন হাসপাতালগুল
Like this:
Like Loading...
নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
Leave a Reply