উপকূলবাসী করোনা লকডাউন প্রকটে ভালো নেই!
-
আপডেট সময় :
বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২১
-
২৬১
০ বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

আব্দুল কাইয়ুম, কুয়াকাটা প্রতিনিধিঃ
মহামারীতে দরিদ্রের আর্তনাদ শোনার কেউ নেই?
করোনার প্রকটে লকডাউন পরিস্থিতি সময়ে এসে বাংলাদেশের সর্বদক্ষিনে অবস্থিত পর্যটক নির্ভর উপকূল কুয়াকাটা পৌরসভার অর্থনৈতিক অবস্থা থমকে দাঁড়ালো।
উপকূলের ক্ষুদ্র ব্যাবসায়ী, শ্রমিক এবং দিনমজুরসহ সকল শ্রেনীর মানুষের মধ্যে একটি সীমাহীন আশঙ্কার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
কুয়াকাটা সৈকতে প্রায় ২শত ফটোগ্রাফার রয়েছে যাদের একমাত্র আয়ের উৎস পর্যটক আগমনকে কেন্দ্র করে। সৈকতে পর্যটক শূন্য থাকায় তাঁদের রোজগার বন্ধ রয়েছে অনেকদিন ধরে। হাসান মাহমুদসহ বেশ কয়েকজন ফটোগ্রাফার উল্লেখ করে বলেন, আমাদের এই পর্যটন কেন্দ্রে একমাত্র আয়ের উৎস পর্যটক ঘিরে, এর মাধ্যমে আমাদের আয়, এখন আয় বন্ধ! আমাদের এই ২শত পরিবার কি করে পেটে দুমুঠো ভাত দিবে? আমাদের মধ্যে অনেক পরিবার রয়েছে যারা দিন আনে দিন খায় তাদের কে সাহায্য করবে? কে আমাদের পাশে দারিয়ে একটু সহযোগিতার সুদৃষ্টি দিবে? আমরা আজ নিরুপায় হয়ে পরেছি, আমরা বাংলাদেশ সরকারের কাছে সাহায্য চাই যাতে সামান্যভাবে বেঁচে থাকা সম্ভব হয়। যদি এভাবে চলতে থাকে তাহলে আমাদের ধুঁকে ধুঁকে মরা ছাড়া উপায় থাকবেনা!
সৈকতের ক্ষুদ্র ব্যাবসায়ী শাহানা (৪০) ও জয়নাল (৪৪) বলেন, আমাদের খাবার দিন তাহলে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে পরবো, যদি পেটে খাবার না থাকে অনাহারে মরতে হয় তাহলে আমি করোনার ভয় দিয়ে কি করবো? আমি অনাহারে মরার চাইতে করোনায় মরে শান্তি পাবো!
অটোরিকশা শ্রমিক মঞ্জু (৫৫) সহ কয়েকজন জানিয়েছেন, গত বছর লকডাউনে যে পরিস্থিতি ছিল সে অভাব এখনো আমার পূরণ করে উঠা হয়নি! আমাদের গরিবেরা যে কতোটা অসহায় তা বলার মতো কেউ নেই। তিনি বলেন আমার গাড়ি ভাড়ায় চলে, বর্তমানে যে কামাই তা দিয়ে আমার ভাড়ার টাকাই ওঠেনা সংসারে চাল-ডাল কি করে নিবো? তিন বেলা খাবার আমাদের জোটেনি; আজ কাজ না করলে আগামীকাল অনাহারে থাকতে হবে, এখন তেমন অন্য কাজও নেই, এভাবে চলতে থাকতে মরা ছাড়া উপায় থাকবেনা।
সৈকতের ক্ষুদ্র শুটকি মাছ ব্যাবসায়ী খলিল (৫০) বলেন, লকডাউনের কারনে প্রতিদিন তার ১৩-১৪ হাজার টাকার মাছ নষ্ট হচ্ছে এবং সে তুলনায় শুটকি মার্কেটের গড়ে ২লাখ টাকার মাছ নষ্ট হচ্ছে যা আমাদের জন্য পথে বসে যাওয়ার উপক্রম যা চলতে থাকলে আমাদের দূর্দশার সীমা থাকবেনা।
সৈকতের ক্ষুদ্র ঝিনুক ব্যাবসয়ী নোমান বলেন, প্রতিদিন গড়ে ২৫-৩০ হাজার টাকা আমার বিক্রি হয়। সে তুলনা আমাদের এখন ২শ থেকে ২হাজারের মতো হয় যা আমাদের সংসার মারাত্মক হুমকির মুখে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের পরিবার না খেয়ে মরতে হবে।
স্বামীহারা দুই সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন পার করছে শাহিদা বেগম (৪০) তিনি বলেন, আমি আগে খাবার হোটেলে কাজ করতাম, এখন হোটেল বন্ধ, অন্য কোনো কাজও পাইনা যা দিয়ে আমার সন্তানের ও আমার নিজের ভরনপোষণ দিবো। এ অবস্থায় আমি একজন নারী একজন মা আজ অসহায়। আমাকে যথাসম্ভব আপনারা সাহায্য করুন।
সমুদ্রের জেলে খোকন খাঁন (৪৫) বলেন, এক দিকে সমুদ্রে মাছ নেই আর আমাদের মাছ ধরতে যে পরিমাণ তেল ও সরঞ্জামের খরচ হয় এবং মাছের বর্তমান যে বাজার মূল্য তা দিয়ে খরচের টাকাও ঠিকমতো ওঠেনা সংসার কি করে চলবে? এভাবে চলতে থাকলে ছেলে-সন্তান নিয়ে মৃত্যু কামনা করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।
আবাসিক হোটেল কতৃপক্ষরা জানিয়েছে, বর্তমানে পর্যটন শূন্য থাকায় আমাদের কোনো আয় নেই। গত বছরের লকডাউনের পরিস্থিতির কাল এখনো কেটে উঠা সম্ভব হয়নি। যারা কর্মচারী রয়েছে তাদের বকেয়া দেওয়াই হিমশিম খেতে হয় সেখানে অগ্রিম বেতন দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই কারন আমাদের পরিবারেই বর্তমানে অনেক কষ্টের মধ্য সময় যাচ্ছে।
আফজাল গাজী (৫৫) সহ বেশ কয়েকজন আবাসিক হোটেল কর্মচারীরা বলেন, আমাদের কুয়াকাটা আবাসিক হোটেলে প্রায় দুই হাজার কর্মচারী রয়েছে যারা এই কাজে জরিত। এই দুই হাজার পরিবারের বর্তমানে কাজ বন্ধ রয়েছে এটা খুবই মারাত্মক সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে।
এই ২হাজার পরিবার এখন কিভাবে তাদের সংসারের অর্থের জোগান দিবে? কেমন আছে এই পরিবারগুলো?
ঐদিকে ক্ষুদ্র পান বিক্রেতা জানিয়েছেন, ৭ দিনের লকডাউনে আমার চুলোয় হাঁড়ি বসাতে অসমর্থ হয়ে পরেছি। বর্তমানে আরো সময় বাড়ানো হয়েছে, তাহলে আমাদের গরিবের কি হবে? আমার নেই জমিজমা, চাল-খোড়াক, এই সামান্য পানের দোকানে আমার সংসার চলে। সরকার যদি এই মহামারীতে আমাদের প্রতি একটু মানবিক হতেন?
কুয়াকাটা উপকূলের সকল শ্রেনীর পেশাজীবিরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আর্থিক সাহায্যের আবেদন করেছেন। খেটে-খাওয়া মানুষেরা যাতে ক্ষুধার তাড়নায় ধুঁকে ধুঁকে অনাহারে মরতে না হয় সেই মানবিক আবেদন সকলের।
Like this:
Like Loading...
নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
Leave a Reply