
এম.আর.মন্টুঃ কোন ধরনের বাধা ছাড়াই রুপাতলি থেকে সন্ধার পরে সদর রোড এলো শারমিন।তবে সিএনজি কিংবা হলুদ অটো রিকশায় নয়, ব্যাটারি চালিত রিক্সায় এসেছে মাত্র ৫০ টাকা ভাড়ায় যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমই বলা চলে। শুধু শারমিন নয়, গতকাল সন্ধায় প্রচুর লোকজনকে রিলাক্স মুডে চলতে দেখা গেছে বরিশাল নগর জুড়ে।করোনা মহামারী প্রতিরোধে সরকার ঘোষিত লকডাউন অমান্য করে স্বাভাবিক ভাবেই জনসাধারণকে চলাফেরা করতে দেখা গেছে।প্রধান সড়কে দোকানপাট বন্ধ থাকলেও অনেক ব্যাবষায়ীকে দেখা গেছে সার্টার একটু ফাঁকা রেখে দিব্যি বেচাকেনা চালিয়ে যেতে।অলি-গলির অবস্থা আরও ভয়াবহ।ইফতার শেষে পাড়ার দোকানগুলো জমজমাট দেখে গেছে মাস্কবিহীন ক্রেতা ও আড্ডাবাজদের ভীড়ে। এক্ষেত্রে পুলিশের তৎপরতাও চোখে পরেনি তেমন একটা। সন্ধার পুর্বে ইফতারের দোকানগুলোতেও প্রচুর ক্রেতাদের সমাগম ঘটে। এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রুপাতলি হাউজিং সোসাইটির এক ব্যাবষায়ী বলেন, পুলিশের তেমন কোন অভিযান না থাকায় পরিবহন এবং মার্কেট বন্ধ ব্যাতিত সব কিছুই স্বাভাবিক আছে।তবে তিনি করোনা ভাইরাসের প্রকোপ নিয়ে আতংকিত। কারন করোনা উপসর্গ নিয়ে ২৪ নং ওয়ার্ডের বেশ কয়েকজন গত ২/৩ দিনে মারা গেছেন।যাদের মধ্যে রয়েছেন ছত্তার হাওলাদার, বাচ্চু মিয়া,বাবুল হাওলাদারসহ বেশ কয়েক ব্যাক্তি। লকডাউন পালনে সাধারনের অনীহার বিষয়ে জানতে চাইলে ক্ষুদ্র ব্যাবষায়ী হেলাল মিয়া এবং সোহাগ খান অভিন্ন কন্ঠে বলেন, সাধারণ মানুষ বিশেষ করে রিকশা – অটো চালক, নির্মাণ শ্রমিক, পরিবহন শ্রমিকসহ দিন আনা দিন খাওয়া মানুষের মাঝে কোন পরিকল্পিত ত্রান কার্যক্রম না থাকায় কার্যত ভেস্তে যেতে বসেছে লকডাউন কর্মসূচি। তারা পেটের প্রয়োজনে বাধ্য হয়ে করোনার ভয়কে তুচ্ছ করে রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছে। এক্ষেত্রে পুলিশের সাথেও চলছে লুকোচুরি খেলা। এম্বুলেন্সে যাত্রীকে রোগী সাজিয়ে ছিটের উপর শোয়া অবস্থায় ঢাকা যাওয়ার পথে ১ টি গাড়িকে আটকও করেছে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ। ক্ষেত্র বিশেষ মানবিকতার চাপে পরে হলেও অনেক ছাড় দেয়া হয় বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের এক কর্মকর্তা। তিনি বলেন,সরকারি নির্দেশনা পালনে আমরা বাধ্য। তবে আমরাও মানুষ। ক্ষুদার্ত মানুষকে সবসময় আইন বুঝাতে পারিনা।এটা বুঝতে হবে। ঢিলেঢালা লকডাউন প্রসঙ্গে আলাপকালে আপন সংগীত সংগঠনের সাবেক সভাপতি বাবুল হাওলাদার আজিজ বলেন, এই মুহুর্তে সরকারের উচিত, করোনার ভয়াবহতা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে আরও অবগত করা এবং লকডাউন বাস্তবায়নে ত্রান কার্যক্রমসহ পরিকল্পিত ব্যাবস্থা গ্রহন করা।তা না হলে ফ্রী অক্সিজেন কতজন আক্রান্ত ব্যাক্তিকে সরবরাহ করতে পারবেন তা চিন্তার বিষয়।
Leave a Reply