কষ্ট যেন পিছন ছাড়ছে না । বরিশাল শহরে ৩০ বছর যাবৎ এই ঝাড়ুর ব্যবসা করি। রোধ বৃষ্টিতে সব সময়ই রাস্তায় থাকি । মোর এই ঝাড়ু বিক্রির টাকা দিয়া ৩িন মাইয়া ও ১ পোলার লেখাপড়া করাইছি। মোট কথা সংসার চলে মোর আয় । নিজেরও বয়স হইছে অনেক। এহনো রাস্তায় রাস্তায় ঝাড়ু বিক্রি করি। এই লকডাউনে মোর ঘর ভাড়া, সংসার ঘর,নিজের খাওন কেমনে চলবে? মুই তো এই বয়সে এসে ক্লান্ত হইয়া গেছি। মাইয়া তিনডা ও বিয়া দিছি। ওরা নিজেরাই ঠিকমত খাইতে পারে না। পোলাডা ছোট। ৫ওয়াক্ত নামাজ পড়ি আর আল্লাহর কাছে কই, এই লকডাউনে মোর পরিবার বাঁচাও। কথা গুলো কান্না জড়িত কন্ঠে বলছিলেন বরিশাল নগরীর ঝাড়ু বিক্রেতা সোহরাব আকন (৭০) ।
খােঁজ নিয়ে জানাযায়, সোহরাব মিয়া বরিশাল শহরে প্রায় ৩০বছর যাবৎ একটি দুই চাকার গাড়িতে করে ঝাড়ু বিক্রি করে আসছে। ৭০বছর বয়সে জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও পরিবার ও জীবন জীবিকার তাগিয়ে ছুটে চলছে।
জানাযায় স্বরূপকাঠি থানার অলংকারকাঠি গ্রামের বাসিন্দা বর্তমানে সোহরাব মিয়া নগরীর লুৎফর রহমান সড়কে ৩মেয়ে ১ ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে ভাড়াটিয়া বাসায় বসবাস করেন তিনি। তার একার আয়ে চলছে পুরো পরিবার । কোনদিন কেউ তাকে সাহায্য করেনি। পায়নি বয়স্ক ভাতা। সারাদিন নগরীর বিভিন্ন সড়কে ঘুড়ে ৫০০শত টাকা আয় করেন। আয়ের ৫শ টাকা থেকে নিজের তিন বেলা খাবার,সংসার খরচ ও ঘর ভাড়া দিয়ে শূন্যতে পড়ে থাকেন। আবার মাঝে মাঝে বৃষ্টিতে ঝাড়ু , বা ,চট বিক্রি করতে পারেন না। জীবন যুদ্ধে নিজেকে কঠোর পরিশ্রমী একজন মানুষ হিসাবে তৈরি করেছেন।
সরকার ঘোষিত চলমান এই লকডাউনে হতাশ হয়ে পড়েছেন সোহরাব মিয়া।
সোহরাব মিয়া কে বলেন , চলমান লকডাউনে মোর ঘর ভাড়া, সংসার ঘর,নিজের খাওন কেমনে চলবে পরিবার নিয়ে যাবো কোথায় ,খাবো কি? কেউ যদি মোর পাশে সাহায্য নিয়া দাড়াইতে তা হলে মোর মত একজন সোহরাব একমুঠো ভাত খাইয়া বাঁচতে পারতাে।
এদিকে সরকার ঘোষিত সেই লগডাউন নিয়ে জনসাধারণের মনে বিরাজ করছে হতাশা ঘেরা নানান প্রশ্ন। জীবন আগে নাকি জীবিকা?আগে সেটা নিয়ে রয়েছে মতপার্থক্য। কেউ কেউ মনে করেন করোনার প্রকোপ থেকে দেশবাসীকে নিরাপদ রাখতে লগডাউন যথাযথ বাস্তবায়ন করতে হবে।
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।Design & Development : It Corner BD.Com 01711073884.
Leave a Reply