মেহেন্দিগঞ্জে হঠাৎ বেড়েছে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা, দিশেহারা মানুষ।
-
আপডেট সময় :
মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২১
-
৩০৭
০ বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

মোঃ ইব্রাহীম মুন্সী //
মহামারী করোনা ভাইরাসের ছোবল থেকে রক্ষা না পেতেই মেহেন্দিগঞ্জে হঠাৎ করে বেড়েছে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা।
প্রতিদিন মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ৪০-৫০ জন রোগী ভর্তি হচ্ছেন।
৫০ শয্যা বিশিষ্ট এই হাসপাতালে জায়গার অভাবে মেঝে এবং বারান্দায় রেখে রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীরদের মধ্যে আট মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সের শিশুর সংখ্যা বেশি বলে জানা গেছে।
চিকিৎসকরা জানান, আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণেই এ অবস্থা।
সূত্রে জানা গেছে, গত মার্চ মাস থেকে হঠাৎ করে ডায়রিয়ার প্রকোপ শুরু হলেও গত কয়েক দিন ধরে এই রোগের তীব্রতা আরো বেড়ে যায়। ডায়রিয়া ওয়ার্ডে স্থান সংকুলান না হওয়ায় রোগীদের ঠাঁই হয়েছে হাসপাতাল করিডোরের মেঝেতে।
এ অবস্থায় চিকিৎসা দিতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন নার্স, চিকিৎসক এবং কর্মচারীরা।
হাসপাতালের নার্সরা জানান,
হটাৎ করে ডায়রিয়ার রোগী বেড়ে যাওয়ায় এজন্য কিছুটা বেড সংকট রয়েছে। তারপরও আলাদা দুটি কক্ষে ডায়রিয়া রোগীদের চিকিৎসা চলছে। কিন্তু চাপ বেশি থাকায় হাসপাতালের করিডোরের মেঝেতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
রবিবার ৪২ জন রোগী ভর্তি আছেন। যাদের মধ্যে অনেকেই শিশু। ২৪ ঘণ্টায় ৪০-৫০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।
চিকিৎসা নিয়ে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন।
ডায়রিয়া ওয়ার্ডের সিনিয়র নার্স জোসনা বেগম বলেন, মার্চ মাসে ৪ শতাধিকের বেশি ডায়রিয়া রোগী চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। গত চারদিনও গড়ে ৪৫-৫০জন ডায়রিয়া রোগি ভর্তি হয়েছেন।
সোনালী নামের অপর এক নার্স বলেন, প্রতিনিয়ত বাড়ছে রোগীর ভিড়,তারপরও সাধ্যমতো কর্তব্য পালন করে যাচ্ছি।
মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডাঃ আব্দুল্লাহ আল মারুফ বলেন, আবহাওয়া দ্রুত পরিবর্তন জনিত কারণে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব হতে পারে।
যারফলে দেখা যাচ্ছে যে শিশুরা এতে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে এবং শিশু ও বয়স্ক ব্যাক্তিগন দ্রুত পানি শুন্যতার শিকার হচ্ছেন।
ডায়রিয়া হলে প্রধান আতংকের বিষয় হলো পানিশূন্যতা ও লবনের ঘাটতি। এর থেকে পরিত্রাণের জন্য প্রচুর পরিমাণ তরল খাবার, খাবার স্যালাইন, ডাবের পানি খাওয়া এবং ৬ মাসের কম বাচ্চাদের প্রতি যত্নশীল থাকা এবং পাতলা পায়খানা ও বমি শুরু হলে শিশুকে মুখে খাবার স্যালাইন বার বার খাওয়ানো ও মায়ের বুকের দুধও খাওয়াতে হবে। প্রয়োজনে হাসপাতালে নেওয়া ও ভর্তির পরামর্শ দেন তিনি।
এছাড়াও বাসী খাবার পরিহার করার পাশাপাশি সবসময় হাত পরিষ্কার রাখারও পরামর্শ দেন এই চিকিৎসক।
Like this:
Like Loading...
নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
Leave a Reply