মুক্তিযোদ্ধার ওয়ারিশরাও ভাতা পাবেন অ্যাকাউন্টে মৃত্যুর পর ভাতা বণ্টন
-
আপডেট সময় :
মঙ্গলবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
-
৩০১
০ বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

অনলাইন ডেস্ক //
যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রব (ছদ্মনাম) ২০১৮ সালে মারা যান। জীবদ্দশায় ভাতা পেতেন ৩০ হাজার টাকা। তার ছয় ছেলে-মেয়ে। আবদুর রব ও তার প্রথম স্ত্রীর (মৃত) অবর্তমানে প্রথম পক্ষের চার সন্তান এবং দ্বিতীয় পক্ষে স্ত্রী ও দুই সন্তানের ভাতা পাওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা জটিলতা। প্রথম পক্ষের স্ত্রীর সন্তানদের অভিযোগ- জীবদ্দশায় তাদের বাবা মুক্তিযোদ্ধা ভাতা তুলতেন। তিনি মারা যাওয়ার পর তার দ্বিতীয় স্ত্রী ভাতা তুলে নিচ্ছেন। তাদেরকে ভাতার কোনো অংশ দেওয়া হচ্ছে না। এ নিয়ে অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার পাননি তারা।
এ সমস্যা শুধু যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রবের প্রথম পক্ষের সন্তানদেরই নয়। মারা যাওয়ার পর মুক্তিযোদ্ধার ওয়ারিশদের মধ্যে ভাতা বণ্টন নিয়ে এমন সমস্যা হাজারো পরিবারে। এ পরিস্থিতিতে সম্প্রতি বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুতে প্রাধিকারপ্রাপ্ত পরিবারের সদস্যদের পৃথক ব্যাংক হিসাবে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা বণ্টনের কথা জানিয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। এ লক্ষ্যে মুক্তিযোদ্ধার অবর্তমানে তার প্রাধিকারপ্রাপ্ত ভাতাভোগীদের পৃথক ব্যাংক হিসাব এমআইএসের (ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম) ওয়েবলিংকে সরং.সড়ষধি.মড়া.নফ লিপিবদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক সমকালকে বলেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভাতা মুক্তিযোদ্ধার অবর্তমানে একজনের অ্যাকাউন্টে প্রদান করা হচ্ছে। এতে পরিবারের অন্য যাদের ভাতা পাওয়ার কথা, তারা সময়মতো পাচ্ছেন না। এ জন্য একটি ভাতা নীতিমালা করেছি। তার আওতায় মুক্তিযোদ্ধার অবর্তমানে যারা ভাতা প্রাপ্য হবেন তাদের স্ব-স্ব ব্যাংক হিসাবে টাকা পাঠানোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা বণ্টন বিষয়ে গত ১৫ জুলাই মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অফিস আদেশ গেজেট আকারে জারি করেছে সরকার। গেজেট পর্যালোচনায় দেখা যায়, সম্মানী ভাতা পাওয়ার জন্য পাঁচটি শ্রেণি নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- ক. ভারতীয় তালিকা, খ. লাল মুক্তিবার্তা, গ. গেজেট (বীরাঙ্গনাসহ ১০ শ্রেণি), ঘ. বাহিনীর গেজেট এবং ঙ. জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের সুপারিশক্রমে প্রকাশিত সব গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা। আদেশে সম্মানী ভাতা প্রাপ্তির অযোগ্যতা, আবেদন যাচাই-বাছাই কমিটি এবং পদ্ধতিও তুলে ধরা হয়েছে।
যেভাবে বণ্টন হবে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা :অফিস আদেশ অনুযায়ী, একাধিক স্ত্রীর ক্ষেত্রে প্রত্যেক স্ত্রী মৃত মুক্তিযোদ্ধার প্রাপ্য ভাতা সমহারে পাবেন। কোনো স্ত্রী মারা গেলে মুক্তিযোদ্ধার ঔরসজাত সন্তানেরা মাতার প্রাপ্য অংশ সমহারে পাবেন। মুক্তিযোদ্ধার তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী সম্মানী ভাতা পাবেন না। তবে শর্ত থাকে যে, তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর গর্ভে মুক্তিযোদ্ধার ঔরসজাত সন্তান বা সন্তানগণ একটি পক্ষ হিসেবে বিবেচিত হবেন এবং তাদের পক্ষের সম্মানী ভাতা পাবেন। মৃত স্ত্রী বা তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর গর্ভে মুক্তিযোদ্ধার ঔরসজাত কোনো সন্তান না থাকলে এক বা একাধিক জীবিত স্ত্রী সম্পূর্ণ অংশ বা সমহারে সম্মানী ভাতা পাবেন। মুক্তিযোদ্ধার পিতা বা মাতার মধ্যে যে কেউ জীবিত থাকলে মৃত স্ত্রী বা তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর গর্ভে মুক্তিযোদ্ধার ঔরসজাত সন্তান বা সন্তানগণ ওই সম্মানী ভাতা প্রাপ্য হবেন না এবং পিতা বা মাতা ভাতার সম্পূর্ণ অংশ সমহারে পাবেন। কোনো নারী মুক্তিযোদ্ধা একাধিকবার বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হলে এবং সব স্বামীর সংসারে তার গর্ভজাত সন্তান থাকলে মৃত্যুর পর ওই নারী মুক্তিযোদ্ধার পূর্বের সংসারে তার গর্ভজাত সন্তানরাও একটি পক্ষ হিসেবে বিবেচিত হবেন এবং তাদের পক্ষের সম্মানী ভাতা সমহারে পাবেন। মৃত নারী মুক্তিযোদ্ধার স্বামী জীবিত থাকলে এবং এক বা একাধিক তালাকপ্রাপ্ত বা স্বামীর সংসারে তার গর্ভজাত সন্তান বা সন্তানগণ থাকলে জীবিত স্বামী একটি মৃত পক্ষ হিসেবে বিবেচিত হবেন এবং ওই গর্ভজাত সন্তান বা সন্তানগণ পৃথক পক্ষ হিসেবে বিবেচিত হবেন এবং সব পক্ষ ওই সম্মানী ভাতা সমহারে পাবেন। তালাকপ্রাপ্ত স্বামী সম্মানী ভাতা পাবেন না। কোনো মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী বা স্ত্রীগণ এবং পিতা-মাতা জীবিত না থাকলে মুক্তিযোদ্ধার ঔরসজাত সন্তানগণ সমহারে সম্মানী ভাতা পাবেন। এ ছাড়া মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী বা স্বামীর অবর্তমানে পিতা-মাতা সমহারে সম্মানী ভাতা পাবেন এবং পিতার অবর্তমানে মাতা বা মাতার অবর্তমানে পিতা সম্মানী ভাতার সম্পূর্ণ অংশ পাবেন। মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী বা স্বামী এবং পিতা-মাতার অবর্তমানে সন্তান সম্মানী ভাতা পাবেন এবং সন্তান একাধিক হলে সমহারে সম্মানী ভাতা পাবেন; মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী বা স্বামী, পিতা-মাতা ও সন্তানের অবর্তমানে সহোদর ভাই-বোন সম্মানী ভাতা পাবেন এবং কেবল জীবিত সহোদর ভাই-বোন ওই ভাতা সমহারে পাবেন। কোনো বৈমাত্রেয় ভাই-বোন সম্মানী ভাতা পাবেন না। অফিস আদেশে একই সঙ্গে সম্মানী ভাতা পরিশোধ ও বরাদ্দ পদ্ধতি, ইলেকট্রনিক মাধ্যমে ভাতা বিতরণ পদ্ধতিসহ ভাতা ফরমও তুলে ধরা হয়েছে।
Like this:
Like Loading...
নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
Leave a Reply