
তানজিমুন রিশাদ ।।ধূমপান ও তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন অমান্য করে বরিশাল নগরীর বিভিন্ন স্থানে দোকানঘর গুলোতে চলছে সিগারেটের বিজ্ঞাপন। দীর্ঘদিন যাবত সিগারেট কোম্পানীগুলো তাদের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে কৌশলে এসব প্রচারণা চালিয়ে আসলেও কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোন অভিযান অথবা পদক্ষেপ নজরে পড়ছেনা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে ,, নগরীর প্রাণকেন্দ্র বিবির পুকুর পাড়ে সিগারেট কোম্পানীগুলোর প্রতিনিধিরা প্রচারণা ও সহজ লভ্যতায় উঠতি বয়সি কিশোর ও অপ্রাপ্ত বয়স্করাও সিগারেটের আসক্ত করার জন্য বিভিন্ন ধরনের কৌশল অবলম্বন করছে।
জানা যায়, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ আইন ২০০৫ এর (ক) ধারায় প্রিন্ট বা ইলেকট্রনিক মিডিয়ায়, বাংলাদেশে প্রকাশিত কোনো বই, লিফলেট, হ্যান্ডবিল, পোস্টার, ছাপানো কাগজ, বিলবোর্ড বা সাইনবোর্ডে বা অন্য কোনোভাবে তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন প্রচার করা বা করানো যাবে না। (খ) ধারায় তামাকজাত দ্রব্য ক্রয়ে প্রলুব্ধ করার উদ্দেশ্যে, এর কোনো নমুনা, বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে, জনসাধারণকে দেওয়া যাবে না এবং (ছ) ধারায় তামাকজাত দ্রব্যের বিক্রয়স্থলে যেকোন উপায়ে তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন প্রচার করা যাবে না। আইনে ৬ এর (ক) (১) ধারায় কোনো ব্যক্তি অনধিক আঠারো বৎসর বয়সের ব্যক্তির কাছে তামাক বা তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি করতে পারবে না বলেও ধারায় উল্লেখ রয়েছে। একই আইনে ৫ এর ৪ ধারায় উল্লেখ রয়েছে কোনো ব্যক্তি এই ধারার বিধান লঙ্ঘন করলে তিনি অনূর্ধ্ব তিন মাস বিনাশ্রম কারাদ- বা অনধিক এক লাখ টাকা অর্থদন্ড- বা উভয় দন্ডে দন্ডনীয় হবেন এবং উক্ত ব্যক্তি দ্বিতীয়বার বা পুনঃ পুনঃ একই ধরনের অপরাধ সংঘটন করলে তিনি পর্যায়ক্রমিকভাবে উক্ত দন্ড দ্বিগুণ হারে দন্ডনীয় হবেন।
প্রকাশ্যে বিক্রয়কেন্দ্র স্থাপন ও স্থায়ী দোকানগুলোতে প্যাকেট ও লিফলেট প্রদর্শন করে আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলী প্রদর্শন করা হলেও তা বন্ধে ভূমিকা রাখছে না দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলো।
এছাড়াও প্রায় প্রত্যেকটি মুদি পণ্য, চায়ের দোকান ও কনফেকশনারী দোকানে বিক্রি করা হয় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সিগারেট। প্রকাশ্যে দোকানের শো-কেসে সাজিয়ে রাখা হয়েছে এসব সিগারেটের প্যাকেট। আবার ক্রেতার নজরে আনার জন্য এলডি, ডার্ভি, হলিউড, পাইলট, রয়েল, স্টার, শেখ, এলডি, নেভী, মেরিজ, রেলীসহ বিভিন্ন সিগারেটের ডামি প্যাকেট দিয়ে তৈরি করা শো-কেস রাখা হয়েছে দোকানের বাইরে উন্মুক্ত ও সহজে চোখে পড়ার মতো স্থানে। লোভনীয় অফারের বিজ্ঞাপনের লিফলেটও ঝুলছে কোথাও কোথাও। সেই সাথে মূল্য তালিকার স্টিকার সাঁটানো হয়েছে দোকানগুলোতে। যা তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের ৫ এর (ছ) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
নগরীতে এসব দোকানগুলোতে সিগারেট নিতে আসা ক্রেতাদের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় অপ্রাপ্তবয়স্কেরসংখ্যাও একেবারে কম নয়। আবার কোনো কোনো স্থানে অগ্রজদের সামনেই বুক ফুলিয়ে দোকানদারের কাছ থেকে সিগারেট সংগ্রহ করে নিচ্ছে অপ্রাপ্তবয়স্করা।
ধূমপান ও তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি অপ্রাপ্তবয়স্কদের কাছে সিগারেট বিক্রি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন বিশিষ্টজনরা। তাদের মতে, সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য অপ্রাপ্তবয়স্কদের কাছে সিগারেট বিক্রি বন্ধে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সচেতন করে তুলতে হবে। সে সঙ্গে অভিভাবকদের পারিবারিক শিক্ষা ও সুরক্ষা জোরদার করতে হবে।
Leave a Reply