
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
গত ৪ ডিসেম্বর রাত দুইটার দিকে কুষ্টিয়া শহরের পাঁচ রাস্তার মোড়ে বঙ্গবন্ধুর নির্মাণাধীন ভাস্কর্য ভাঙচুর করে দুর্বৃত্তরা। এসময় ভাস্কর্যের মুখ ও হাতের অংশ ভেঙে ফেলা হয়। পরে সিসিটিভির ফুটেজ দেখে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে চার জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সেদিনই ভাস্কর্য ভাঙার ঘটনায় কুষ্টিয়া পৌরসভার সচিব কামাল উদ্দিন মামলা করেন। সে দিন থেকেই সারাদেশে প্রতিবাদে মানব বন্ধন সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশনা মোতাবেক সারা বাংলাদেশে একযোগে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান এর ভাস্কর্য ভাঙ্গার প্রতিবাদে শিক্ষক সমিতি ঘাটাইল উপজেলা শাখার পক্ষ হতে এক মানব বন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উক্ত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন, খন্দকার তাহাজ্জত হোসেন। প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানব বন্ধনে বক্তব্য রাখেন, শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মোঃ রফিকুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব সরকার, সহ-সভাপতি হাসান আলী, প্রধান শিক্ষক এএইচ এম মোজাম্মেল হক, মোতালেব হোসেন, মোঃ আজাহার আলী ও সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান প্রমুখ।
প্রতিবাদ সমাবেশে শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, “সাম্প্রতিক বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যে যে ন্যক্কারজনক হামলা হয়েছে, রাতের অন্ধকারে যারা ভাঙচুর করেছে, সেই পিশাচদের প্রতি আমাদের তীব্র ঘৃণা ও নিন্দা প্রকাশের ভাষা নেই। দেশ যখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন আমরা দেখেছি বার বার দেশটাকে পেছনের দিকে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু আমার দেশের সংবিধানের অংশ। বঙ্গবন্ধু মানে বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের মানচিত্র দিয়েছেন, দিয়েছেন বাংলা ভাষার স্বীকৃতি। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের উপর হামলা মানে সংবিধানের উপর হামলা, রাষ্ট্রের উপর হামলা, দেশের জনগণের উপর হামলা আর রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে, দেশের বিরুদ্ধে, জনগণের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের হামলা, আমরা অবশ্যই এ দেশের প্রচলিত আইন আছে, তার মাধ্যমে মোকাবেলা করবো। রাষ্ট্র অবশ্যই তার যে বিধিবিধান আছে, দেশের যে আইন আছে তার মাধ্যমে তাদেরকে কঠোর হস্তে মোকাবেলা করবে। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুর রাষ্ট্রের বিরুদ্ধাচারণ, সংবিধানের বিরুদ্ধাচরণ।”
পাঁচ শতাধিক শিক্ষক শিক্ষিকা ও কর্মচারিগণ এ মানব বন্ধনে অংশ গ্রহন করে তারা তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।
Leave a Reply