
মেহেন্দিগঞ্জ টাইমস নিউজ ডেস্ক//
বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে পাতারহাট ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্রীর মায়ের সাথে অনৈতিক সম্পর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই একই মাদ্রাসার আরেক ছাত্রের মা প্রবাসীর স্ত্রী নিয়ে পালিয়েছেন জুনিয়র মৌলভী হাসনাইন মৃধা।
স্থানীয়দের মতে প্রেমিকের আর্থিক লাভের আশায় প্রবাসীর মধ্যে বয়সী স্ত্রীকে নিয়ে পালালেন। এসময় প্রবাসীর পাঠানো টাকা এবং স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছেন।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে মাদ্রাসার অভিযুক্ত জুনিয়র মৌলভী হাসনাইন মৃধাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে মাদ্রাসা কতৃপক্ষ।
গত জুন মাসে মিটিংয়ের সিদ্ধান্তে অভিযুক্ত জুনিয়র মৌলভীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও তা সমাজে প্রকাশ পায় সোমবার (৪আগষ্ট) সকালে।
ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস শাকুর অভিযুক্ত জুনিয়র মৌলভীকে বরখাস্তের সত্যতা নিশ্চিত করেন।
মেহেন্দিগঞ্জ পৌরসভার খরকি ওয়ার্ডের বাসিন্দা প্রবাসী জিয়া উদ্দিন মাল এর স্ত্রী মাকসুদা বেগম (৪০)কে নিয়ে পালিয়ে যান শিক্ষক হাসনাইন মৃধা (২৫)।
সংবাদ পেয়ে স্বামী বিদেশ থেকে দেশে ফিরে জানেন স্ত্রী যাবার সময় সঙ্গে নিয়ে গেছেন ৫ভরি স্বর্ণ আর ৭লাখ টাকা। অভাবের সংসারে সুখ ফেরাতে ১৮ বছর শ্রমিকের কাজ করেছেন তিনি। বিশ্বাস করে স্ত্রীর একাউন্টে টাকা পাঠাতেন। সে সুযোগে টাকা ও স্বর্ণ গয়না সাথে করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী স্বামী আইনি পদক্ষেপ হিসেবে প্রথমে থানায় জিডি করেন পরবর্তীতে আদালতে অভিযোগ দায়ের করের। মেহেন্দিগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছেন।
ঘটনাটি গত (১৫ এপ্রিল) ঘটলেও অনেক সময় চেষ্টা করেও প্রবাসীর স্ত্রী বা প্রেমিক মৌলভীকে খুঁজে পাওয়া যায় নি।
অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক হাসনাইন মৃধা উপজেলার সদর ইউনিয়নের রুকন্দি গ্রামের আব্দুল হামিদ মৃধার ছেলে।
ভুক্তভোগী স্বামী বলেন, শিক্ষক হাসনাঈন মৃধা আমার ৬ষ্ট শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলে জিহাদকে প্রাইভেট পড়ানোর সুযোগে স্ত্রীকে প্রেমের ফাদে ফেলে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। সে শিক্ষকতার পাশাপাশি তাবিজের ব্যবসাও করেন। কুফরি করে আমার স্ত্রীকে নিয়ে গেছেন। আমার স্ত্রী কোথায় আছেন আর কেমন আছেন জানি না । আমার ২ছেলে সন্তান রেখে গেছেন। বড় ছেলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে আর ছোট ছেলে ওই মাদ্রাসায় ৬ষ্ট শ্রেণীতে পড়াশোনা করেন।
আমি থানায় এবং আদালতে অভিযোগ দিয়েছি। স্ত্রী সন্তানের সুখের জন্য ১৮বছর বিদেশে শ্রমিকের কাজ করছি। আমার ৫ভরি স্বর্ণ এবং নগদ ৭লাখ টাকা নিয়ে গেছে। আমার টাকা ও স্বর্ণ আত্মসাতের লক্ষ্যে স্ত্রীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলেছন।
শাপলা বেগম বলেন, ওই শিক্ষক কবিরাজি জানেন। কুফরি করে আমার বড় জা-কে প্রেমের ফাদে ফেলে নিয়ে গেছেন। যার সাথে গিয়েছে ওনি একটা প্রতারক। আগেও একাধিক প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে অনৈতিক সম্পর্ক করেছেন। টাকা ও স্বর্ণ হাতিয়ে নিয়েছেন। বিশ্বাস করে ভাসুরে তার নামে ব্যাংক একাউন্ট করে টাকা পাঠিয়েছিলেন। স্বর্ণ দিয়ে পুতুলের মতো সাজিয়ে রেখেছিলেন। বিশ্বাসের ঘরে চুরি করে সবকিছু নিয়ে উধাও হলেন। একবারও ভাবলেন না স্বামী এবং সন্তানের কথা।
প্রতিবেশী হাসিনা বেগম বলেন, ওই শিক্ষক তাবিজ তুমার করে এই মহিলারে নিয়ে গেছে। মহিলার ছোট ছেলেটা মা মা বলে দিনরাত কাঁদছে। আমরা তার ছেলের কান্না সহ্য করতে পারছি না।এভাবে সোনার সংসার ফেলে চলে গেলো?।
অভিযুক্ত মৌলভীর সাথে যোগাযোগ এর চেষ্টা করে তার মুঠোফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া যায়নি। এছাড়াও তার পরিবারের সকলে বাড়িতে তালা ঝুলিয়ে আত্নগোপনে রয়েছেন।
অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস শাকুর বলেন, আমাদের মাদ্রাসার জুনিয়র মৌলভী গত ১ লা জুন ২০২৫ ইং থেকে স্বেচ্ছায় তার পদ থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন। সে মোতাবেক আমরা কমিটির মাধ্যমে তাকে অব্যাহতি দিয়েছি। সে আমাদের মাদ্রাসার এখন আর কেউ নন। তবে প্রবাসীর স্ত্রীকে নিয়ে উধাও হওয়ার বিষয়ে কেউ আমাকে লিখিত অভিযোগ করেননি।
এ বিষয়ে মেহেন্দিগঞ্জ থানার সাব ইন্সপেক্টর বিল্লাল হোসাইন বলেন, মাদ্রাসার জুনিয়র মৌলভীর সাথে প্রবাসীর স্ত্রী পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়নি। প্রবাসীর বড় ছেলে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তার মা বাড়ি থেকে বের হয়ে গেছে আর পাওয়া যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রিয়াজুর রহমান
আমার সংবাদ কে বলেন, জুনিয়র মৌলভী হাসনাঈন মৃধা প্রবাসীর স্ত্রী নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ তদন্তে সত্যতা পাওয়ায় ওই শিক্ষককে বরখান্ত করা হয়েছে।
Leave a Reply