
মেহেন্দিগঞ্জ টাইমস নিউজ ডেস্ক//
মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার চরএককরিয়া ইউনিয়নের কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেছেন, ব্যবসায়ীক অধিক লাভের লোভ দেখিয়ে অভিনব কৌশলে তাদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে লাপাত্তা ওই ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল শাহ্ এবং তার ছেলে অনার্স ৩য় বর্ষের ছাত্র নাহীদ শাহ্।
টিসিবির ডিলারের ব্যবসা, ডিপ টিউবওয়েল এর ব্যবসা, তেল, চাল, চিনি এর ব্যবসার প্রলোভন দেখিয়ে একাধিক ধাপে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেন তিনি। এমনকি টাকা নেওয়ার স্টাম্পে লিখিত চুক্তিপত্র রয়েছে। এছাড়াও কৃষি ব্যংকের চেক দেওয়া হয়। কেউ কেউ ওই চেক নিয়ে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করতে গিয়ে দেখেন চেকটি ভূয়া এবং একাউন্টে টাকা নেই। এ বিষয়ে তাকে চাপ দিলে উল্টো ভয় দেখিয়ে দাবিয়ে রাখা হয়েছে ভুক্তভোগিদের।
রোববার (৬জুলাই ) স্বরেজমিনে গেলে ভুক্তভোগীরা এসব অভিযোগ করেন ওই ইউনিয়নের পুর্বকান্দি পুর্বপাড় গ্রামের বাসিন্দা ইসমাইল শাহ এর ছেলে নাহিদ ইসলাম শাহ্ এর বিরুদ্ধে।
জানা গেছে, চরএককরিয়া ইউনিয়নের ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ এর সভাপতি ঈমাম মাওলানা হাবিবুর রহমান এর থেকে সাড়ে ৭ লাখ টাকা, যুব আন্দোলন এর সভাপতি পুর্বপাড় জাওগাছওয়ালা জামে মসজিদ এর ঈমাম হাফেজ মোহাম্মদ আলী আব্বাস এর কাছ থেকে ১ লাখ টাকা, আব্দুল হাফেজ বাবুল দেওয়ান এর কাছ থেকে ৯ লাখ ১৭ হাজার টাকা, খোরশেদ আলম দেওয়ান এর থেকে ২ লাখ টাকা, ফারুক এর কাছ থেকে ২ লাখ টাকা, জাহের হাওলাদার ২ লাখ টাকা, বাচ্চু রাঢ়ী ৪ লাখ টাকা, সাইফুল রাঢ়ী ২ লাখ, বেল্লাল রাঢ়ী ৫ লাখ, খালেক বিশ্বাস ১৮ লাখ, সেলিম রাঢ়ী ৪লাখ, খোরশেদ দেওয়ান ২ লাখ, কানিজ ফাতেমা ২লাখ, ছালাম গাজী ২ লাখ, আওলাদ আকন ১ লাখ, মতিন মাস্টার ৫০ হাজার ও মানিক মাস্টার ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। এভাবে ২০-২৫ জন ব্যক্তি প্রতারণার শিকার।
ভুক্তভোগী চরএককরিয়া ইউনিয়নের ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ এর সভাপতি ঈমাম মাওলানা হাবিবুর রহমান বলেন, আমাদেরকে ব্যবসায়ীক পার্টনার দেখিয়ে টাকা নিয়েছে। তার সাথে লিখিত চুক্তিপত্র রয়েছে। টাকার চেক দিয়েছিলো। টাকা উত্তোলন করতে গিয়ে দেখি একাউন্টে টাকা নেই।
৮নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুল হাফেজ বাবুল দেওয়ান বলেন, আমাকে তেলের ডিপোর ব্যবসা, টিসিবির ব্যবসা, চাল ডাল ও তেলের ব্যবসার পার্টনার করে অধিক লাভ দেওয়ার কথা বলে ৯ লাখ ১৭ হাজার টাকা নিয়েছে। এখন সে দেশ থেকে উধাও। আমরা যেভাবে টাকা ফিরত পেতে পারি তার ব্যবস্থার জন্য সাংবাদিকদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
ইউনিয়ন যুব আন্দোলন এর সভাপতি পুর্বপাড় জাওগাছওয়ালা জামে মসজিদ এর ঈমাম হাফেজ মোহাম্মদ আলী আব্বাস বলেন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ইসমাইল শাহ এর ছেলে নাহিদ দীর্ঘদিন যাবৎ আমাদের সাথে লেনদেন করেন, আমরা তাদের দোকানের কাস্টমার, টিসিবির মাল কেনার কথা বলে আমার কাছ থেকে ১ লাখ টাকা নেয়, এখন শুনি এভাবে গ্রামের অনেক মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণে টাকা নিয়ে আত্নগোপনে চলে গেছে। এখন তার পরিবার বলে পারলে টাকা আদায় করে নেন। মানুষে কানাঘুষা করে আমরা টাকা সুদের উপর দিয়েছি, এখন লজ্জা করছে বিষয়টি প্রকাশ করতে।
ভুক্তভোগী খোরশেদ আলম দেওয়ান বলেন, আমার থেকে দুই লাখ নিয়েছে। যার স্ট্যাম্প এবং চেক রয়েছে। স্ট্যাম্পে নাহীদ এর বাবা স্বাক্ষী হিসাবে স্বাক্ষর করেন।
ভুক্তভোগী ফারুক বলেন, নাহীদ আমার থেকে ধার হিসাবে এক দুই লাখ টাকা নিয়েছে। আমার কাছে প্রমাণ স্বরুপ স্ট্যাফ আর চেক রয়েছে।
ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক মোঃ মোসলেম উদ্দিন বলেন, লাভ দেওয়ার কথা বলে অনেকের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কথা শুনেছি, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক, ফেসবুকে এই ঘটনায় আমাকে জড়িয়েও স্ট্যাটাস দিয়েছে, প্রতারণার সাথে আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই, ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলেছি, আমি তাদের সাথে আছি, যারা টাকা নিয়েছেন তাদেরকে বলেছি দ্রুত টাকা ফেরত দিতে, ছেলে যে প্রতারনা করেছে পিতা তার দায় নিবে।
অভিযুক্ত নাহিদ শাহ্ এর বাবা ইসমাইল শাহ বলেন, আমি ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, আমার দুটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আছে, ছেলে দুটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান চালাতে গিয়ে এনজিও থেকে ১৭ লাখ টাকা লোন করে, সে লোনের কিস্তি পরিশোধ করতে গিয়ে এলাকার কিছু কাস্টমারের কাছ থেকে লাভের উপর টাকা নেয়। লাভের টাকা দিতে না পেরে এলাকা থেকে চলে যায়। যারা টাকা পাবে তারা আমার কাছে আসলে তাদের বলেছি ধৈর্য্য ধরতে হবে। এও বলে ছেলে ২০ লাখ টাকা দিয়ে বিল্ডিংয়ের ঘর করতে গিয়ে দেনা বেড়েছে। তার দাবি সকলে ছেলেকে ব্যবসায়ীক লাভের উপর টাকা দিয়েছে। ছেলে সরকারি পাতারহাট আর সি কলেজ এর অনার্স ৩য় বর্ষের ছাত্র। দেড় কোটি টাকার প্রসঙ্গে বলেন, এতো হবে না, ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা নিয়েছে।
স্থানীয়দের মতে এটি পুরোপুরি পরিকল্পিত প্রতারণা।
অভিযুক্ত বাপ-বেটা প্রতারণার মাধ্যমে গ্রামবাসীর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছে। এই ঘটনায় গ্রামবাসী ক্ষুব্ধ এবং অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি করছে।
এদিকে লোভে পড়ে টাকা দিয়ে মসজিদের ঈমামতির চাকুরি হারাতে বসেছে কেউ কেউ।
Leave a Reply