মেহেন্দিগঞ্জে অপরিকল্পিত স্পীড ব্রেকার যেন মড়ন ফাঁদ, প্রতি নিতই ঘটছে
-
আপডেট সময় :
মঙ্গলবার, ১ নভেম্বর, ২০২২
-
১৭৫
০ বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

মেহেন্দিগঞ্জ প্রতিনিধি//
কোন রকম নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে মেহেন্দিগঞ্জের পাতারহাট টু উলানিয়া সড়কে অপরিকল্পিতভাবে হঠাৎ একটি স্পিড ব্রেকার তৈরি করায় যাতায়াতকারী যাত্রীরা প্রায়শ ছোট-বড় সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। সড়কে নির্মিত স্পিড ব্রেকারে নেই কোনো রং বা সাংকেতিক চিহ্ন। ফলে, সড়কে দুর্ঘটনা কমাতে সড়কে স্পিড ব্রেকার দেয়া হলেও এটা এখন দুর্ঘটনার উৎস হিসেবে দাঁড়িয়েছে। যার কারণে উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হচ্ছে। আবার স্পিড ব্রেকার এতো উঁচু যে, এগুলোর উপর দিয়ে গাড়ি চালানোর সময় বেশ জোরে ঝাঁকুনির সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে প্রায়ই ড্রাইভারদের সাথে যাত্রীদের কথা কাটাকাটি ও বাক-বিতন্ডার সৃষ্টি হচ্ছে। এমনকি সড়কে পারাপারে যাতায়াতকারী রোগী ও শিশুরা ঝাঁকুনিতে প্রায় অসুস্থ হয়ে পড়ছে। সর্বশেষ গত শনিবার সকালে দক্ষিন উলানিয়া ইউনিয়নের ব্যবসায়ী মোঃ নাসির উদ্দীন তালুকদার এর ছেলে অনার্স পরীক্ষার্থী মাহামুদ সিয়াম তালুকদার (২০) মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুত্বর আহত হন। বর্তমানে তিনি বরিশাল শেবাচিমে চিকিৎসাধিন রয়েছে। এই দুর্ঘটনার কারণে অনার্স পরীক্ষা দিতে পারছে না সিয়াম তালুকদার। স্থানীয়রা আরো জানান,অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত এই স্পিড ব্রেকারের কারণে শুধু বড় গাড়ি নয়, সাইকেল, ভ্যান, মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা চালকরাও সমস্যায় পড়েছেন। প্রতিদিন ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে। সাধারণত দুর্ঘটনা কমাতে সড়কে স্পিড ব্রেকার (গতিরোধক) তৈরী করা হয়। অপরদিকে, উপকারী স্পিড ব্রেকার আবার অনেক সময় ক্ষতিও করে। অনেকের মতে অপরিকল্পিত স্পিড ব্রেকারকে চিহ্নিত করে এক্ষুণি অপসারণ করা জরুরী। কেনোনা এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় লোকজন।
স্থানীয়রা জানান, আনুমানিক ১৫ দিন আগে ২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও একটি মসজিদের মুসল্লীদের নিরাপত্তায় পাতারহাট টু উলানিয়া সড়কের পূর্বষাট্রি এলাকায় স্পিড ব্রেকার বসানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পাতারহাট টু উলানিয়া সড়কে দেয়া স্পিড ব্রেকারের বেশির ভাগই অনুমোদনহীন। অপরিকল্পিতভাবে স্থানীয় পর্যায়ে এগুলো তৈরি করা হয়েছে। হাট-বাজার, দোকান থেকে শুরু করে চা দোকানের সামনেও স্পিড ব্রেকার নির্মাণ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সড়ক বিভাগ তো দূরে থাক, স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকেও কোনো অনুমতি নেয়া হয় নাই। আর এসব স্পিড ব্রেকারকে সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করে অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা। এই বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী বোরহান উদ্দিন মোল্লা এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নুরুন্নবী বলেন, স্পিড ব্রেকার স্থাপনে আমরা কোন অনুমতি দেয়নি, তবে স্পিড ব্রেকার স্থাপনকারীরা বলেন ইউএনও এবং উপজেলা প্রকৌশলী কাছ থেকে মৌখিক অনুমতি নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও অনুমতি চেয়ে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। আবেদনকারীরা আরও বলেন, তারা এক ধরনের বাধ্য হয়ে স্পিড ব্রেকার দিয়েছেন, কেননা বেপরোয়া যানবাহন চলাচলে এখানে অনেক শিক্ষার্থী দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন।
Like this:
Like Loading...
নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
Leave a Reply